ঢাকা, মঙ্গলবার,১৮ জুন ২০১৯

খুলনা

যশোর খাদ্যগুদামের শ্রমিকের মানবেতর জীবনযাপন

যশোর অফিস

১৮ মে ২০১৮,শুক্রবার, ১৭:০৬


প্রিন্ট

যশোর খাদ্যগুদামের তিন শতাধিক শ্রমিকের মানবেতর জীবনযাপন করছে। বকেয়া মজুরি না দেওয়া আর শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি না কারায় তারা হতাশায় ভুগছে। এ সব দাবিতে যশোরের খাদ্য গুদামের শ্রমিকরা শ্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যশোরে ফুড গোডাউন হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা এ কথা জানিয়েছেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, যশোর জেলার ৯টি খাদ্য গুদামের শ্রমিকদের কয়েক লাখ টাকা মজুরি বাকি রয়েছে। তাদের তিন মাসের বেতন ভাতা আটকে রয়েছে। মুজরী না দিয়ে ঘুরাচ্ছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মজমল বাহারাইন কর্তৃপক্ষ। তারা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তাদের পাওনা টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া খাদ্য গুদাম থেকে ট্রাকে লোড-আপলোডের জন্য দেওয়া মজুরী পযাপ্ত নয়। এ কাজে শ্রমিককে দেওয়া হয় প্রতি মেট্রিক টন ১ টাকা।
তারা জানান, বর্তমান বাজারের এ মূল্য একে বারে বেমান। প্রতিনিয়ত নিত্য পণ্যে দাম বাড়ছে। সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারিদের বেতন বাড়ছে। সে খানে শ্রমিকদের বেতনভাতা বাড়ানো হচ্ছে না। যা শ্রম শোষণ বলে মনে করছেন যশোর ফুড গোডাউন হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা। ফলে শ্রমিকরা তাদের পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সদর গোডাউনের শ্রমিক সরদার নিমাজ উদ্দিনের জানিয়েছেন, যশোরে ৯টি গোডাউনে তিন শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। সর্বনিম্ন শ্রমমূল্যে গোডাউনে কাজ করেন এসব শ্রমিকরা। এরপর ঠিকমত ঠিকাদারা তাদের ন্যায্য পাওনা দেন না। মজমল বাহারাইনের কাছে কয়েক লাখ টাকা পাওনা রয়েছে শ্রমিকদের।
তিনি জানান, ২০০৯ সালে দরপত্রের মাধ্যমে ২ বছরের জন্য খুলনা বয়রার মেসার্স মজমল বাহারাইনের মালিক অহেদুল ইসলাম যশোর জেলার ৯টি গোডাউনের শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারী পান। ২০১১-১২ সালে নতুন করে খাদ্য অধিদপ্তরের দরপত্র আহবান করলে যশোর সদর সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন। এ মামলায় আদালত দরপত্র স্থগিত রাখার আদেশ দেয়ায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রমিক সরবরাহ করেন অহেদুল ইসলাম।
এদিকে আদালতের আদেশে অহেদুল ইসলাম গত ডিসেম্বর মাসে ঠিকাদারী ছেড়ে দেন। ঠিকাদর অহেদুল ইসলামকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ দিকে শ্রমিকরা তার কাছে কয়েক লাখ টাকা পাবে। সরদার নিমাজ উদ্দিন বলেন, ‘এর আগে বহুবার এসব বিষয়ে তারা তাদের দাবির কথা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তিনি জানান, শ্রমের বকেয়া মজুরি ও শ্রমমূল্য বৃদ্ধির দাবিতে মে দিবসেই আল্টিমেটাম দিয়ে ছিল যশোরে খাদ্যগুদামের সাথে যুক্ত তিন শতাধিক শ্রমিক। নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি-দাওয়া না মানায় শ্রমিকরা শ্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫