ঢাকা, রবিবার,১৬ জুন ২০১৯

বাংলার দিগন্ত

চৌহালীতে এক শিক্ষিকা দিয়ে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

১৯ মে ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে ঠিকভাবে পাঠদান হচ্ছে না। আবার শিক্ষক যারা আছেন, তারাও সময় মেনে স্কুলে যান না। কোনো কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দু’একজন শিক্ষক দিয়েও চলছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয় যমুনায় বিলীনের পরে অবকাঠামো সঙ্কটে দুই শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক কক্ষেই চলছে গাদাগাদি করে ক্লাস।
চৌহালীর বাঘুটিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চরে অবস্থিত ৩৬ নং হিজুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষিকা সালমা জাহান বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে হিজুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি একাই ছয়টি ক্লাস নিচ্ছেন। রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে। মাত্র তিন বছরের শিক্ষকতা জীবনের স্বল্প অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের কোমলমতি ১২৫ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চালিয়ে যাচ্ছেন পাঠদান। তাকেও প্রতিদিনই ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মিটুয়ানী এলাকা থেকে আসতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
একা ছয়টি ক্লাস কিভাবে নিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১২৫ জন শিশু শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য ছেলে মেয়েদের একা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর। তাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা নেই। নেই পর্যাপ্ত চেয়ার-বেঞ্চ। যে কারণে বাধ্য হয়ে এক কক্ষেই দুই-তিন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এতো করে পড়াশুনার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে আর আমাকেও পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। এ ছাড়া উপজেলায় শিক্ষা অফিসের কাজে যোগাযোগ রক্ষা ও ফাইলপত্র সই করতেও অনেক সময় ঝামেলায় পড়তে হয়।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় ১২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৪৮টি ও সহকারী শিক্ষকের ৯৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফিরোজ বলেন, এ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনেকে নিয়োগ লাভের পর বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান, ফলে সমস্যা রয়েই যায়। এ ছাড়া শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে বারবার জানিয়েও কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমাদের হাতে প্রেষণ বা সংযুক্তির (বদলি না করেও যেখানে বেশি শিক্ষক, সেখান থেকে কাউকে কম শিক্ষক থাকা স্কুলে পাঠানো) ক্ষমতা না থাকায় সমস্যা জেনেও কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫