ঢাকা, শনিবার,২৪ আগস্ট ২০১৯

অন্যদিগন্ত

প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের বিয়ে আজ

বিবিসি ও রয়টার্স

১৯ মে ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
কেনসিংটন প্যালেসের উইন্ডসর ক্যাসলের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে আজ প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে :ইন্টারনেট

কেনসিংটন প্যালেসের উইন্ডসর ক্যাসলের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে আজ প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে :ইন্টারনেট

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের বিয়ে আজ শনিবার। উইন্ডসর ক্যাসলে চলছে বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বিয়ের পরই প্রিন্সেস হেনরি অব ওয়ালস নামে পরিচিত হবেন মেগান। বর প্রিন্স উইলিয়াম রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাতি; প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস ও পরলোকগত ডায়ানার ছোট ছেলে।
আজ শনিবার কেনসিংটন প্যালেসের উইন্ডসর ক্যাসলের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে হবে বিয়ের অনুষ্ঠান। খরচ বহন করবে রাজপরিবার। সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতি উইন্ডসর শহরে যাবেন। উইন্ডসর দুর্গ রানির রাজকীয় বাসভবনগুলোর একটি। দুর্গের সেন্ট জর্জ হলে রানির আমন্ত্রণে প্রায় ৬০০ অতিথি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এর মধ্য দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। সন্ধ্যায় ‘ফ্রগমোর হাউজে’ নবদম্পতি প্রায় ২০০ ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে নাচে অংশ নেবে।
২০১৬ সালে বন্ধুদের এক পার্টিতে ব্রিটিশ সিংহাসনের ষষ্ঠ উত্তরাধিকারী হ্যারি হলিউড অভিনেত্রী মেগান মার্কলের পরিচয় হয়। মার্কলের আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। মার্কিন টিভি সিরিজ ‘ফ্রিঞ্জ’ ও ‘স্যুটসে’ অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়া মেগান বয়সে প্রিন্স হ্যারির চেয়ে তিন বছরের বড়। গত বছর সেপ্টেম্বর তারা জুটি হিসেবে প্রথম সামনে আসেন। সে বছর নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাগদান হয়।
মেগানের বাবা টমাস মার্কল বর্তমানে মেক্সিকোতে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। শুরুতে তার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি এই রাজকীয় বিয়েতে যোগ দিতে পারছেন না। গত বুধবার কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে টমাসের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর অস্ত্রোপচারের খবর প্রকাশ পায়।
মেগান এক বিবৃতিতে তার বিয়েতে বাবা টমাস উপস্থিত থাকতে পারছেন না বলে জানান। মেগানের পক্ষে কেনসিংটন প্যালেস থেকে টুইটারে বলা হয়, তিনি সব সময়ই বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে ‘ভেবেছেন’ এবং আশা করছেন তার বাবাকে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগী হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তবে মেগানের মা ডোরিয়া র্যাডল্যান্ড বিয়েতে উপস্থিত থাকবেন। এজন্য বুধবারই তিনি লন্ডন পৌঁছেছেন।
আমন্ত্রিত অতিথি
রাজকীয় বিয়ে। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় তারকাদের ছড়াছড়ি থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এখন পর্যন্ত অল্প কয়েকজন তারকা আমন্ত্রণ পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। শিডিউল নিয়ে ঝামেলার কারণে প্রখ্যাত গায়ক এলটন জন বিয়ের আগে ও পরে দুটি কনসার্ট বাতিল করেছেন। তিনি হ্যারি-মেগানের বিয়েতে গান গাইবেন।
ব্যান্ড দল ‘স্পাইস গার্লস’ও আমন্ত্রিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের এক সদস্য।
টেনিস তারকা সেরেনা উলিয়ামস ও ভারতীয় অভিনেত্রী পিয়াংকা চোপড়া কনে মেগানের কাছের বন্ধু। তাদেরও বিয়েতে দেখা যেতে পারে। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মর্কলের বিয়ের অনুষ্ঠানের কেক ক্লায় প্যাটাকের বেকারি থেকেই যাবে।
বাদ পড়লেন যারা
বিয়েতে দাওয়াত না পাওয়াদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম খুব সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতীতে হ্যারির মা ডায়ানার সাথে সাক্ষাৎ নিয়ে কৌতুক করেছিলেন ট্রাম্প। অবশ্য এ বিয়েতে কোনো রাজনৈতিক নেতা আমন্ত্রণ পাননি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বা বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিন কেউই বিয়েতে থাকছেন না। মেগানের বাবার প্রথম স্ত্রীর দুই সন্তানের নামও অতিথি তালিকায় নেই।
বিয়ের পোশাক
বর-কনে বিয়েতে কী পোশাক বা গয়না পরবেন তা এখনো গোপনই আছে। তবে মেগান পোশাক যা-ই পরুন, গয়না যে রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী হবে তাতে সন্দেহ নেই। ডায়ানার মৃত্যুর আগে নিজের গয়না দুই পুত্রবধূর জন্য রেখে গেছেন। বিভিন্ন রাজকীয় অনুষ্ঠানে প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেটকে সেসব পরতে দেখা গেছে।
প্রিন্স উইলিয়াম ছোট ভাই হ্যারির বেস্ট ম্যান হবেন, ২০১১ সালের ঠিক উল্টো। উইলিয়াম একে ‘মধুর প্রতিশোধ’ বলেছেন।
মেগানের বাবা যেহেতু আসতে পারছেন না, তাই তার ‘মেইড অব অনার’ কেউ থাকছেন না। তার ব্রাইড মেইড ও পেজবয় সবাই শিশু হবে বলে কেনসিংটন প্যালেস থেকে জানানো হয়েছে। উলিয়াম-কেট দম্পতির সন্তান প্রিন্স জর্জ ও প্রিন্সেস শার্লট বিয়েতে উপস্থিত থাকবেন। আসন গ্রহণের ক্ষেত্রে মেগানের পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা রাজদম্পতির পাশে বসার সুযোগ পাবেন। ২০১১ সালে কেটের মা ক্যারল মিডলটন রানির পাশে বসার সুযোগ পেয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে রাজকীয় এই বিয়ের আয়োজন টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তার পরও শনিবার বিয়ের আয়োজন হওয়ায় অনেক মানুষ উইন্ডসর শহরে গিয়ে স্বচক্ষে রাজকীয় বিয়ের সাক্ষী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১১ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ টেলিভিশনে প্রিন্স উইলিয়াম ও ক্যাথেরিন মিলডটনের বিয়ে দেখেছিলেন। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ দেখেছে এমন দশটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের একটি ছিল এটি। ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ইংল্যান্ড-পশ্চিম জার্মানি ম্যাচ ও ১৯৯৭ সালে ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান এর চেয়ে বেশি মানুষ দেখেছিল। যদিও বিবিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়ের অনুষ্ঠান দেখেছে। তার ছোট ভাই হ্যারির ক্ষেত্রেও সংখ্যাটা হয়তো এমনই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫