ঢাকা, মঙ্গলবার,১৫ অক্টোবর ২০১৯

নগর মহানগর

রংপুর সিটি করপোরেশনে ১৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাই

নিয়মমাফিক সিটি পরিচালনার জন্য এ উদ্যোগ : মেয়র

সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর অফিস

১৯ মে ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র মরহুম সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুর আমলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত ১৬ মে তাদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, ছাঁটাইকৃতদের মধ্যে অনেকেই আমার নিকটাত্মীয় এবং আমার দলীয় নেতাকর্মীদের স্বজন রয়েছেন। তবুও সিটি করপোরেশনকে নিয়মের আওতায় আনতে তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সুতরাং এ ছাঁটাই নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করার কারো কোনো সুযোগ নেই।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে সিটি পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার পর ৪ মার্চ কর্মরত অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ করা হয়। পরে তাদের চাকরির বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটি গত রোববার মেয়রের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের মতামত ও সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি, তাদের নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবৈধ ও বিধিসম্মত ছিল না। তাই অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের কাছে থাকা সব ফাইলপত্র বুঝিয়ে দিয়ে যেতেও বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নয়া দিগন্তকে জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের আলোকে নিয়োগ বিধিসম্মতভাবে না হওয়ায় ১৭৭ জন কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ করে তাদের অব্যাহতিপত্র দেয়া হবে। তিনি আরো জানান, এখানে কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হয়নি। ছাঁটাই হওয়া অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আমার নিকটাত্মীয় এবং আমার দলীয় নেতাকর্মীদের স্বজন। তবুও সিটি করপোরেশনটিকে নিয়মের মাধ্যমে বিধিসম্মতভাবে পরিচালনার জন্যই তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য গত ৩ মে ১৫০ জন কর্মচারী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। অনুমতি পেলে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হবে। তারা যদি সেই সময় বিধি অনুযায়ী আবেদন করে কোয়ালিফাই হয়, তাহলে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, এখন দিনমজুরি ভিত্তিতে কিছু কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করা হচ্ছে।
তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম লাইসেন্স কর্মকর্তা রাফিউর রহমান রাফি জানান, আমরা নিয়ম অনুযায়ী চাকরি নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। শুধু সাবেক মেয়রের আমলে আমাদের চাকরি হওয়ার কারণেই ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে, কোনো ধরনের নিয়োগ কমিটি গঠন না করে ২০১২ সালে প্রায় ২৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেন প্রথম মেয়র আওয়ামী লীগ সমর্থিত মরহুম সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। এদের মধ্যে বিধিসম্মত না হওয়ায় ১৭৭ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সূত্রমতে এসব নিয়োগ দেয়ার সময় কোনো প্রার্থীর লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষাও নেয়া হয়নি। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫