ঢাকা, বুধবার,২৬ জুন ২০১৯

প্রথম পাতা

ইবাদতে সীমারেখা গুরুত্বপূর্ণ

লিয়াকত আলী

১৯ মে ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিবস। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লøাম রমজানের সিয়াম পালনকে ইসলামের পাঁচ বুনিয়াদের অন্যতম বলে সাব্যস্ত করেছেন। বুখারি ও মুসলিম শরীফে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর বরাতে বর্ণিত, রাসূলে পাক সাল্লøাল্লøাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপরÑ এ মর্মে সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লøাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ সা: আল্লাহর রাসূল, সালাত আদায় করা, জাকাত দেয়া, হজ করা ও রমজান মাসে সিয়াম পালন করা।
শরীয়তের ইবাদতগুলোর ক্ষেত্রে সীমারেখা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলসেমিবশত শৈথিল্য যেমন নিন্দনীয়, তেমনি আগ্রহের আতিশয্যে মাত্রা অতিক্রম করাও নিষিদ্ধ। এ জন্য ইফতারের সময় হয়ে গেলে বিলম্ব না করে আহার পানীয়ের প্রতি মনোযোগী হওয়াই আল্লাহর রাসূলের আদর্শ। এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস উল্লেখযোগ্য। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে প্রশ্ন করেছিলেন এক তাবেয়ী। বললেন, আল্লাহর নবীর দুই সাহাবির মধ্যে একজন নামাজও আদায় করেন সময় হলেই, ইফতারও করেন সময় হলেই। অন্যজন নামাজও আদায় করেন একটু বিলম্বে, ইফতারও করেন একটু বিলম্বে। হজরত আয়েশা রা: প্রশ্ন করেন সময় হলেই কে নামাজ আদায় ও ইফতার করেন? তাবেয়ী জানান তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। উম্মুল মুমিনীন বলেন, আল্লাহর রাসূল এমনটিই করতেন।
পাঁচ বিষয়কে ইসলামের ভিত্তি হিসেবে কেন সাব্যস্ত করা হলো, তার ব্যাখ্যায় রয়েছে অনেক অভিমত। প্রথমত, মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি দাসত্বের পাশাপাশি অনুরাগ ও প্রেমের প্রমাণ দিতে এ কয়টি বিষয়ের ভূমিকা অনন্য। কালেমায়ে শাহাদাত পাঠের মাধ্যমে আদম সন্তানেরা মহান স্রষ্টার প্রতি নিজের দাসত্ব ও আনুগত্যের অঙ্গীকার ঘোষণা করে। আল্লাহ তায়ালার বিধান ও মহানবী সাল্লøাল্লøাহু আলাইহি ওয়া সাল্লøামের আদর্শ মেনে নেয়ার ও অনুসরণ করার শপথ নেয়াই কালেমায়ে তৈয়্যেবা ও কালেমায়ে শাহাদাতের মূল তাৎপর্য। সালাতে প্রকাশ্যভাবে, জাকাতে আর্থিকভাবে ও সিয়ামে সংযম পালনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি দাসত্বের প্রমাণ দেয়া হয়। দ্বিতীয়ত, স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের প্রধান বাধা অহঙ্কার দমন হয় সিয়াম পালনের মাধ্যমে। তৃতীয়ত, আল্লাহর নির্দেশ পালনে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় সিয়ামের মধ্য দিয়ে। চতুর্থত, একজন মুসলমানের ওপর যেমন কিছু করণীয় তেমনি কিছু বর্জনীয় কর্তব্য আরোপিত হয়। বর্জনীয় কর্তব্যগুলোর প্রথমেই আসে নির্দিষ্ট সময়সীমায় পানাহার বর্জনের বিষয়, যা সিয়াম নামে অভিহিত। পঞ্চমত, মুসলমানদের পারস্পরিক সমবেদনা ও সহানুভূতির চেতনা জাগ্রত হয় সিয়ামের কারণে। আদম-হাওয়ার সন্তান হিসেবে বিশ্বের সমগ্র মানবগোষ্ঠী যে একই পরিবারের সদস্য, তার দাবি অন্যদের কষ্ট ও দুর্দশা অনুভব করা। সিয়ামের কারণে সেই অনুভূতি আসে। তাই সিয়াম আদায়ের ফলে মুমিন বান্দাদের মধ্যে যেমন তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি হয়, তেমনি মানবসমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য সৃষ্টিতে এ ইবাদতের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ জন্য আগের আম্বিয়ায়ে কেরামের যুগেও সিয়ামের বিধান ছিল। এমনকি রমজানের সিয়াম ফরজ হওয়ার আগেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম কোনো কোনো বিশেষ দিন ও উপলক্ষে সিয়াম আদায় করতেন বলে জানা যায়। বিশেষ করে মহররম মাসের দশম তারিখ বা আশুরার দিনে রোজা রাখার নিয়ম চালু ছিল প্রথম থেকেই এবং এ রোজার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হতো বলে জানা যায়।
রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা নফল হিসেবে থেকে যায়। তা ছাড়া প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ যা আইয়ামে বিজ বা উজ্জ্বল দিনগুলো নামে পরিচিত, সে দিনগুলোতে আল্লাহর রাসূল সা: ও সাহাবিরা রোজা রাখতেন। এখনো এসব দিনের সিয়াম পালন করার ফজিলত অনেক।
অতএব, সিয়ামের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। তাই সিয়াম আদায়ে আন্তরিকতা প্রয়োজন। তবেই মাহে রমজানের মাহাত্ম্য অর্জন সম্ভব হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫