ঢাকা, শুক্রবার,২৩ আগস্ট ২০১৯

শেষের পাতা

ন্যাশনাল ব্যাংক

আমানত ৪৩৮ কোটি টাকা কমলেও ঋণ বেড়েছে ৩০৭ কোটি টাকা

আশরাফুল ইসলাম

১৯ মে ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ব্যাংকিং খাতে তীব্র নগদ টাকার সঙ্কট চলছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাংকগুলোর নিয়মবহির্ভূত ঋণ দেয়াকে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কোনো ব্যাংকের আমানত কমে গেলেও তারা ঋণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। এমন একটি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটির ৪৩৮ কোটি টাকার আমানত কমেছে এক মাসে। কিন্তু ওই মাসে ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করেছে ৩০৭ কোটি টাকা। আমানত কমার সাথে সাথে ঋণ বিতরণে সংযত হওয়ার কথা ছিল। এমনিভাবে ব্যাংকিং খাতে চলছে অনেকটা নৈরাজ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানিয়েছে, সাধারণত যে হারে আমানত সংগ্রহ করা হয় তার চেয়ে কম হারে ঋণ বিতরণ করা হয়। কারণ ১০০ টাকার আমানত নিলে আমানতকারীদের সুরক্ষা করতে বাধ্যতামূলকভাবে সাড়ে ১৮ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। সাড়ে ৮১ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। এ কারণে যে পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করা হয় তার কম হারেই বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাংক যে পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করছে তার চেয়ে বেশি হারে ঋণ বিতরণ করছে। আবার বিতরণকৃত ঋণ আদায় হচ্ছে না। এক দিকে আমানত কমছে অপর দিকে বিতরণকৃত ঋণ আদায় হচ্ছে না। এভাবেই ব্যাংকিং খাতে নগদ টাকার সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করছে।
আমানতের চেয়ে ঋণ বেশি এমন ব্যাংকগুলোকে সম্প্রতি ব্যাখ্যা তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকও একটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি ব্যাংকটির আমানত ছিল ২৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা, যেখানে ২২ ফেব্রুয়ারিতে এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির আমানত কমে গেছে ৪৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। কিন্তু বিপরীতে ব্যাংকটির ঋণ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। দেখা যাচ্ছে, গত ২৫ জানুয়ারিতে ব্যাংকটির ঋণ ছিল ২৩ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা, ২২ ফেব্রুয়ারিতে এসে তা বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা। ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির ঋণ আমানতের হারও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ আমানতের সর্বোচ্চ হার ৮৫ শতাংশ হওয়ার কথা, সেখানে ব্যাংকটির ২৫ জানুয়ারিতে যেখানে ছিল ৯০.২৫ শতাংশ, ২২ ফেব্রুয়ারিতে এসে ব্যাংকটির এ হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ।
এ দিকে আমানত কমলেও ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির নগদ টাকার সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সঙ্কট মেটাতে ব্যাংকটি বাধ্য হয়ে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি ব্যাংকটি আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ব্যাংকটির ঋণের স্থিতি ছিল এক হাজার ১০৭ কোটি টাকা, সেখানে ২২ ফেব্রুয়ারিতে এসে তা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৩৯৭ কোটি টাকা। এটিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সুষ্ঠু দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিপন্থী বলছে।
এ দিকে আগ্রাসী ব্যাংকের কারণ জানতে চেয়ে ব্যাংকটির কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আগে সরবরাহকৃত তথ্যের চেয়ে কম দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো ব্যাংকের ব্যাখ্যায় দেখানো হয়েছে, এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ কমেছে ২৫৩ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ২৬৫ কোটি টাকা। যার পুরোটাই ৩১ জানুয়ারির আগে অনুমোদিত বলে বলা হয়। এ কারণে ব্যাংকটিকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫