ঢাকা, রবিবার,১৬ জুন ২০১৯

সিলেবাস

২১তম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল ২০১৮

১৯ মে ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তারা কেউ এসেছেন যুক্তরাজ্য থেকে, কেউ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আবার কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা বা ভুটান থেকে, কেউ মরিশাস থেকে। মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন আর বৈশ্বিক শান্তির খোঁজে ২১তম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল ২০১৮ তে যোগ দিতে তারা এসেছিলেন বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। তারা জানেন, টেকসই উন্নয়ন আর বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। সেই মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল ফর টোটাল কোয়ালিটি অ্যান্ড এক্সেলেন্স ইন এডুকেশন (ডঈঞছঊঊ)। বাংলাদেশে সংস্থাটির প্রতিনিধি বাংলাদেশ সোসাইটি ফর টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (ইঝঞছগ)। গত ৩-৬ মে বিএসটিকিউএম ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস আশুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল’ নামের এই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সম্মেলন। প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলনর উদ্বোধন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো: সবুর খান। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজের বাতিঘর হচ্ছে শিক্ষা। সুতরাং বাতিঘর যদি মানসম্মত না হয় তাহলে সমাজ সঠিকভাবে আলোকিত হয় না। আর সমাজ আলোকিত না হলে দেশ রাষ্ট্র কিংবা পৃথিবী কোনো কিছুই আলোকিত হবে না। তাই আমাদের সর্বাগ্রে মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. মো: সবুর খান বলেন, নিজের উন্নয়ন ঘটাও। বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক তৈরি করো। আর নিজের ওপর আস্থা রেখে পড়ালেখা করো। নিজের উন্নয়ন ঘটাতে পারলেই বিশ্বের উন্নয়ন ঘটবে। তোমাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ হবে আগামীর পৃথিবী। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কনভেনশনে প্রায় ৬০টি স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের কেস স্টাডি ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানবিষয়ক ১৩টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়াও ৪৩টি দল পোস্টার ও সেøাগান, ৩৯টি দল কোলাজ, ২৯টি দল স্কিট, ৩৩টি দল বিতর্ক, ২৮টি দল কোয়ালিটি কুইজ এবং ১৬টি দল কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। সম্মেলনে বিশ্বের ৯টি দেশের প্রায় ৫০০ বিদেশী শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ‘এত সবুজ গাছপালা ও শান্ত প্রকৃতি দেখে আমার মন ভরে গেছে’ বলেন মরিশাসের শিক্ষার্থী নীল মেধানশ। নীলের সাথে কথা জুড়ে দেয় তারই বন্ধু দীনেশ হারি, ‘এ দেশের মানুষও অসাধারণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। এই সম্মেলনে এসে আমি চমৎকার কিছু বাংলাদেশী বন্ধু পেয়েছি। রনি, নাদিয়া, সুমাইয়া আর আফরিনের সাথে আমার সারা জীবন বন্ধুত্ব থেকে যাবে।’ ভারতের অদিত কুমার বলেন, ‘নেপাল, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যÑ এসব দেশের শিক্ষার্থীরা কিভাবে পড়ালেখা করে, তাদের শিক্ষক ক্লাসে কিভাবে পড়ান, পড়ালেখার পাশাপাশি তারা আর কী কী কাজ করে ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। পাশাপাশি ভারতের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের জানাতে পেরেছি।’ ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল ফর টোটাল কোয়ালিটি অ্যান্ড এক্সেলেন্স ইন এডুকেশনের চেয়ারম্যান ড. জগদীশ গান্ধী বলেন, সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই সমাজে শান্তি আনতে পারে। একক প্রচেষ্টায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা অনেকটা দুরূহ ব্যাপার। এ জন্য সব ধর্মেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছি। শেষ দিন কথা হয় সম্মেলনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থপক ডব্লিউসিটিকিউইই-এর মহাপরিচালক ডেভিড কলিংউড হুচিন-এর সাথে। চার দিনের এই মিলনমেলা শেষ হয় ৬ মে। আগামী ২২ তম আসরের স্বাগতিক দেশ হবে ভারত।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫