ঢাকা, রবিবার,২৫ আগস্ট ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

মামলাবাজি মানসিকতা

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

২৩ অক্টোবর ২০১৫,শুক্রবার, ১৮:৪১


 ড. আবদুল লতিফ মাসুম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

প্রিন্ট

বিচারপতি হাবিবুর রহমান একসময় বলেছিলেন, ‘দেশটা বাজিকরদের হাতে চলে গেছে’। বাজিকর বলতে তিনি সন্ত্রাসবাজ, চাঁদাবাজ, জুলুমবাজ, দলবাজ, টেন্ডারবাজ, ধড়িবাজ ইত্যাদি অবস্থার কথা বুঝিয়েছিলেন। এসব বাজিকরের চেয়েও এখন যে বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষকে নিত্য ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে, সেটাও আরেক ধরনের বাজিকর ব্যবস্থা। আর এটা হচ্ছে মামলাবাজ মানসিকতা। মামলা মানেই হচ্ছে বিরোধ। আর দ্বন্দ্ব-বিরোধ তো সভ্যতার মতোই পুরনো। মামলা-মোকদ্দমার ইতিহাসে আমরা মোটেই পিছিয়ে নেই। মামলা-মোকদ্দমার বিপত্তি যে আমাদের সমাজকে তাড়িত করেছে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায় তার স্বীকৃতি রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘মামলা-মোকদ্দমা শব্দটা ব্রিটিশ আদালতের দীর্ঘ প্রলম্বিত বিপত্তির দ্বিপদী প্রতীক’। নেতিবাচক হলেও এটি একটি অপ্রিয় সত্য যে, মামলাবাজ মানসিকতা আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। মামলাবাজ হিসেবে বাঙালিদের বদনাম আছে। আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতিতে মামলা একটি উপজীব্য বিষয়। গ্রামীণ কোন্দল, দলাদলি এবং হানাহানিতে সত্য-মিথ্যা মামলার ছড়াছড়ি লক্ষ করা যায়। মামলাবাজ হিসেবে আঞ্চলিক ‘খ্যাতি’ও আছে। আমাদের বরিশালের লোকদের মামলার বাতিক আছে। রসিকতা করে এরকম বলা হয়, ‘কাজ নাই কাম নাই গিয়েছিলাম বরিশাল। মামার নামে একটি মামলা দিয়ে আসলাম’। শুনলে অবাক হবেন, ওই এলাকায় এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, নিজ সন্তানকে হত্যা করে শত্রুর নামে মামলা দিয়েছে। তবে মামলার বিষয়টি সবসময় একরকম অভিশাপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। দেখা গেছে বংশ পরম্পরায় মামলা করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এজন্যই একজন অপরজনকে রাগ করে বলে, ‘তোর ঘরে মামলা ঢুকুক’। আসলে মামলাবাজি একটি মানসিক অবস্থান। কারণে অকারণে কথায় কথায় কিছু লোক মামলা করে বেড়ায়। আমাদের গ্রামে এক লোক ছিল। সে সবসময় মামলা করে বেড়াত। তার মুরগির ঠ্যাং কেউ ভেঙে দিলে অথবা তার গাছের খেজুর কেটে নিলে সে মামলা ঠুকে দিত। তার জীবন কেটেছে মামলায় মামলায় কোর্ট-কাচারিতে, শহর-বন্দরে দীনহীন বেশে। তার এই মামলার নেশা, কখনো কখনো গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য সেবাও বয়ে আনত। শুধু ওই গাঁও-গ্রামের লোকটির বদনাম দেবো কেন? আমাদের উচ্চ শিক্ষিত মহলেও এ ধরনের কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা কথায় কথায় ‘স্যু’ করেন। তাহলে বোঝা যায় মামলাবাজি একটি মানসিকতা। যে দেশের লোকদের এই অবস্থা, তার সরকারের লোকদের এর চেয়ে ভালো অবস্থা হবে কি করে? 

বাংলাদেশের সূচনা থেকে এ পর্যন্ত ক্ষমতায় আসা সরকারগুলো বিরোধীদের মামলায় জড়িয়েছে। এসব মামলার উদ্দেশ্য ছিল বিবিধÑ ন্যায়বিচার প্রার্থনা, বিরোধ মীমাংসা, স্বার্থ সুবিধা আদায়, হিংসা-প্রতিহিংসা, দ্বন্দ্ববিদ্বেষ চরিতার্থকরণ। মানব চরিত্র সম্পর্কে মনীষী হবস যে, ‘স্বার্থপরতা, সংকীর্ণতা, নীচুতা, নিষ্ঠুরতা এবং নোংরামির’ বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে মামলা-মোকদ্দমার বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করা যায়। তা অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে তখনই, যখন তা মানবিক সীমা ছাড়িয়ে যায়। আর ‘আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না’।
সারা দেশের মামলার পরিসংখ্যান নিলে স্পষ্টতই বোঝা যাবে, আমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের মধ্যেই রয়েছি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অতীত ও বর্তমান মিলে এখন বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ লাখ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর ২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯ লাখ। ২০১১ সালের শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২১ লাখ ৩২ হাজার ৪৬টিতে। ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলা ছিল প্রায় ২৪ লাখের কাছাকাছি। বর্তমানে (২০১৫) দেশের আদালতগুলোতে ৩০ লাখ সাত হাজার ৮৬০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
পরিসংখ্যানদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে মামলার সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে। একটি হিসেবে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে মামলা বেড়েছে নয় লাখ। ব্যক্তিগত এবং সরকার দায়েরকৃত মামলা এ পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সরকার দায়েরকৃত মামলা যে লাখ লাখ তা গণামধ্যমের প্রতিবেদন লক্ষ করলেই বোঝা যাবে। এমন কোনো দিন নেই যে, শত শত লোকের গ্রেফতারের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে না। দেশের ৬৭টি কারাগারের কোথাও তিলধারণের ঠাঁই নেই। জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রদত্ত তথ্য মোতাবেক সারা দেশে বন্দীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৬১৪ জন (জানুয়ারি, ২০১৫)। তাদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক কারণে বন্দী হলেও সরকার তা স্বীকার করতে নারাজ। সরকারি নথিপত্রে খালেদা জিয়া থেকে সব শীর্ষ নেতা ক্রিমিনাল কেসের আসামি। মামলার যে পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে, তা হয়তো ইতোমধ্যে আরো বেড়েছে।
সরকার মামলাকে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার বড় ধরনের অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন। গণতন্ত্রের জয়জয়কার রব তোলা হলেও ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ প্রতিপক্ষ কাউকেই মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করতে দিচ্ছে না। মিটিং-মিছিল তো দূরের কথা, নিরুপদ্রব মানববন্ধন করতেও তারা পারছে না। পুলিশ ঘরের মধ্যেও এখন কোনো সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। সেবা করতে গিয়ে নিরপরাধ কিশোর জেল খাটছে। কালিহাতীর মানুষ নারীর সম্ভ্রম হারানোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েও তারাই হয়েছে আসামি। বিদেশী হত্যার আসামি ধরতে গিয়ে জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে গ্রাম। সামান্য পোস্টার লাগাতে গিয়ে মামলা খাচ্ছে পেশাদার অথবা অপেশাদার রাজনৈতিক কর্মী। প্রধান বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা সবাই হাজার হাজার মামলার আসামি। সাধারণ কর্মীদেরও রেহাই নেই। গ্রাম-গঞ্জে পাড়ায়-মহল্লায় মিথ্যা অজুহাতে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দলের লোকেরা অথবা খোদ সরকার মামলা দায়ের করছে। মামলার ভীতিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মানুষ। বাংলাদেশটাই যেন বড় কারাগারে পরিণত হয়েছে।
ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে অনেক মামলা। এ মুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে, তার পরিবারের অন্য সদস্যদের আসামি করে মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ মামলাই সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অনুরূপ মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হলেও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলাই প্রত্যাহার করা হয়নি। বরং নতুন করে আরো সাতটি মামলা দেয়া হয়েছে। আদালতে নথিপত্র পর্যালোচনা করে সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি, তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৭টি এবং তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা কার্যকর রয়েছে। জিয়া পরিবারের আইনজীবী এবং শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, সরকার জিয়া পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এসব মামলা দায়ের করেছে। সম্প্রতি যে দু’জন বিদেশী হত্যার পর জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্কট দেখা দিয়েছে, তার দায়ও বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের ওপর বর্তানোর ষড়যন্ত্র লক্ষ করা যাচ্ছে বলে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন অভিযোগ করেছেন। সরকারের শীর্ষ নেতারা সরাসরি ওই ঘটনার জন্য বেগম জিয়াকে দায়ী করেছেন। এটিকে তারা ইতোমধ্যে ‘লন্ডন ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিএনপির সব শীর্ষ নেতা এবং জাতীয় নির্বাহী পরিষদের প্রায় সব সদস্যের বিরুদ্ধে এক বা একাধিক মামলা রয়েছে। একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে ৭৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত ২৫ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিএনপির শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে ১৪, খন্দকার মোশররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অন্তত ২০, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৪১, এম কে আনোয়ারের বিরুদ্ধে ৯, আ স ম হান্নান শাহর বিরুদ্ধে ১১, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে পাঁচ, সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে সাত, দফতর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ৪০টি মামলা রয়েছে। তালিকাটি এতই দীর্ঘ যে, তার উল্লেখ এ স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয়। এ হিসাবের দ্বারা পাঠক সাধারণ সহজেই বুঝতে পারেন বিএনপির এমন কোনো দায়িত্বশীল নেতা নেই, যার বিরুদ্ধে গণ্ডা গণ্ডা মামলা নেই। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার মামলা করা আছে। এসব মামলার আসামি পাঁচ লাখেরও বেশি।
প্রকাশিত তথ্য মোতাবেক দ্বিতীয় বৃহৎ বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। এগুলোর মোট আসামি প্রায় পাঁচ লাখ। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের শীর্ষ নেতারা কারাগারে। অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ লক্ষাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। অন্যান্য বিরোধী দল বিশেষত বিশদলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একই কায়দায় অসংখ্য মামলা করা হয়েছে।
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক মামলার কারণে কোর্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের শীর্ষ আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের মামলাজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা। এ দিকে মামলা নিয়ে সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিযোগটি উত্থিত হয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, সরকারের মামলাবাজ মানসিকতা পুলিশের জন্য ঘুষবাণিজ্যের এক সুবর্ণ সুযোগ (!) সৃষ্টি করেছে। এসব বিরোধী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, নাশকতা, সহিংসতা ইত্যাদি জামিন অযোগ্য মামলা দায়ের করছে পুলিশ। পদাধিকারী নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ করে মামলা দেয়া হচ্ছে। অপর দিকে, কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা কেন্দ্র করে নাম না জানা অসংখ্য লোকের উল্লেখ করছে। এ সুযোগ ব্যবহার করে তারা এলাকার ধনী এমনকি প্রবাসী পরিবারের ওপরও চড়াও হচ্ছে। সর্বশেষ অভিযোগে প্রকাশ, আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন সামনে রেখে সরকার আরেক দফা ব্যাপক মামলাবাজির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা পুলিশ প্রধান তথা পুলিশের সর্ব মহলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছেÑ বিএনপি বা বিরোধী দলের সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার। এ অভিযোগ বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের। এর সত্যতার যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হবে আগামী স্থানীয় নির্বাচন অর্থহীন করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, যেকোনো পর্যায়েই হোক মামলার বিষয়টি আসলেই নেতিবাচক। রাজনীতির বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করাই সঙ্গত। কিন্তু তা না করে সরকার বিগত সাত বছরে মামলার যে ফাঁদ সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে, তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য নিরাপদ নয়। কথিত ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ ক্যাপিটাল পলিটিক্সে পরিণত হোক এটা কারো কাম্য হতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলো সবসময়ই উচ্চকিতভাবে আইনের শাসনের কথা বলেন। অথচ যখনই তারা ক্ষমতাসীন হন তখন আইনের ব্যতিক্রমটি করে মামলা-হামলা, গুম, খুন করে ক্ষমতাকে অপ্রতিরোধ্য করতে চান। এ মনোভাব সমাজকে অসম্প্রীতির দিকে ঠেলে দেবে, রাজনীতিকে করবে বিষায়িত, আর রাষ্ট্রকে করবে ভঙ্গুর। সুতরাং ক্ষমতা নয়, নির্বাচন নয়, দেশপ্রেম হোক আমাদের সব কর্ম উদ্দীপনার উৎস।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫