ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ আগস্ট ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

পুতুলনাচের নাট্যশালা

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

৩০ অক্টোবর ২০১৫,শুক্রবার, ১৯:০০


 ড. আবদুল লতিফ মাসুম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

প্রিন্ট

গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা অপরিহার্য। বিশেষত সংসদীয় রাজনীতিতে যেহেতু দল ব্যবস্থাই এই পদ্ধতির নিয়ামক। সুতরাং সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়ই এই ব্যবস্থায় একে অপরের পরিপূরক। বিরোধী দল সরকারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। সে জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তাদের বলা হয় ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’। জনগণের পক্ষ থেকে ক্ষমতাসীন সরকারের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা এবং যথার্থ সমালোচনা তাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদ হয়ে ওঠে সংসদীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনগণের স্বার্থজ্ঞাপন, উত্থাপন এবং সমন্বিতকরণে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের বিকল্প নেই। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে নির্বাহী বিভাগ কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে। 

একটি সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংসদের ভেতরে এবং বাইরে যদি রাজনৈতিক কার্যক্রমের ব্যত্যয় ঘটে তাহলে বুঝতে হবে যে, মূল গণতন্ত্রই বিপদাপন্ন। সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দল জনগণের সেই প্রথাগত উচ্চারণ, বিতর্ক এবং সাধারণ ইচ্ছা যা বিভিন্নভাবে জাতীয় সংসদের আলোচনায় প্রতিফলিত হয়। সংসদে বিরোধী দল হয়ে দাঁড়ায় জনগণের মুখপাত্র। রাজনীতিক সমাজতাত্ত্বিক রবার্ট স্টানফিল্ড বলেন, বিরোধী দল যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের অভাব, অভিযোগ, আশা-আকাক্সক্ষা এবং মনোভাব মতামত জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে না পারে তাহলে রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ ধরনের ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং স্বাধীনতার প্রতি হুমকিস্বরূপ।
আমাদের জাতীয় সংসদ সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে ২৫ অক্টোবর, ২০১৫ এ প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির এক গবেষণা কার্যক্রমে। টিআইবির নিয়মিত গবেষণার অংশ হিসেবে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ শিরোনামে টিআইবি অষ্টম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে এ ধরনের গবেষণা কর্ম প্রকাশ করে আসছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের মুখবন্ধে বলা হয় ‘সংসদীয় গণতন্ত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য জাতীয় সততা ব্যবস্থার মৌলিক স্তম্ভগুলোর অন্যতম জাতীয় সংসদ। জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন, জনকল্যাণমুখী আইন প্রণয়ন, আইনের সংস্কার ও জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে জাতীয় সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সংসদীয় কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা বিবেচনায় রেখে টিআইবি অষ্টম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে সংসদ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। গবেষণা কর্মটি প্রকাশ করতে গিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বর্তমান সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত’ বলে অভিহিত করেন এবং তিনি সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করেন।
টিআইবি প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে যে প্রধান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত হয় তার মধ্যে রয়েছে প্রধান বিরোধী দলের বিতর্কিত অবস্থান, তাদের সুনির্দিষ্ট জোরালো ভূমিকার অভাব, সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোট নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা, অশালীন ভাষার প্রাধান্য, অসংসদীয় আচরণ এবং স্পিকারের যথার্থ ভূমিকার অনুপস্থিতি। টিআইবি আরো চিহ্নিত করে যে, সংসদীয় বিধান মোতাবেক আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা এ সংসদে আলোচনা হয়নি। অথচ এ সময়েই জুন ২০১৪ থেকে জুলাই পর্যন্ত তিনটি দেশের সাথে ২৫টি চুক্তি-সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। সংসদ প্রত্যাশিতপর্যায়ে কার্যকরি না হওয়ার কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করেন। এগুলো হচ্ছেÑ আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনা পর্বে সদস্যদের কম অংশগ্রহণ, সংসদীয় কার্যক্রমে নারী সদস্যদের তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ এবং কমিটিতে সদস্যদের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা, বিধি অনুযায়ী কমিটির সভা না হওয়া, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের সময়সীমা ও বাধ্যবাধকতা না থাকা এবং সংসদীয় কার্যক্রমের তথ্যের উন্মুক্ততা ও অভিগম্যতার ঘাটতি ইত্যাদি।
টিআইবি একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের বাংলাদেশ অংশ। বার্লিনভিত্তিক সংগঠনটি বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিবিরোধী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নাগরিকদের সচেতন ও সোচ্চার করার জন্য বহুমুখী গবেষণা এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রচারণা ও কার্যক্রম তারা বাস্তবায়ন করছে। টিআইবির মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠাকীকরণে অপরিহার্য মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সুতরাং সঙ্গতভাবেই বাংলাদেশের নাগরিক সাধারণ বিশ্বাস করে যে, টিআইবির গবেষণা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বরং বাংলাদেশের ভঙ্গুর গণতন্ত্র থেকে উত্তরণই এর প্রয়াস; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, ক্ষমতাসীন সরকার এবং এর নেতারা টিআইবির প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর তাদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ টিআইবিকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন বলে অভিহিত করেন। জাতীয় সংসদ নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন পক্ষপাতিত্বপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে তিনি মন্তব্য করেন। পার্লামেন্টের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ প্রকাশিত প্রতিবেদনকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে বর্ণনা করেন। তিনি আরো বলেন যে, টিআইবি বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করার জন্য পেইড এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলার অধিকার টিআইবির নেই। এরা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে মন্তব্য করে সীমালঙ্ঘন করেছে। শাসক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফও অনুরূপ মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বা এর নেতাদের উচিত ছিল তথ্য-উপাত্ত, যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে টিআইবির সত্যতাকে চ্যালেঞ্জ করা। যে ভাষায় নেতারা কথা বলেছেন তা অনভিপ্রেত এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘনের সামিল। জনগণের অপ্রকাশিত ভাষা যারা বোঝেন তারা মন্তব্য করেন যে, টিআইবির ভাষ্যের মধ্য দিয়ে অপ্রিয় সত্য উন্মোচিত হয়েছে। নীরবে নিভৃতে মানুষ যা বলতে পারে না টিআইবির ভাষায় তা প্রকাশিত হয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে, বিগত বিএনপি সরকারের সময় যখন দুর্নীতি এবং অন্যান্য বিষয় টিআইবির রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছিল, তখনো তৎকালীন সরকার তাদের প্রতিবেদনগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছে। এতেই বোঝা যায়, টিআইবি বস্তুনিষ্ঠভাবে গবেষণাগুলো পরিচালনা করছে। রাজনৈতিক অনুরাগ বা বিরাগ দ্বারা তারা প্রভাবিত নয়।
দশম জাতীয় সংসদের পটভূমি, গঠন এবং কার্যাবলি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে সত্যি সত্যিই ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’কেই মনে করিয়ে দেয়। সচেতন পাঠক সাধারণের নিশ্চয়ই মনে আছে এই সংসদ কী পটভূমিতে গঠিত হয়েছিল। ছলে বলে কলে কৌশলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিভাবে ক্ষমতাসীনেরা জয় লাভ করে সে ইতিহাস সবারই জানা কথা। সে অভিজ্ঞতায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ব্লাকমেইলিং। একটি সঙ্কটময় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মাঝে বলতে গেলে শুধু পেপার ওয়ার্কিংয়ের ভিত্তিতে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অথবা নামমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে শুধু গায়ের জোরে এই সংসদ গঠিত হয়। নির্বাচনে প্রদর্শিত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করে। সংসদে অস্তিত্বহীন বিরোধী দলের ঘাটতি মেটানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের আসনে বসানো হয়। পৃথিবীর সব দেশে প্রচলিত সংসদীয় রীতিনীতি অগ্রাহ্য করে একই সাথে হাস্যকরভাবে বিরোধী দলকে মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়। আবার তারা সংসদে বিরোধী দলের অভিনয় করে। অসংখ্যবার অনেক সংসদবিশেষজ্ঞ বলেছেন, বর্তমান সংসদে কার্যত কোনো বিরোধী দল নেই। বিরোধী দলকে ‘গুড বয় সার্টিফিকেট’ দিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘বিরোধী দল সঠিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখন যে পরিবেশ আছে তা বিএনপি থাকার সময় ছিল না।’ এ ধরনের হাস্যকর এবং লজ্জাকর অবস্থায় বাংলাদেশে সংসদীয় রাজনীতি বস্তুত অসার এবং অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
টিআইবির প্রকাশিত দীর্ঘ প্রতিবেদনটি মৌলিক তথ্য-উপাত্তে পরিপূর্ণ। কিছু মজাদার ও হাস্যকর বিষয়ের অবতারণা এ রকম : রওশন এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দল সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল ২০১৪ পাসের সময়ে জনমত যাচাইয়ের নোটিশ দেয়। পরে যখন বিষয়টি ভোটে দেয়া হয় তখন তারা নিজেদের নোটিশের বিপক্ষে ভোট দেয়। বাজেট অধিবেশন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় তথাকথিত বিরোধী দল সরকারি দলের প্রশাস্তি গেয়ে সময় কাটায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দুইটি বাজেট অধিবেশনে অপ্রাসঙ্গিকভাবে নিজ দলের এবং সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয় ১৬৩৮ বার এবং সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোটের বিভিন্ন মন্তব্য ও কার্যক্রম এবং বর্তমান সরকারের কিছু কিছু কার্যক্রমের সমালোচনা করা হয় ১৪১৬ বার। একপর্যায়ে তারা বিএনপিকে নিষিদ্ধ করারও আবদার করেন। একজন বিরোধীদলীয় এমপি আলোচনাকালে মন্তব্য করেন, ‘জাতীয় পার্টি সরকারের অনুগত বিরোধী দল এবং দালালের দালাল, স্বৈরাচারের দোসর এরশাদের বিরোধী দল’Ñ এ বাক্যটি স্পিকার সংসদীয় কার্যবিধি থেকে বাদ দেন; কিন্তু একজন সরকার দলীয় সদস্যের মন্তব্য ছিল এ রকম-‘বাংলাদেশে কিছু সুশীল আছেন। বড় সুশীল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’-এর টিচার। একটা নয় কয়েকটা বিয়ে করেছেন। আমার তাতে আপত্তি নেই। আপত্তি তখন, যখন দেখি বিয়ে করার তিন মাসের মধ্যে সন্তান হয়। এত শক্তিশালী। জামায়াত নেত্রীকে কেন আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। এটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এতে সংসদের পয়সা খরচ হচ্ছে। সংসদে কেন আমরা তাকে নিয়ে আলোচনা করব। তার বয়স আমার মায়ের সমান; কিন্তু সাজেন ভাবীর মতো। উনার পোশাক ম্যাডামের মতো। আমার দেশের মা-বোনের মতো নয়। তার চোখের ওপর ভুরু নেই। ...উনি বাড়ির জন্য কাঁদেন কিন্তু স্বামীর জন্য কাঁদেন না’Ñ এ ধরনের অসংসদীয় ভাষা এক্সপাঞ্জ করা হয়নি, এমনকি হুঁশিয়ারও করা হয়নি। এ রকম আরো দু-একটি বক্তব্য এ ধরনের ‘পাক সখি খালেদা জিয়া মানবতার শত্রু। তিনি বাংলাদেশের মেদুসা (গ্রিক পুরাণের চরিত্র, যার মাথায় চুলের বদলে অসংখ্য সাপ থাকত)। তিনি চান বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো আগুনে পুড়ে কাবাব হয়ে যাক।’ ‘পলাশীর মীরজাফর প্রথম, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকাররা দ্বিতীয় মীরজাফর এবং সংবিধান সংশোধন ও রাজাকারদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনকারী জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের চার নম্বর মীরজাফর।’
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এমন কোনো সদস্য কমিটির সদস্য হবেন না, যার ব্যক্তিগত, আর্থিক ও প্রত্যক্ষ স্বার্থ কমিটিতে বিবেচিত হতে পারেÑ এমন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে। অথচ বিদেশীদের সম্মাননা স্মারকবিষয়ক স্বর্ণ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সভাপতি হওয়ায় তিনি নিজেকে নির্দোষ ঘোষণার সুযোগ পান। যে কর্মকর্তা প্রতিমন্ত্রীকে দায়ী করে রিপোর্ট দিয়েছিলেন উল্টো তাকেই হেস্তনেস্ত হতে হয়। ‘সত্যিই সেলুকাস কী বিচিত্র এ দেশ’। আরো উল্লেখ করা যায়, ‘এলজিডি কমিটির যেসব সদস্য আছেন তারা সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঠিকাদারি ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সরাসরি এর সাথে জড়িত থাকে।’ জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এটির নাম পিটিশন কমিটি। দশম সংসদের এই কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত গত দেড় বছরে কোনো সভা করেনি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের সমাপনী টেনে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ বক্তব্য দেন। এ সময়ে তিনি বক্তব্যের প্রায় পুরো সময়টাই সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোটের নেতা ও কর্মীদের সমালোচনা করেন।
টিআইবির প্রতিবেদন অবশেষে সংসদকে অধিকতর কার্যকরী করার জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে। এতে অনেক ভালো ভালো কথা বলা হয়েছে। সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়, যে সংসদের আইনগত, অংশগ্রহণগত এবং নিয়মতান্ত্রিক ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ তাদের জন্য কোনো সুপারিশ প্রযোজ্য কি না? সত্যিকার অর্থে প্রতিকার পেতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে। টিআইবির নির্বাহী প্রধান প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অবশেষে সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেনÑ সেটিই আজকে সময়ের দাবি, জনগণের দাবি এবং সঙ্কটময় সময়কে অতিক্রমের একমাত্র পথ। আমরা ‘পুতুল নাচের ইতিকথার’ ইতি দেখতে চাই।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫