ঢাকা, সোমবার,২৬ আগস্ট ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

গ্রামীণ অর্থনীতি : কৃষকের ঘাম ও ধানের দাম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

১৯ ডিসেম্বর ২০১৫,শনিবার, ১৭:৫৩


 ড. আবদুল লতিফ মাসুম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

প্রিন্ট

একসময় বলা হতো কৃষিই বাংলাদেশের মেরুদণ্ড। শিক্ষাকে যেমন প্রগতির বাহন বলা হয়, তেমনি কৃষি আমাদের অর্থনীতির শোনিত। বাংলাদেশ মানেই হচ্ছে গ্রাম আর কৃষি। কবিগুরুর ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলো’ হয়তো আজ আর তেমন নেই। কৃষির অবস্থানও আগের মতো নেই। জাতীয় আয়ের প্রায় ষাট শতাংশ আসত কৃষি খাত থেকে। কর্মসংস্থানের নব্বই শতাংশ ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কৃষি উৎপাদনভিত্তিক। আধুনিকতা, নগরায়ন এবং তথ্য বিপ্লব- সব কিছু উল্টে-পাল্টে দিচ্ছে। কিন্তু তার পরেও আজো বাংলাদেশ একটি বড় গ্রাম। কৃষি খাত এখনো আমাদের অর্থনীতিতে বড় একটি অংশ। কর্মসংস্থানের বড় একটি নির্ভরতা এখনো কৃষি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে। বাংলাদেশে দ্রুত শিল্পায়ন হচ্ছে। বিশেষত গার্মেন্টস শিল্পের কথা উল্লেখ করা যায়। একই সাথে বেড়েছে সার্ভিস সেক্টর বা পরিষেবা খাত।
এসব কিছু পেরিয়ে কৃষি এখনো বাংলদেশের প্রাণ এ জন্য যে, আমরা ভাতে-মাছে বাঙালি। আমাদের প্রগতি, প্রবৃদ্ধি এবং প্রসার সব কিছু অর্থহীন হয়ে যাবে যদি পেটে ভাত না থাকে। তার মানে ১৬ কোটি মানুষের জন্য যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন প্রয়োজন তা যদি আমরা উৎপাদন করতে না পারি, তাহলে দেশ হয়ে পড়বে পরনির্ভর। আজকের বিশ্বে জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সাথে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব অর্জন করেছে। সরকার তারস্বরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা বলছে। অপর দিকে ব্রাজিল থেকে পচা গম কেনার ঘটনাও ঘটছে। এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ঘটছে। একসময় আইয়ুব আমলে আমাদের রুটি খেতে বলায় ওরা বিপাকে পড়েছিল। ওয়ান ইলেভেনের পর আমাদের আলু খেতে বলা হয়েছিল। সাধারণ মানুষ তা সহজে গ্রহণ করেনি। এসব কথার অর্থ এই দাঁড়ায় যে, আমরা ভাতখেকো বাঙালির বদনাম ঘোচাতে পারিনি।
তাই ধানের ফলন বাড়াবার চেষ্টা করেছে প্রতিটি সরকার। ষাটের দশকে আমরা ‘সবুজ বিপ্লব’-এর কথা শুনতাম। এ সময় ১. ইরি নামের উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার শুরু হয় ২. যান্ত্রিক সেচের প্রবর্তন ঘটে ৩. কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় ৪. রাসায়নিক সারের প্রয়োগ শুরু হয়। সরকারি সহায়তা এবং ক্রমেই কৃষি আধুনিকীকরণের শুরু এখান থেকেই । ক্রমেই কৃষিব্যবস্থা গ্রামীণ সনাতন পদ্ধতির বদলে যান্ত্রিকতায় প্রবেশ করে। এ যান্ত্রিকতা ছিল আবার আমদানিনির্ভর। এভাবে জাতীয় কৃষিনীতিতে এসেছে পরিবর্তন। এ সময় কৃষিব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণও ঘটে। সরকার, বহু জাতি কোম্পানি এবং এনজিওগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়। গ্রামীণ লাঙল জোয়াল উঠে গেছে। তার পরিবর্তে চাষাবাদ চলছে ট্রাক্টর দিয়ে। হালের গরুর লালন পালনের গুরুত্ব কমে গেছে। আগেকার দিনে ধান মাড়াই হতো একপাল গরু দিয়ে। অনেক সময় লাগত। এখন মেশিনেই অল্প সময়ে মাড়াই কাজটি হয়ে যাচ্ছে। যাযাবর যেমন বলেছেন, ‘বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়েছে আবেগ।’ ক্রমেই কৃষি যন্ত্রায়নের ফলে আমাদের ধানের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ। কিন্তু ব্যয় বেড়েছে চতুর্গুণ। সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে মাটি ও প্রকৃতির। উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার এবং কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমেছে বিভিন্নভাবে। অনেক বাঁধ এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে উৎপাদন বেড়েছে ঠিকই, অনেক এলাকায় এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যেমনÑ জলাশয় কমে গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তথাকথিত আধুনিকায়নের ফলে শস্য ও বীজজগতে স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হয়েছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিপর্যস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ যে আর্সেনিক বিষের ঝুঁকির মধ্যে আছেন, তার কারণ এসব আধুনিকায়ন।
গ্রামীণ অর্থনীতির ক্রমেই রূপান্তর ঘটছে। কৃষির যন্ত্রায়ন, কারিগরি পরিবর্তন, পুঁজির সঞ্চালন, শহরের বাণিজ্যিক অর্থপ্রবাহ, বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স, সেল ফোন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার গ্রামীণ স্থানান্তর এবং রাস্তাঘাট ও পরিবহন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তাতে গ্রামীণ সহজ সরল জীবনাচারেও যেমন পরিবর্তন হয়েছে, তেমনি পরিবর্তন হয়েছে গ্রামীণ মানুষগুলোর মধ্যেও। দলীয়করণ, নগরায়ন, বাণিজ্যিকীকরণের ফলে গ্রামীণ জীবনের সহজতা-সরলতা, কূটিলতা-জটিলতায় পর্যবসিত হয়েছে। গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। সে ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়নীতি, দালাল ফড়িয়াদের উৎপাত এবং নানা ধরনের চাঁদাবাজি কৃষকের সর্বনাশের কারণ। কৃষির ব্যাপকতা বেড়েছে। মৎস্যচাষ, গবাদিপশু পালন, শাক-সবজি ও ফল-ফুলের চাষ সবই এখন বৃহত্তর অর্থে কৃষি।
একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিন কোটি ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার আবাদি জমি রয়েছে আমাদের। এর মাধ্যে ৭০ শতাংশ জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। ধান থেকে চাল হয়। সুতরাং ধান চাষের ফলন বিপণন এবং অন্যান্য উন্নয়নের জন্য ধানচাষের ওপরই আমাদের কৃষকসমাজের নিরঙ্কুশ নির্ভরতা রয়েছে। যে চাষি ধানচাষের মাধ্যমে আমাদের জীবনকে নিরাপদ করেছেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করেছেন, তারা এখন ধানচাষের ফলে এক বিড়ম্বনায় নিপতিত হয়েছেন। সারা দেশে ধানের ফলন এবার ভালো হয়েছে বলে সরকারি ভাষ্যে জানা গেছে। এই ভালো ফলন কৃষকসমাজের জন্য ভালো না হয়ে মন্দের কারণ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধানের দাম নিয়ে সারা দেশ থেকে যে খবর আসছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। চাষিরা বলছেন, সর্বত্র যে বাজারদর রয়েছে, তা তাদের উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম। এখন ধানের দাম সারা দেশে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্থানীয় মাপ অনুযায়ী এক মণ বা ৪০ সের হচ্ছে ৫০ কেজির সমান। একজন আবাদি কৃষক রাঙাবালি উপজেলার সাইফুল ইসলাম এক কানি বা আশি কড়া যা ২.৫০ শতাংশের সমান, তা চাষ করতে যে খরচাদি পড়ে তার একটি মোটামুটি হিসাব দিয়েছেন। এতে দেখা যায়, যান্ত্রিক চাষ করতে তার খরচ পড়েছে ১০ হাজার টাকা। সার দিতে হয়েছে ১০ হাজার টাকার। কীটনাশক দিয়েছেন আরো ১০ হাজার টাকার। রোপণ বাবদ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ধান কাটতে লেগেছে আরো ১০ হাজার টাকা। ধান মাড়াই খরচ দুই হাজার টাকা। বিক্রির জন্য বাজারে নেয়া বাবদ আরো দুই হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বমোট উৎপাদনব্যয় হচ্ছে ৫৪ হাজার টাকা। ওই নির্দিষ্ট জমিতে সর্বাধিক যে ফলন হয় তা ১০০ মণের বেশি নয়। তা হলে প্রতি মণ ধানের দাম পড়ছে ৫৪ হাজার ভাগ ১০০=৫৪০ টাকা।
প্রতি পদে কৃষককে সমস্যা আর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়। প্রথমেই ধরা যাক জমির প্রাপ্যতা। নিজের জমি থাকলে তো ভালো; আর না হলে এক কানি জমি এক বছরের জন্য নিতে ব্যয় হবে ৩৫ হাজার টাকা। আর সে যদি সাত বছর বা অন্যবিধ শর্তে জমি নেয় তাহলেও ওই কৃষককে ৩৫ হাজার টাকার সমানুপাতিক দায় বহন করতে হবে। এখন গ্রামে জোতদার বা বড় কৃষক ক্ষয়িষ্ণু। বড় কৃষকদের পরবর্তী প্রজন্ম স্বাধীনতার পরবর্তীকালে আর শুধু কৃষিনির্ভর থাকেনি। তারা ব্যবসা, চাকরি, বিদেশগামিতা ইত্যাদি মাধ্যমে ভাগ্য ফিরিয়েছে। একই সাথে কৃষি ব্যবস্থাপনায় এদের অনভিজ্ঞতার ফলে জমি চলে গেছে প্রকৃত কৃষকের কাছে। তা বর্গা হোক বা অন্যবিধ উপায়ে। সেকালের বর্গাব্যবস্থা আর নেই। পরিবর্তিত হয়েছে নগদ অর্থসহ নানাবিধ প্রক্রিয়ায়। সরাসরি কৃষিকার্জে নিয়োগের জন্য লোকজনের সংখ্যা স্বাধীনতার পরে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান সময়ে সঙ্কট তীব্রতর হয়েছে। গার্মেন্ট শিল্পের কারণে গৃহপরিচারিকা পাওয়া যাচ্ছে না। তেমনি নগরায়ন, শিল্পায়ন, সেবা পরিখাতের কারণে কৃষি ক্ষেতে কাজ করার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রামে এখন ক্ষেতমজুর বিরল। তাদের পেতে অঞ্চল ভেদে সাড়ে ৩০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ইতঃপূর্বে সার,কীটনাশক, সেচ ইত্যাদির ব্যাপক ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
গ্রামীণ কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রতিটি সরকারই প্রাণপাত করছে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দলীয়করণ, মধ্যস্বত্বভোগী বাটপাড় ব্যবসায়ী, আধুনিক বাণিজ্যিকীকরণের তোড়- এমন সব কারণের জন্য কৃষকের ঘামে ফলানো কৃষিপণ্যেও দাম কৃষক পাচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে কৃষিঋণ ব্যবস্থা ও বিপণন পর্যায়ক্রমের উল্লেখ করা যায়। বাংলাদেশে কৃষি অর্থনীতির বিকাশ ও কৃষককে ঋণ দেয়ার স্বার্থে বাংলাদেশে দুটো ব্যাংক রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক হচ্ছে এ দুটো কৃষক ঋণদান সংস্থা। সারা দেশে এদের শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এসব শাখার মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষকদের কাছে এদের ঋণ সহায়তা পৌঁছানোর কথা। কিন্তু বাস্তব সমীক্ষা নেয়া হলে দেখা যাবে যে, প্রকৃত গ্রামীণ কৃষকেরা ঋণ পাচ্ছেন না । যারা পাচ্ছেন তারা অকৃষিজ ব্যবসায়ী শ্রেণী। তাদের হয়তো কৃষিজমিও আছে। রাজনীতিপ্রবণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব লোকেরা বড় কৃষকের নামে বড় ঋণ নিচ্ছেন। আর ক্ষুদ্র কৃষকেরা ক্ষুদ্র ঋণও পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে গ্রামের কর্তাব্যক্তিরা এদের জন্য দেয় ঋণ কায়দা কানুন করে নিয়ে নিচ্ছেন। গ্রামীণ কৃষক জানেনও না যে তার জন্য ঋণ রয়েছে। এসব অশিক্ষিত অথবা অর্ধ অশিক্ষিত মানুষেরা আনুষ্ঠানিকতা আর আমলাদের ভয়ে ঋণের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেন না। তা ছাড়া রয়েছে ঋণ পরিশোধে অব্যবস্থাপনা এবং চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ। পাঁচ হাজার টাকার ঋণ সুদাসলে ৫০ হাজার টাকা যখন হয়, তখন ওই কৃষকের ঋণ শোধের সামর্থ্য এবং সুবিধা কোনোটাই থাকে না। এর পরে আসে বিপণন ব্যবস্থার কথা। ধান এতই মূল্যহীন হয়ে পড়েছে যে, তা কেনার জন্য কৃষকের বাড়ি পর্যন্ত ক্রেতা পৌঁছে না। অথচ অর্থনৈতিক কৃষিপণ্যের জন্য ব্যবসায়ীরা অতি উৎসাহী হয়ে ওঠেন। উদাহরণ হিসেবে আমের কথা উল্লেখ করা যায়। আমের গুটি ধরার সময় থেকেই আমগাছ বিক্রি হয়ে যায়। আরো উদাহরণ আছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজ বিপণন ক্ষেত্রে। ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে লগ্নি করেন তরমুজ চাষে। শর্ত থাকে উৎপাদিত তরমুজ তাকেই দিতে হবে। তরমুজের বাজারমূল্য যদি হয় প্রতিটির জন্য ৩০ টাকা, তাহলে হয়তো ওই মহাজন ২০ টাকার বেশি দেবে না। একজন তরমুজ উৎপাদনকারী যদি সরাসরি পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত হতে চান, তাহলে পদে পদে এবং পথে পথে তাকে পেতে হয় অনেক গঞ্জনা ও যন্ত্রণা । দিতে হয় তরমুজপ্রতি রাজনৈতিক চাঁদা এবং মোকাবেলা করতে হয় ফড়িয়া টাউট বাটপাড়দের সিন্ডিকেট।
খাদ্যশস্যসহ কৃষকের উৎপাদন ব্যবস্থা যদি সহজ সরল করা যায়, তাহলে কৃষকের উৎপাদন বেড়ে যাবে অনেক গুণ। কৃষকের জন্য যদি কৃষি উপকরণাদি বিনামূল্যে বা কম মূল্যে সরবরাহ করা যায় তাহলে উৎপাদন ব্যয়ভার কমে যাবে অনেক গুণ। প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় সার কেলেঙ্কারির খবর ছাপা হয়। ৫০ টাকার সার ১০০০ টাকায় বিক্রির খবর জানা যায়। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কৃষকদের দেয় কলের লাঙ্গল অকৃষক দলীয় নেতাকর্মীদের দেয়া হয়। এরকম অবস্থার অবসান না হলে খাদ্য উৎপাদন কাক্সিক্ষত মাত্রায় অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না। ক্ষোভে কৃষককে আলু, টমেটো এমনকি দুধও রাস্তায় ফেলে দিতে দেখেছি। এমন যেন না হয় কৃষক তার ধানের ক্ষেতে আগুন দিয়ে দেয়! গোটা দেশের কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে খুবই দুরবস্থা এবং হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত হবে। একজন বিশেষজ্ঞ আজিজ ইবনে মুসলিম তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে দাবি করেছেন, প্রতি মণ ধানের দাম যদি হয় ৮০০ টাকা তাহলে কৃষকের মোটামুটি ন্যায্যপ্রাপ্তি হয়। প্রতি বছর সরকার বাজারের চেয়ে বেশি মূল্যে ধান ক্রয় করে থাকে। এবারো সরকারের উচিত প্রচুর ধান-চাল ক্রয় করা। আর মণপ্রতি সরকারি দাম ৮০০ টাকার কম হওয়া উচিত নয়। সরকারের সদিচ্ছা সত্ত্বেও মধ্যবর্তী একদল অসৎ লোক সরকারি ধান-চাল ক্রয়ে কৃষকদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করে। সরকারের সদিচ্ছাকে মূল্যায়ন করার জন্য এসব মধ্যস্বত্বভোগী টাউট বাটপাড়দের যথার্থ শাস্তি দেয়া উচিত। এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বেগতিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসবে। ধানের কৃষক যদি তার ঘামের যথার্থ মূল্য পান, তাহলে আবার সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা হবে বাংলাদেশ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫