ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ মার্চ ২০১৯

আলোচনা

বাংলা সাহিত্য সৈয়দ শামসুল হককে চিরদিন স্মরণে রাখবে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

২৮ ডিসেম্বর ২০১৫,সোমবার, ১৯:৩৬


প্রিন্ট

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে তার বর্ণাঢ্য জীবন ও সৃষ্টি মূল্যায়নমূলক সম্মাননা গ্রন্থ ‘জলেশ্বরীর জাদুকর’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বইটি বের করেছে কথাপ্রকাশ প্রকাশনী। সোমবার বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ শামসুল হক অনেক কিছু দিয়েছেন, দেবেন। তার এই অমর কীর্তি বাংলা সাহিত্য চিরদিন স্মরণে রাখবে।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দ শামসুল হকের সহধর্মিনী আনোয়ারা সৈয়দ হক, কথাপ্রকাশের প্রকাশক জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের সাথে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আমাদের পার্শ্ববর্তী কলকাতায় থিয়েটার অনেক শক্তিশালী, কিন্তু এখানে হয়নি। তার উদ্যোগেই আমাদের নাট্য জগতে সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছে। তিনি বিনোদনের জগতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, তার জ্ঞানের বিস্তার একদিনে জানা সম্ভব নয়। তার লেখার বিস্তার আস্তে আস্তে পড়ে বুঝতে হবে। রবীন্দ্রনাথের পর তার মত এতবড় নাট্যকার জন্ম নিয়েছে কিনা সন্দেহ। তিনি আরো ভালো নাটক লিখবেন বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শামসুজ্জামান খান বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের মত একজন কবিকে ৬০০ পৃষ্টার একটি বইয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তার মত এত বৈচিত্রময় সাহিত্যিক মনে হয় এখন আর নেই। তিনি অন্যতম সৃষ্টিশীল লেখক।
আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, সৈয়সদ শামসুল হক সব সময় লালনের মত ১১৬ বছর বাঁচতে চান। এখনো তার অনেক কাজ বাকি। বাংলা সাহিত্যে তিনি আরো অনেক কিছু দিয়ে যাবেন সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন কবির সহধর্মিনী।
সৈয়দ শামসুল হক বলেন, এখনো দাড়িয়ে আছি এটা আমার অহংকার। আমি যেন লিখে যেতে পারি। আমার আয়ুর তিনটি লক্ষ ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, ২০২১ সাল এবং লালনের ১১৬তম জন্মদিন। তিনি বলেন, আমরা যেন দেশ, মাটি, মানুষ থেকে কখনোই বিচ্যুত না হই। একটি অংশ আজ বিপরীত দিকে যাচ্ছে। এর থেকে বিরত থাকার আহবান জানান তিনি।
ড. আনিসুজ্জামান বলেন, সাহিত্যের এমন দিক নেই যেখানে তিনি স্পর্শ করেননি। তার লেখায় ভাষা সম্পর্কে সদা জাগ্রত চিন্তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রত্যেক লেখকের জন্য তিনি অনুসরণীয়। তার অবদানের জন্য বাংলা সাহিত্য তাকে চিরদিন স্মরণে রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫