ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ মার্চ ২০১৯

প্রাণি ও উদ্ভিদ

আমুর-তিমুরের বন্ধুত্ব (ভিডিওসহ)

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৩ জানুয়ারি ২০১৬,রবিবার, ১৪:১২


প্রিন্ট
আমুর ও তিমুর নামের এই বাঘ ও ছাগল প্রায় এক মাস ধরে একসাথেই থাকছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে

আমুর ও তিমুর নামের এই বাঘ ও ছাগল প্রায় এক মাস ধরে একসাথেই থাকছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে

রাশিয়াতে দুই প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এমন এক ঘটনা ঘটেছে যা হয়তো কেউ চিন্তাও করতে পারবে না।

প্রায় এক মাস আগে রাশিয়ার একটি সাফারি পার্কে আমুর নামের একটি বাঘকে খাবার হিসেবে দেয়া হয়েছিল একটি জ্যান্ত ছাগল।
কিন্তু ওই ছাগলকে না খেয়ে বাঘটি তার সাথে বন্ধুত্ব পেতে বসেছে। এখন আমুর নামের ওই বাঘ ও তিমুর নামের ওই ছাগলটি পরস্পরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

এমনকি বন্ধু ছাগলের জন্য নিজের ঘুমানোর জায়গাটিও ছেড়ে দিয়েছে বাঘটি।

ওই চিড়িয়াখানায় আমুর ও তিমুর অর্থাৎ বাঘ ও ছাগল এখন বিভিন্ন জায়গায় একসাথে ঘুরে বেড়ায়। ঘুমায়ও একসাথে।

 

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এখন এই বাঘ ও ছাগলকে একসঙ্গেই রাখছে

চিড়িয়াখানায় আসা দশনার্থীরা অবাক হচ্ছেন হিংস্র পশু বাঘের সাথে ছাগলকে ঘুরতে দেখে।

বাঘে-ছাগলের বন্ধুত্বের ভক্ত হয়ে গেছেন অনেকে। তারা রীতিমতো এদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন।

ওয়েবক্যামের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা সরাসরি দেখছেন এই বিরল বন্ধুত্বের দৈনিক কর্মকাণ্ড।

এদের নামে ফেইসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে খোলা হয়েছে অ্যাকাউন্ট।

তিন বছর ধরে চিড়িয়াখানায় থাকা আমুর বাঘকে সপ্তাহে দুইবার জ্যান্ত ছাগল খেতে দিতে হতো চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে।

বিবিসির মস্কো সংবাদদাতা সারাহ রেইনসফোর্ড ওই চিড়িয়াখানার পরিচালক দিমিত্রি মেজেনস্তেভের সাথে কথা বলেছিলেন।

মেজেনস্তেভ বলেন, “প্রায় তিন বছর ধরে আমুর এই চিড়িয়াখানায় আছে। সপ্তাহে দুই দিন তাকে ছাগল খেতে দিতে হতো। আমরা একদিন তাকে তিমুর নামের ওই ছাগলকে খেতে দিই। কিন্তু চারদিন পর দেখি বাঘটি তিমুরকে খায়নি। এটা খুবই বিস্ময়কর একটা ঘটনা।”

 

বাঘটি তিমুর নামের ছাগলটিকে চার দিনেও খায়নি, এখনো তারা একসাথেই থাকে

“বাঘটা এতটা ক্ষুধার্ত ছিল সে কয়েক সেকেন্ডে তিমুরকে খেয়ে ফেলতে পারতো। কিন্তু এটা তিমুরেরই সাহসিকতা সে বাঘটির সাথে বন্ধুত্ব পেতেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এদেরকে আলাদা করব না, একসাথেই রাখব,” বলেন চিড়িখানার পরিচালক দিমিত্রি মেজেনস্তেভ।

তিনি আরো বলেন, “এদের সম্পর্ক দেখে মানুষেরও শেখার কিছু রয়েছে । বিশ্বে যেসব যুদ্ধ হানাহানি চলছে, মানুষ যদি মানবিক হতে শেখে তাহলে নিরীহ প্রাণগুলো বেঁচে যেত।”

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫