ঢাকা, সোমবার,২২ জুলাই ২০১৯

অনলাইন জগৎ

নেট নিউট্রালিটিপন্থী মার্ক জুকারবার্গ

আহমেদ ইফতেখার

০৩ জানুয়ারি ২০১৬,রবিবার, ১৭:৪৪


প্রিন্ট

বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ফেসবুক, উইকিপিডিয়ার মতো অনেক সেবাই গ্রাহকদের এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু এ নিয়ে বেশ কয়েকটি দেশে নেট নিউট্রালিটি ভঙ্গের অভিযোগ উঠছে। অনেকেই দাবি করছেন নির্দিষ্ট সেবা সরবরাহের পদ্ধতি নেট নিউট্রালিটি আইনবিরুদ্ধ। এমন দাবির প্রেক্ষাপটে ফ্রি বেসিক প্রটেক্টস নেট নিউট্রালিটি শীর্ষক প্রবন্ধের মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন মার্ক জুকারবার্গ।

তিনি বলেন, আমরা জানি মানুষ যখন ইন্টারনেটে প্রবেশ করে, তখন তারা একই সাথে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগের মতো বিষয়ে প্রবেশের সুযোগ পায়। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রতি ১০ জনের একজন দারিদ্র্য থেকে উঠে আসছেন। ভারতের মতো দেশের উন্নয়নে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষকে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে হবে। এটা তত্ত্ব নয়, বাস্তবতা। ফ্রি বেসিক সেবাটিকে নেট নিউট্রালিটিপন্থী বলেই প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন তিনি। 

ফ্রি বেসিককে জুকারবার্গ গ্রন্থাগার, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো বিনামূল্যের সাধারণ সেবার সাথে তুলনা করেছেন। ডিজিটাল সাম্যতা ও পরিপূর্ণ ইন্টারনেটের মধ্যে ফ্রি বেসিক সেতু হিসেবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন জুকারবার্গ। সুবিধাবঞ্চিতরা যাতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা পায়, সে জন্যই ফ্রি বেসিক সেবাটি চালু করা হয়েছে।

শুরু থেকেই ভারতের অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান ফ্রি বেসিককে নেট নিউট্রালিটির মূলনীতি বিরোধী বলে উল্লেখ করে আসছে। মূলত ইন্টারনেটের সব সেবা সরবরাহ না করায় ফ্রি বেসিকের বিরোধিতা করে আসছে তারা।

ভারতে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনসের (আরকম) মাধ্যমে এ সেবা সরবরাহ করছে ফেসবুক। কিন্তু সম্প্রতি টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই) আরকমকে ভারতে সেবাটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এর বিরোধিতা আসায় ট্রাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আর এস শর্মা। এ ক্ষেত্রে ফেসবুকের বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবার জন্য দেশটিতে নতুন নীতিমালা তৈরি হতে পারে।

সেবাটিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য ইতিবাচক বলে উল্লেখ করে আসছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের হিসাব অনুযায়ী, ৩০টির বেশি দেশে ৩৫টিরও বেশি অপারেটরের মাধ্যমে ফ্রি বেসিক সেবা সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ইন্টারনেটে দেড় কোটি নতুন গ্রাহক যোগ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরো দাবি করে, তাদের ফ্রি বেসিক ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেক ৩০ দিনের মধ্যে সাধারণ ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করছে।

এ প্রেক্ষাপটে জুকারবার্গ বলেন, ‘ওপেন প্লাটফর্মটির বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে যেকোনো ডেভেলপার তার সেবা এর মাধ্যমে সরবরাহ করার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু ফ্রি বেসিককে স্বাগত জানানোর পরিবর্তে নেট নিউট্রালিটির দোহাই দিয়ে অনেকেই এর বিরোধিতা করছে। যা খুবই হতাশাজনক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫