ঢাকা, বুধবার,১৩ নভেম্বর ২০১৯

ধর্ম-দর্শন

ইসলামবিহীন বিশ্ব

গ্রাহাম ই ফুলার

০৩ জানুয়ারি ২০১৬,রবিবার, ১৯:৩৫


প্রিন্ট

ইসলাম ও মুসলিম এখনকার বহুল আলোচিত দু’টি শব্দ। সমাজতন্ত্র পতনের পর ইসলামকেই পাশ্চাত্যের সামনে দাঁড় করানো হয়েছে। বিশেষ করে পাশ্চাত্যের অনেকেই ইসলামকে বর্তমান সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হিসেবে অভিহিত করছে। অনেকে তো ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের প্রতিশব্দ হিসেবেও উল্লেখ করছে। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাশ্চাত্যের আগ্রাসন, ভুলনীতির কারণেই ক্ষুব্ধ হচ্ছে মুসলিমরা। এমন এক প্রেক্ষাপটেই গ্রাহাম ই ফুলারের ‘এ ওয়ার্ল্ড উইথআউট ইসলাম’ বইটি অনুবাদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লেখক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, র‌্যান্ডের সাবেক সিনিয়র রাজনীতিবিজ্ঞানী এবং বর্তমানে সাইমন ফ্রেসার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাজাঙ্কক্ট প্রফেসর। তিনি প্রায় দুই যুগ মুসলিম বিশ্বে বসবাস করেছেন, কাজ করেছেন। এ বইয়ের প্রতিটি বক্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। তার ব্যাখ্যা ভিন্ন এক ধর্মে বিশ্বাসী ব্যক্তি ইসলামকে সমসাময়িক পরিপ্রেক্ষিতে কিভাবে দেখেছেন সে বিবেচনায় মূল্যায়ন করতে হবে। এর সাথে দ্বিমত পোষণের অনেক অবকাশ থাকবে। এরপরও লেখকের মূল দৃষ্টিভঙ্গি বুঝার জন্য কোন ব্যাখ্যা ছাড়া এখানে কেবল অনুবাদ করা হয়েছে। এর ভাষান্তর করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ

(গত সংখ্যার পর)
ঈমান গ্রহণ করার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে এক আল্লাহতে বিশ্বাস, আল্লাহর সব নবীর (হজরত মুসা আ: হজরত ঈসা আ: এবং হজরত মুহাম্মদ সা:) ওপর বিশ্বাস, ফেরেশতায় বিশ্বাস, আল্লাহর নাজিল করা প্রধান প্রধান কিতাবের (এগুলোর মধ্যে রয়েছে ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন) ওপর বিশ্বাস, শেষ বিচার ও পুনরুত্থানের ওপর বিশ্বাস, ভাগ্য বা নিয়তির ওপর বিশ্বাস। নতুন ধর্মের এ তাত্ত্বিক ভিত্তিটি সহজে এর প্রচার, ব্যাখ্যা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়।
হজরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন প্রথম ‘মুসলমান’, তথা প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী কিংবা আল্লাহর পরিকল্পনার কাছে প্রথম আত্মসমর্পণকারী। তিনি এক আল্লাহর বাণী স্বচ্ছ ও স্পষ্ট করা এবং পূর্ববর্তী ইহুদি ও খ্রিষ্টান বাণীগুলো মানবীয় ব্যাখ্যার কারণে ভুল ও অবিশ্বাসে ভারাক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। তবে ওহির ধারা ছিল এক ও অভিন্ন।
সনাতন মুসলিম বিশেষজ্ঞরা ইসলামের আত্মপ্রকাশ কোনো ধরনের দুর্ঘটনা তথা এটা খোদায়ি না হওয়ার ধারণা পুরোপুরি নাকচ করে দেন। অন্য কথায় তারা হজরত মুহাম্মদ সা: লাভ করা ওহিতে সম্ভাব্য সব ধরনের বহিরাগত, আঞ্চলিক বা অখোদায়ী উৎস ও প্রভাবের কথা অস্বীকার করেন। তাদের নিজস্ব ধর্মতাত্ত্বিক বাধ্যবাধকতার কাঠামোর মধ্যে তা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু হজরত মুহাম্মদ সা: যে পরিবেশে বাস করেছিলেন, তাঁর মন, চিন্তা-চেতনা ও ব্যক্তিত্বে নিশ্চিতভাবেই তা প্রভাব বিস্তার করেছে, এটা ওহি ধারণ এবং তাঁর নিজের ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর লাভ করা ওহি উপলব্ধি ও প্রয়োগ করার ভঙ্গিকে প্রভাবিত করত। এ কারণেই ওহির অভিজ্ঞতা ও ব্যাখ্যায় সম্ভাব্য ও যুক্তিসঙ্গত বহিরাগত প্রভাব, ইতিহাসের অন্যান্য নবি ও ধর্মীয় ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও ওহির তুলনা করাও যুক্তিসঙ্গত।
এই সময়টাতে পবিত্র কুরআনের মৌলিক নতুন বিধিবিধানগুলোর বেশির ভাগই আরব উপদ্বীপে সুপরিচিত ছিল। যিশুকে মসিহ হিসেবে অস্বীকার করে তাঁকে কেবল আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন রোগ নিরাময়কারী হিসেবে গ্রহণ করার ইহুদি বিশ্বাস দিয়ে শুরু হয়। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যিশুর প্রকৃতির প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে নানা ধরনের ‘ধর্মভ্রষ্টতাও’ পরিচিত ছিল। বস্তুত পবিত্র কুরআনের কঠোর একেশ্বরবাদ অনেক দিক থেকেই পরবর্তীকালে ইস্টার্ন অর্থোডক্স চার্চের ধর্মভিত্তিক দ্বন্দ্বজনিত মতাদর্শগত আপসমূলক দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একেবারে প্রাচীনতম খ্রিষ্টানদের দৃষ্টিভঙ্গির বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল।
হজরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন কোনো প্রধান ধর্মের প্রথম নবী, যিনি পুরোপুরি ইতিহাসের আলোতে বাস করেছেন। তাঁর জীবন এবং কার্যক্রম-সম্পর্কিত তথ্য প্রচুর পাওয়া যায়, পবিত্র কুরআনে এবং তারচেয়েও বেশি তাঁর সমসাময়িককালের লোকজনের বিবরণ থেকে, যারা হাদিস বা সুন্নাহ হিসেবে ঘটনাগুলো রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও খ্রিষ্টানসহ অন্য প্রায় সব ধর্ম যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, ইসলাম সেগুলোর সামনে পড়ে : নবীর জীবন ও কথা নিয়ে সমসাময়িকদের বর্ণনা কতটা নির্ভুল? এসব কথা ও কাজ কেবল মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছে, ইসলামে এগুলো লিখিত আকারে সঙ্কলিত, বিশ্লেষিত ও পদ্ধতিগতভাবে মূল্যায়ন হয়েছে আরো শতাধিক বছর পর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোন গসপেলগুলো ‘নির্ভরযোগ্য’ এবং কোনগুলো নয়, তা নির্ধারণ করতে যিশুর জীবনের সব ভাষ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে খ্রিষ্টান সমস্যার মতোই এটা। এখনো এতে অনুমান-নির্ভরতা রয়ে গেছে এবং সেটা শেষ হওয়ার নয়।
ইসলামে হাদিস আক্ষরিকভাবে আল্লাহর কাছ থেকে ওহির মাধ্যমে সরাসরি লাভ করা পবিত্র কুরআনের আয়াতের মতো পবিত্র না হলেও এগুলো ইসলামি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের চেয়েও অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বিবেচিত হয়েছে। কারণ, প্রথম দিকের ইসলামি সমাজ বিনির্মাণে পবিত্র কুরআনে কোনো ইঙ্গিত নেই এমন অনেক সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট ক্ষেত্রে হাদিসই অনেক বেশি কার্যকর গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বিবেচিত হয়েছে। নবী সা: নিজে প্রাপ্ত ওহিকে কিভাবে বুঝেছেন এবং পরিস্থিতির আলোকে প্রয়োগ করেছেন, সে সম্পর্কেও হাদিস গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। আজ যেসব খ্রিষ্টান বলেন, ‘যিশু কী করতেন?’ এটা তাদের জন্য একটা উদাহরণ।
কিন্তু তার পরও ইসলামের মধ্যে ছোট ছোট অনেক গ্র“প রয়েছে, যারা হাদিসের জটিল ও পরিবর্তনশীল প্রকৃতি, বিশ্বাসযোগ্যতার নানা মাত্রা এবং অনেক সময় কর্তৃপক্ষের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য একটি রেখে অন্য হাদিস গ্রহণের প্রেক্ষাপটে আসমানি উৎসের কারণে একমাত্র কুরআনকেই ইসলাম বোঝার উৎস হিসেবে স্বীকার করার কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার যে, এটা ‘রিফরমেশন’ আন্দোলনের ‘সোলা ক্রিপটুরা’ (কিতাবই একমাত্র) ভিত্তির সাথে তুলনীয়। কেবল কিতাবের ভিত্তিতে ধর্মতাত্ত্বিক উপলব্ধি প্রতিষ্ঠার অনুকূলে ওই আন্দোলন বিপুলসংখ্যক চার্চ ইতিহাস, এর প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি, কাউন্সিল রুলিং ইত্যাদি প্রত্যাখ্যান করে।
একটি নতুন ইসলামি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায় বিনির্মাণে নতুন ওহিগুলো প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে বাস্তব বাধা ছিল বিপুল, বিশেষ করে মক্কার এলিটদের (হজরত মুহাম্মদ সা: বার্তার কারণে তাদের ক্ষমতা, সম্পদ ও মর্যাদা হুমকির মুখে পড়ায়) কাছ থেকে আসা প্রথম দিককার সহিংস বিরোধিতা। তাঁর জীবন বিপদের মুখে পড়ল, নবী এবং তাঁর অনুসারীরা মদিনা নগরীতে হিজরত করলেন, সেখানে তিনি প্রথম মুসলিম সমাজ গড়ে তুললেন এবং আমন্ত্রণক্রমে শান্তিপূর্ণ একটি নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্বন্দ্বরত পক্ষগুলোর মধ্যে মীমাংসার ভার নিলেন। এটাকে ‘মদিনা সনদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এতে নগরীর নানা গ্র“পের (ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমান) মধ্যকার অধিকার, দায়দায়িত্ব ও সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত ও সমন্বিতভাবে একটি দলিলে তুলে ধরা হয়। এ দিকে ৬৩০ সালে রক্তপাতহীন বিজয়ের ফলে মক্কার চূড়ান্তভাবে বিরোধিতা পরিত্যাগ এবং নবী সা: সাড়ম্বরে প্রত্যাবর্তনের আগে পর্যন্ত মদিনার মুসলিম সম্প্রদায় অনেক বছর ধরে ইসলাম বৈরী মক্কা বাহিনীর অব্যাহত সামরিক ও রাজনৈতিক হুমকির সম্মুখিন ছিল। সদ্য সৃষ্ট সম্প্রদায়টিকে ধ্বংস করতে চাওয়া শত্র“দের মোকাবেলায় মুসলিম ঐক্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পবিত্র কুরআন উত্তেজনা, বৈরিতা, যুদ্ধ, পরিবর্তনশীল মিত্রতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার এ সময়কালটি রহস্যপূর্ণ ও অপেক্ষাকৃত যুদ্ধাকাক্সক্ষামূলক কিছু আয়াতে প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এসব আয়াতের রহস্যাচ্ছন্নতা ও ক্রোধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে দাঁড়ানো সেমিটিক গোত্রগুলোর মোকাবেলায় ইসরাইলিদের সংগ্রামের সময়কার মতোই, যখন ওল্ড টেস্টামেন্ট ইহুদিদের সব শত্র“কে নির্মমভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছে। উভয় ধর্মেই ওই গোলযোগপূর্ণ সময়ে সমন্বয় সাধন ও শান্তির প্রতি উৎসাহ ছিল না।
ইসলাম বিকশিত, বিস্তৃত ও সাম্রাজ্য বিনির্মাণে সম্পৃক্ত হওয়ার ফলে হাদিসের বিশ্বাসযোগ্যতা-সংক্রান্ত সমস্যা একটি বড় রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করে। খ্রিষ্টান চার্চের মতো পরবর্তীকালের মুসলিম সেকুলার বা ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ইসলামের বাণী কতটা ভূতাপেক্ষভাবে প্রভাব, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যাখ্যা কামনা করেছিল? খ্রিষ্টান ধর্মের বিপরীতে ইসলাম সৌভাগ্যক্রমে নবীর সম্ভাব্য আসমানি মদদ নিয়ে বিতর্ক থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি বা অন্য কেউ এমন দাবি কখনোই করেননি। ইসলামের ধর্মতাত্ত্বিক ভিশনের সংযত রেখার কারণেও সম্ভবত খ্রিষ্টানদের চেয়ে এখানে কিতাবগত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ধর্মভ্রষ্টতা ও বিভক্তি অনেক অনেক কম। কিন্তু তা সত্ত্বেও পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যার প্রশ্নটি আজো ইসলামের চলমান ক্রমবিকাশের প্রধান বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
ইসলাম বিস্তৃত হওয়ার সময় নতুন নতুন ভাষা, ভূগোল, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার সামনে পড়ে। অন্যান্য ধর্মের মতো ইসলামও নতুন বিশ্বাস গ্রহণ ও ধর্মান্তরের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। অবশ্য পরবর্তীকালের সংস্কারকদের দৃষ্টিতে এসব খাপ খাওয়ানো ও উপজাতগুলো অনৈসলামিক, বিদয়াত বিবেচিত হয়ে ধর্মতাত্ত্বিক পরিশোধন ও মূলে ফেরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব হয়েছে। এসব ইস্যু ইসলামি পুনর্জাগরণ এবং মৌলবাদের ভিত্তি গঠন করেছে। এ ধরনের উপজাত মার্টিন লুথারের মতো প্রাথমিক কালের প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কারকদের জন্যও প্রধান ইস্যু ছিল।
ধর্ম এবং সেগুলোর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ খুব কম ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট ধর্মতাত্ত্বিক মতপার্থক্যের কারণে ঘটে থাকে, বরং তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জটিলতাই হয় প্রধান কারণ। আসুন আমরা ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মের মধ্যে তিন ধারার সম্পর্কের মধ্যে অস্তিত্বশীল সত্যিকারের ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের নির্যাস পরীক্ষা করে দেখি। এসব ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্য প্রাচীন ও মধ্যযুগের মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বাস্তবে আসলেই কতটুকু সত্যিকারের পার্থক্য সৃষ্টি করত? আমরা আরো ঘনিষ্ঠভাবে তাকালে দেখি, একেশ্বরবাদের সুনির্দিষ্ট মৌলিক যুক্তিগুলোই এই অঞ্চল ও সংস্কৃতিকে বারবার প্লাবিত করেছে। আমরা লক্ষ করি, ক্ষেত্রটিকে ধর্মতাত্ত্বিক রূপান্তর না করে ইসলাম বরং অন্য দু’টি ধর্মের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেছে, এক ধরনের ধর্মতাত্ত্বিক ধারাবাহিকতা জোরদার করার ভান করেছে। ইহুদি-খ্রিষ্টান বিশ্বাসের কাছে অপরিচিত অনেকটা সংহতি নাশক সাংস্কৃতিক ও ধর্মতাত্ত্বিক শক্তিই ইসলাম প্রতিনিধিত্ব করে কিংবা পরবর্তীকালে সৃষ্ট পাশ্চাত্যবিরোধী অনুভূতির ভিত্তিভূমি গঠন করেছে বলে আধুনিক জনপ্রিয় তত্ত্বগুলোর লক্ষ্য ইসলামকে এর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে পুরোপুরি নির্মূল করে দেয়া। বস্তুত, ইসলাম পাশ্চাত্যের প্রতি বেশ প্রতিরোধমূলক মনোভাবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গভীর সাংস্কৃতিক, দার্শনিক ও ধর্মীয় ধারার প্রতিনিধিত্ব ও সম্প্রসারিত করেছে। ইসলাম ওইসব ধারার সৃষ্টি করেনি, ইসলামকে সরিয়ে নেয়া হলেও এসব ধারা বহাল থাকবে। এই তিন ধর্ম একে অপরকে কিভাবে দেখে, আসুন আমরা তা বিবেচনা করি।

(চলবে)

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫