ঢাকা, বুধবার,২২ মে ২০১৯

পাঠক গ্যালারি

বিএসএফ-এর বন্ধুরাষ্ট্রের নাগরিক হত্যা

এম এম খালেদ সাইফুল্লা

০৪ জানুয়ারি ২০১৬,সোমবার, ১৯:৩৯


প্রিন্ট

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মতে, চলতি বছর ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিএসএফ ৪৫ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে ৩১ জন গুলিতে এবং বাকি ১৪ জন শারীরিক নির্যাতনে মারা গেছে। এই সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। অপর দিকে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৪১ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। তাদের গুলিতে আহত হয়েছে আরো ৬০ জন। তা ছাড়া ২৭ জন বাংলাদেশীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বিএসএফ। 

প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ২০১০ সালে ৭৪ জনকে হত্যার পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিহতদের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমে এসেছিল। ২০১১ সালে ৩১ জন, ২০১২ সালে ৩৮ জন এবং ২০১৩ সালে মারা গিয়েছিল ২৯ জন। গত বছর বিএসএফের হাতে মৃত্যু ঘটেছে ৩৩ জন বাংলাদেশীর। কিন্তু চলতি বছরে এসে বিএসএফ আবারো অতীতের মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

কারণ ব্যাখ্যাকালে মানবাধিকার সংস্থার নেতারা বলেছেন, ভারতের সাথে অনুপ্রবেশকারীদের হত্যার পরিবর্তে গ্রেফতার ও হস্তান্তরের ব্যাপারে সমঝোতা ও চুক্তি থাকলেও বিএসএফ সেসবের কিছুই মানছে না। বিএসএফ বরং দেখামাত্র গুলি করার নীতিই অনুসরণ করে চলেছে। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে এসেছে হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া। বস্তুত কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানীসহ কোনো একজন বাংলাদেশী হত্যার বিচার ও শাস্তি হয়নি বলেই বিএসএফ ক্রমাগত আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পেরেছে। সে জন্যই কমার পরিবর্তে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যাকাণ্ড আরো বেড়েছে। বিএসএফ শুধু হত্যাই করছে না, অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের লাশও নিয়ে যাচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরে। বলা দরকার, মানুষ হত্যা করে এবং তার লাশ নিয়ে গিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারছে না বিএসএফ। আগের মতো মানুষ তো অপহরণ করছেই, বিএসএফের সৈনিকেরা বাংলাদেশের অনেক ভেতরে ঢুকে গরুও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় নিয়মিতভাবে। খবর শুধু এটুকুই নয়। ভারতীয় খবরের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অন্য এক খবরে জানা গেছে, ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে চালকবিহীন ড্রোন বিমান ব্যবহার করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ড্রোন তথা আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিক্যাল বা ইউএভি সীমান্ত এলাকার ১০ থেকে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় চলাচল করবে। আকাশ থেকে ছবি তোলার পাশাপাশি প্রয়োজন দেখা দিলে ড্রোন বিমান থেকে বোমা ফেলা হবে। গুলিও বর্ষণ করবে ভারতীয়রা। এ ব্যাপারে বিএসএফকে সহায়তা করবে ভারতের বিমানবাহিনী। আমরা উদ্বিগ্ন এ জন্য যে, বিএসএফের সৈনিকেরা স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করে আসছে। চাষাবাদ করা বা গরুকে ঘাস খাওয়ানোর মতো কোনো জরুরি প্রয়োজনে সীমান্তের কাছাকাছি নিজেদের জমিতে গেলেও বাংলাদেশীরা বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অন্য দিকে সব জেনে-শুনেও ভারতের কাছে বলিষ্ঠভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে না আওয়ামী লীগ সরকার। এ অবস্থারই সুযোগ নিচ্ছে বিএসএফ। অতি তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই না বলে পারা যায় না, ফেলানীসহ কোনো বাংলাদেশীই আকস্মিক দুর্ঘটনার শিকার হয়নি। তাদের রীতিমতো টার্গেট করে, ফেলানীর মতো ক্ষেত্রে পয়েন্ট ব্যাংক দূরত্ব থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সর্বব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের মধ্যেও এখনো সে কর্মকাণ্ডই চালিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ। স্মরণ করা দরকার, আগে বিএসএফ কিন্তু এত বেশি দুঃসাহস দেখাতো না। পদুয়াসহ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মধ্যে বিএসএফ বাড়াবাড়ি শেষ পর্যন্ত বেশি দুরে এগোয়নি। একই বিএসএফ বর্তমানে অনেক বেশি বেপরোয়া। এর কারণও আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি। দেশের মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে নিয়ে আমরা তৎপর হচ্ছি না। এ অবস্থার সুযোগ নিয়েই বিএসএফ তথা ভারত বুঝিয়ে চলেছে, ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ আসলে কাকে বলে! আমরা মনে করি, এমন অবস্থা চলতে পারে না। সরকারকে অবশ্যই প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, অপহরণ এবং গরু চুরির মতো ঘটনার জন্য ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানাতে হবে। ভারত সাড়া না দিলে এবং বিএসএফের জওয়ানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে সরকারকে সীমান্তের সুরক্ষার জন্য আরো তৎপর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : ব্যবসায়ী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫