ঢাকা, শনিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৯

উপমহাদেশ

আইএস জঙ্গিদলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালি!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৫ জানুয়ারি ২০১৬,মঙ্গলবার, ১৪:৪৪


প্রিন্ট
সিদ্ধার্থ। ছবি : টুইটারের সৌজন্যে

সিদ্ধার্থ। ছবি : টুইটারের সৌজন্যে

ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামের সংগঠনটি কট্টর ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সেই সংগঠনে পশ্চিমবঙ্গের এক বাঙালি হিন্দু সক্রিয় বলে খবর পাওয়া গেছে। কেবল সক্রিয় নয়, মানুষ হত্যায় সে সিদ্ধহস্ত। নাম সিদ্ধার্থ। তাকে নিয়ে কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এখানে তুলে ধরা হলো।


অচেনা বধ্যভূমি। পাঁচ ব্রিটিশ ‘চর’ নতজানু হয়ে বসে রয়েছেন। তাদের দোষ কবুলের পরে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে একের পর এক গুলি। মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে রক্তাক্ত শরীরগুলি। আইএস-এর সাম্প্রতিক এই ভিডিও-য় তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দুনিয়া জুড়ে। তবে, তার থেকেও বেশি তোলপাড় ওই হত্যাকারীদের মধ্যে থাকা এক আইএস জঙ্গিকে নিয়ে। প্রাথমিক ভাবে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের একটা অংশের ধারণা, তার নাম সিদ্ধার্থ ধর। জন্মসূত্রে সে ব্রিটিশ বাঙালি।
বেশ কিছু দিন ধরেই ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের নজরে ছিল সিদ্ধার্থ। পরে জেহাদি হিসেবে ২০১৪ সালে ব্রিটিশ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে যদিও জামিন পেয়ে যায় সে। আর তার পরেই সিরিয়া চলে যায় সিদ্ধার্থ। আইএস-এর সাম্প্রতিক ভিডিওটি ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের হাতে আসার পর থেকে তাঁরা সেটি খুঁটিয়ে দেখা শুরু করেন। ভিডিও-য় খাঁটি ব্রিটিশ উচ্চারণে কথা বলা জঙ্গির কথাবার্তা বেশ কয়েক বার পরীক্ষা করে দেখা হয়। পুরনো তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রাথমিক ভাবে তাঁদের ধারণা হয়, ওই কণ্ঠস্বর সিদ্ধার্থের।


সিদ্ধার্থের বোন কণিকা ধর
সূত্রের খবর, এর পর সিদ্ধার্থের বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন গোয়েন্দারা। তার বোন কণিকা ধরকে শোনানো হয় ওই ভিডিও-র অডিও অংশ। অডিও শুনে নিজের দাদার কণ্ঠস্বর চিনতে পারেন কণিকা। কিন্তু, এর পরেই ভিডিও দেখার পর স্তম্ভিত হয়ে যান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমে আমাকে অডিও শোনানো হয়। আমি নিশ্চিত হই ওটা ভাইয়ের গলা। কিন্তু, ভিডিও ক্লিপ দেখে আমি ধন্দে পড়ে যাই। এখন তাই পুরোটা নিশ্চিত হতে পারছি না।’’ আইএস জঙ্গি সংগঠনের একটা অংশও মেনে নিয়েছে, ওটা সিদ্ধার্থ ধরই। তদন্তের স্বার্থে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা প্রকাশ্যে যদিও কিছু বলতে চাইছেন না। তবে তাদের একটা অংশের দাবি, বেশ কিছু দিন আগে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান ধর্ম নিয়েছে সে। সিদ্ধার্থের বর্তমান নাম আবু রুমায়শা।

১০ মিনিটের ওই ভিডিও-য় কালো মুখোশে মুখ ঢাকা ওই ব্যক্তিকে খাঁটি ব্রিটিশ উচ্চারণে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। তার সামনে নতজানু হয়ে বসে রয়েছেন পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিক। আইএস-এর পুরনো ভিডিওগুলিতে যেমন দেখা গিয়েছিল, তেমনই কমলা রঙের পোশাক তাঁদের পরনে। তারা যে ব্রিটিশ সেনার ‘চর’, সে কথা তাদের দিয়ে কবুল করিয়ে নেওয়ার পরই ‘আল্লা হো আকবর’ ঘোষণা। তার পরই সিদ্ধার্থ-সহ পাঁচ জঙ্গি পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে নিরস্ত্র ওই পাঁচ ‘বন্দি’কে গুলি করে খুন করে।
ওই ভিডিওতে সিদ্ধার্থ ধর ডেভিড ক্যামেরনকে যথেচ্ছ হুমকি দেয়। এমনকী, ব্রিটেন দখল করার হুমকিও দেওয়া হয়। ভিডিওতে সিদ্ধার্থ বলেন, ‘‘আমরা জেহাদেই বিশ্বাস রাখব। ব্রিটেন দখল আমরা করবোই। তার পর শরিয়ত মেনে শাসন করব।’’ তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘বোকা’, ‘হোয়াইট হাউসের চাকর’, ‘খচ্চর’— এমন নানা শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই ভিডিও সম্পর্কে ক্যামেরনের মন্তব্য, ‘‘ভয়ঙ্কর ভিডিও! ওই জঙ্গি সংগঠন নিজেদের এলাকা হারাচ্ছে। মানুষের সহানুভূতি হারাচ্ছে। হারাচ্ছে পায়ের তলার মাটিও।’’
এই ভিডিও-র যদি এটা একটা অংশ হয়, তবে চাঞ্চল্যের অন্য অংশটি হল তার শুরুর দিক। ভিডিওটা শুরু হচ্ছে এক শিশুকে দিয়ে। সেনা পোশাক পরা বছর দশেকের ওই নাবালক। গাট্টাগোট্টা চেহারা, মাথাভর্তি তার কোঁকড়ানো চুল। মাথায় কালো ফেট্টি বাঁধা। যার মাঝে সাদা গোলাকার চাকতিতে আইএস-এর লোগো। আঙুল উঁচিয়ে সে ব্রিটিশ উচ্চারণে ইংরেজিতে বলছে, ‘‘ওখানে আমরা কাফেরদের হত্যা করছি।’’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫