ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ মার্চ ২০১৯

চট্টগ্রাম

‘নির্বাচন প্রকল্প’কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো

০৫ জানুয়ারি ২০১৬,মঙ্গলবার, ১৮:৫৪


প্রিন্ট

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম নগর বিএনপি’র সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণ যাতে ভোট দেয়া ভুলে যায় সেজন্য তাদেরকে ভোটের বাইরে রেখে ‘নির্বাচন প্রকল্প’কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। এই অনির্বাচিত সরকার, অনির্বাচিত সংসদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধভাবে সবাইকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এই অবৈধ সরকারকে রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। শিগগিরই আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর কাজীরদেউরীস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চাকসু এজিএস মাহবুবুর রহমান শামীম। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির’র সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন। বক্তব্য রাখেন সাইফুল আলম, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, জাহিদুল করিম কচি, ডাঃ খুরশিদ জামিল, নাজিমুর রহমান, কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, মোশাররফ হোসেন দিপ্তী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে আমীর খসরু বলেন, আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে জনগনের ভোটে তাদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই তারা নতুন ধরনের ‘নির্বাচন’ শুরু করেছে পরিকল্পিতভাবে জনগণকে ভোটের বাইরে রেখে কিভাবে নির্বাচিত হতে হয়। এটাই তাদের এখন একমাত্র প্রকল্প উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগনকে ভোটের বাইরে রেখে নির্বাচন প্রকল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। যাতে জনগণ ভোট দেয়া ভুলে যায়।
আমীর খসরু বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত এক শ্রেণীর সরকারী আমলা, একশ্রেণীর পুলিশ, এক শ্রেণীর র‌্যাব, এক শ্রেণীর বিজিবি। তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, যারা এই অবৈধ নির্বাচনের সাথে সকলের বিচার হবে। যেভাবে বিভিন্ন বিচার হচ্ছে সেভাবে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করে একজন একজন করে বিচার করা হবে। সেজন্য তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে এবং শাসনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি’র দিকে দেশের জনগণ তাকিয়ে আছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দিকে দেশের জনগণ তাকিয়ে আছে। কারণ দেশের জনগণের কারো ভোটাধিকার নাই। জনগণের বাকস্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সেন্সর করে সংবাদ পরিবেশন করতে হচ্ছে। সাংবাদিকরা সত্যিকার সংবাদ প্রচার করতে পারছেন না।
টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর টক শো এখন প্রক্সি শো-তে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ কেউ টকশো দেখে না। দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের অনেকেই এখন টকশোগুলোতে যাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, অনির্বাচিত একটি সরকার, অনির্বাচিত একটি সংসদ একের পর এক অন্যায় কাজ করেই যাচ্ছে। আর জনগণকে প্রতারিত করার জন্য গণতন্ত্রের কথা বলে, অথচ তাদের (জনগণের) ভোট কেড়ে নিয়েছে।
আমীর খসরু বলেন, বিগত উপজেলা নির্বাচনে জনগন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে বিএনপি প্রথম, জামায়াত দ্বিতীয় এবং আওয়ামী লীগের অবস্থান হতো তৃতীয়।
সমাবেশের প্রধান বক্তা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গণতন্ত্র হত্যা দিবস প্রমাণ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গনতন্ত্র রক্ষায় জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র দেশ থেকে নির্বাসিত। দেশে জনগণের ভোটাধিকার নেই, আছে শুধু স্বৈরাচারী শাসন, শুপ্ত হত্যা, নির্যাতন, মামলা-হামলা। জনগণ এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। যতদিন জাতীয়তাবাদী দল থাকবে ততদিন ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে জনগণের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের বারটা বাজিয়ে দিয়েছে। আজকের সমাবেশে জনগণের বাধ ভাঙা জোয়ার প্রমাণ করে দিয়েছে হামলা-মামলা করে বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫