ঢাকা, শুক্রবার,২৩ আগস্ট ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

১৫ জানুয়ারি ২০১৬,শুক্রবার, ১৯:১২


 ড. আবদুল লতিফ মাসুম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

প্রিন্ট

রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নির্দেশ করে- বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ। এই গতানুগতিক বিভাজনের বাইরে সমাজতাত্ত্বিকেরা আরো দুটো প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করতে চাইছেন। সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যমের গুরুত্বের কারণে একে অনেকে ফোর্থ স্টেট বা চতুর্থ অঙ্গ বলে অভিহিত করে আসছেন। আর প্রতিরক্ষার মতো অপরিহার্য অংশকে রাষ্ট্রের পঞ্চম অঙ্গ বলে অভিহিত করা যায়। কথিত অঙ্গগুলোর মধ্যে শাসন বিভাগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নির্ধারক। শাসন বিভাগের স্বাভাবিক প্রবণতা, সব ক্ষমতা করায়ত্ত করা। বিচার বিভাগ শাসন বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরতে চায়। আইনসভা এ উভয় ক্ষমতার উৎস হলেও বিচার বিভাগ কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনসভারও নিয়ন্ত্রক; বিশেষত সংবিধানের অভিভাবক, রক্ষক এবং চূড়ান্ত ব্যাখ্যার অধিকারী হিসেবে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিচার, শাসন ও আইন বিভাগ অপরিহার্য হলেও এগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ, সীমালঙ্ঘনের প্রবণতা রোধ তথা শাসনের ভারসাম্য বিধান একটি দুরূহ বিষয়। লর্ড ব্রাইস বলেন, ‘কোনো শাসনব্যবস্থার উৎকর্ষ বা উন্নতমান নির্ধারণের ব্যাপারে বিচার বিভাগের কর্মকুশলতা অপেক্ষা যোগ্যতর মানদণ্ড আর কিছুই নেই।’

আধুনিক সরকারব্যবস্থায় দলীয় সরকার মুখ্য ভূমিকা পালনের কারণে এবং শাসন বিভাগের ক্রমেই ক্ষমতা বৃদ্ধি রোধকল্পে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ‘সেপারেশন অব পাওয়ার্স’ বা ‘ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ’ নীতির কথা বলে আসছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘শাসনব্যবস্থার এ তিন ক্ষমতা একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা পরিচালিত হলে শাসনকার্যের নিপুণতা হ্রাস পেতে পারে।’ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রশ্নে মনীষী মন্টেস্কুর ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার ‘স্পিরিট অব লস’ গ্রন্থে বলেন, ‘যখন একই ব্যক্তি বা শাসকবর্গের হাতে আইন প্রণয়ন ও শাসন পরিচালনার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়, তখন নাগরিক স্বাধীনতা থাকতে পারে না’। ব্রিটিশ রাজনীতিক ব্লাকস্টোন মন্টেস্কুর এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘যেখানে আইন তৈরি করার ক্ষমতা এবং তা বাস্তবায়ন করা একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের হাতে ন্যস্ত থাকে, সেখানে জনগণের কোনো অধিকার থাকতে পারে না।’ লক্ষণীয়, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা তিন মনীষীই ব্যক্তি তথা ক্ষমতার কেন্দ্রিকতার ক্ষতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। প্রচলিত প্রবাদ বাক্যটি এরকম- ‘অ্যাবসুলেট পাওয়ার কারাপ্টস অ্যাবসুলেটলি’। এটা তখনই সম্ভব হয় যখন শাসন বিভাগ আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতার মালিক-মোক্তার হয়ে দাঁড়ায়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এসব নীতিকথা উল্লেখের কারণ হলো, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত ১০ জানুয়ারি প্রদত্ত এক বক্তৃতা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এখন শাসন বিভাগ আমাদের কাছ থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইছে। অতীতে আমরা দেখেছি যখনই এ ধরনের কিছু হয়েছে আইনজীবীরা সোচ্চার হয়েছেন। এখন যদি বিচার বিভাগের প্রতি শাসন বিভাগ, আইনজীবী মহল, বিচারপ্রার্থী প্রত্যেকের আঘাত আসে, তাহলে বিচার বিভাগকে রক্ষা করবে কে ?’ প্রধান বিচারপতির এ তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য এমন একসময়ে প্রকাশিত হলো, যখন সমগ্র বিচারব্যবস্থা নিয়ে নাগরিকসাধারণ যথার্থই উদ্বিগ্ন। নাগরিকদের মধ্যে এই ধারণা প্রবল যে- ক. বিচারব্যবস্থা ক্ষমতাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। খ. বিচারপতিদের অসহায়ত্ব অনুভূত হচ্ছে। গ. বিচারব্যবস্থা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে। সাধারণভাবে তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে বিচারব্যবস্থা ক্ষমতাসীন নেতৃত্ব, দল তথা কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়ে। বিচারপতিদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং আর্থিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত সরকারের অধীন হওয়ার কারণে বিচারব্যবস্থা সর্বাধিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না। বিচারপতিরা যখন তখন বিব্রতবোধ অথবা অপারগতা প্রকাশ করছেন। যেকোনো রাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশ যখন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত, তখন সাধারণ মানুষ নির্ভরতা ও আস্থার সঙ্কটে নিপতিত হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি শাসন বিভাগ ছাড়া অন্য আরো দুটো অংশ সম্পর্কে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, জেলা পর্যায়ে বিচারকার্যক্রম প্রায়ই প্রকাশ্যে অথবা অপ্রকাশ্যে তিনটি গ্রুপের চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রথমত, আইনজীবী সমিতিগুলো তাদের কোনো কোনো অন্যায় দাবি পর্যন্ত মেনে নেয়ার জন্য জেলা পর্যায়ের আদালত ও বিচারকদের প্রতি চাপ সৃষ্টি করছেন। দ্বিতীয়ত, সরকারি ব্যক্তি ও দল, বিশেষত পিপি বা সরকারি উকিলরা আইনবহির্ভূত দাবি ও কার্যক্রম গ্রহণ করছেন। তৃতীয়ত, অবৈধ শক্তি, অস্ত্র এবং অর্থের মালিকেরা সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শারীরিক আঘাত হেনে কার্যসিদ্ধি করতে চাচ্ছেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় আইনজীবীদের কাছে জানতে চাই, বার কাউন্সিল কি শুধু রাজনৈতিক সংগঠনের মতো ভোট চাওয়ার জন্য? জেলা আদালতগুলোয় যে অন্যায় আবদার হচ্ছে, সেগুলো আপনারা চোখ বুজে সহ্য করে যাবেন কি না।’ এ তো গেল নিম্ন আদালতের অবস্থা। উচ্চতর আদালতগুলোর অবস্থা কী রকম?

বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ১১ তে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে।’ এসব মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিচারব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়েছে। সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিচ্ছেদে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থাদির বর্ণনা রয়েছে। শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করার অঙ্গীকার রয়েছে ২২ অনুচ্ছেদে। বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ কার্যত, ‘কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’। বিষয়টিকে কাঠামোগত এবং ব্যবহারিক- এ দুই ভাগে ভাগ করে দেখা যায়। ১৯৭২ সালের সংবিধানের মাধ্যমে যে কাঠামোগত দৃঢ়তা উল্লেখিত হলো, পরবর্তীকালে সংবিধানের বার বার পরিবর্তনের ফলে সে কাঠামোর সামান্যটুকুই অবশিষ্ট ছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়, যারা এ কাঠামো নির্মাণ করেছিলেন তারাই দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বিনাবিচারে নাগরিকদের আটক রাখার জন্য ‘স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট’ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তারাই আবার মানুষের মৌলিক অধিকার রহিত করেন। ১৯৭২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করার জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন কোনো সরকারই করেনি। কথিত সামরিক বাহিনীর শাসনামলে অনেক খারাপ কাজের মধ্যে একটি ভালো কাজ, ওই পৃথকীকরণের স্বীকৃতি। ২০০৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করে এক আদেশ জারি করেন। সব সরকারের আমলে পৃথকীকরণের দাবিটি সবসময় উচ্চকিত ছিল। কিন্তু দল নির্বিশেষে সরকারগুলো এই পৃথকীকরণকে এড়িয়ে গেছে, সময়ক্ষেপণ করেছে এবং কার্যত কোনো অনুকূল ব্যবস্থা নেয়নি। অবশেষে ১৯৯৯ সালে ‘মাজদার হোসেন বনাম সরকার’ মামলার রায়ের ধারাবাহিকতায় সরকার ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ২০০৭ সালে এ সম্পর্কিত চারটি পৃথক পৃথক বিধিবিধান ঘোষিত হয়। মূলত তৎকালীন আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের চেষ্টায় অতটা অগ্রসর হওয়া গেছে। পরে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ওই আইনের কার্যকারিতাগুলো বহুলাংশে বিনষ্ট করেছে। এ কাঠামোগত বিশ্লেষণের পর ব্যবহারিক বিশ্লেষণে আসা যাক।

নাগরিকসাধারণের মধ্যে এ ধারণা ক্রমেই বদ্ধমূল হচ্ছে, বিচার বিভাগ আর স্বাধীন নয়। কাঠামোগত দুর্বলতা সত্যেও- ক. সরকারের সদিচ্ছা খ. প্রধান বিচারপতির দৃঢ়তা গ. বিচারকদের ব্যক্তিত্ব ঘ. আইনজীবীদের পেশাগত চাপ ঙ. সিভিল সোসাইটির সচেতনতা ইত্যাদি কারণে বিচার বিভাগ স্ব-স্ব দায়িত্ব পালনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, ততই জনগণের আশঙ্কা বাড়ছে। গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনকভাবে নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খুন, গুম ও মামলার আধিক্য জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বন্দুকযুদ্ধ, সন্ত্রাস দমন এবং পাল্টা হামলার নামে বিনাবিচারে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এটাকে আইনের ভাষায় বলা হয়, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগের যথার্থ ভূমিকা আশা করে নাগরিকসাধারণ। আইনজীবী সমাজ অভিযোগ করছে, বিচার বিভাগ ন্যক্কারজনকভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা সাম্প্রতিককালে নিয়োগ করা বিচারকদের নিয়ে বিতর্কের অবতারণা করেছেন। এমনকি আদালতের রায় সরকারি ব্যক্তি দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে তারা আদালতের সুরক্ষা পাচ্ছেন না এবং তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন- এরকম অসংখ্য অভিযোগ বিরোধী দলের। হাইকোর্টে অনেক জামিন পেলে তাও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকারি পক্ষ। উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হচ্ছে, জনস্বার্থে নির্দেশনা দেয়া। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় নির্দেশনা দিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের উষ্মা পেলেও খুশি হয় সাধারণ মানুষ। উচ্চ আদালতকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগেকার ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ বিলুপ্ত হয়েছে। এ আইনের কার্যকারিতার মাধ্যমে কার্যত বিচার বিভাগের ওপর শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো। বিরোধী রাজনীতিকেরা বলছেন, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে।’ সরকারপক্ষ বিপরীত কথা বলছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, জনগণ ও বিচার বিভাগের কল্যাণেই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি খোলাখুলি যেভাবে শাসন বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তা নাগরিকসাধারণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগের ক্ষমতা যদি কেড়ে নেয় শাসন বিভাগ, তাহলে নাগরিকসাধারণের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এবং দেশে আইনের শাসন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। প্রধান বিচারপতি এর প্রতিকারের উপায়ও বাতলে দিয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় আইনজীবীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুধু আইনজীবী নয়, বিচার প্রার্থীদেরও যে ভূমিকা আছে, প্রকারান্তরে সেদিকেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। সুতরাং সিভিল সোসাইটি এবং নাগরিক সাধারণকে তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

স্বাধীন বিচার বিভাগ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মৌলিক বৈশিষ্ট্য। স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও স্বকীয় বিচার বিভাগ নাগরিক স্বাধীনতারক্ষার চাবিকাঠি। বিচার বিভাগ যদি শাসন বিভাগের কাঠামোগত ও ব্যবহারিক হস্তক্ষেপে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারে তাহলে আমাদের রক্তার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়বে। ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কেঁদে মরুক’- এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। মনীষী বেকন বলেছেন, ‘বিচারকদের ওপর যদিও সিংহাসনের ছত্রছায়া থাকবে, তবুও তাদের বিচারকার্য সম্পাদনে হতে হবে সিংহের মতো।’ বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র বা সরকারের যথার্থ রূপ অনুধাবন করা যায়। নিষ্ঠুর বা বেআইনি আচরণ বিচারব্যবস্থার প্রতি নাগরিকসাধারণের বিরূপতা সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক জীবনপদ্ধতি রচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধু অপরিহার্যই নয়, বরং ন্যায় ও অন্যায় বিভাজনের নিয়ামক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে একটি জনপ্রিয় গান এরকম : ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এই জনতা, এই জনতা’।

লেখক : অধ্যাপক , সরকার ও রাজনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫