Naya Diganta

পদ্মা সেতু অর্থায়নে রিজার্ভ ৩ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা

আশরাফুল ইসলাম

০৬ জানুয়ারি ২০১৬,বুধবার, ০০:০০


পদ্মা সেতু অর্থায়নসহ যেকোনো ধরনের চাপ মোকাবেলা করতে চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে বাজার থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ দেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে দুই হাজার ৭০০ কোটি ডলার। এ রিজার্ভ দিয়ে বর্তমানে ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। কিন্তু সামনে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করা হবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে। এর বাইরে প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের অফশোর ব্যাংকিং ও বায়ার্স ক্রেডিটের দায় পরিশোধ হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বৈদে্িযশক মুদ্রার ঝুঁকি মোকাবেলারও কর্মপরিকল্পনাও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে আইএমএফের কর্মপরিকল্পনা ছিল একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ রাখতে হবে। এখন তা পরিবর্তন করে পাঁচ মাস করা হয়েছে। সব মিলে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে তিন হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হলে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। আর এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে তিন হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বিনিয়োগ মন্দার আশীর্বাদ : গেল বছরের প্রথম তিন মাস এক টানা দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল ছিল। ওই সময় বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে গিয়েছিল। এর পর থেকে বিনিয়োগ আর স্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে না। বরং ব্যাংকে নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ের মাধ্যমে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করে তা আর কাজে লাগাতে পারছে না। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ডলার কাজে লাগাতে না পারলে নিজেদের কাছেও নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ধরে রাখতে পারে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করবে দিন শেষে তার মোট মূলধনের ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বেশি নিজেদের কাছে ধরে রাখতে পারে না। নীতিমালা অনুযায়ী এ কোঠার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকলে তাকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বিক্রি করতে হবে। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে চাহিদা না থাকলে বা বিক্রি করতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে হবে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের কোনো চাহিদা নেই। প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই উদ্বৃত্ত ডলার রয়েছে। নতুন কোনো বিনিয়োগ নেই। এ কারণে বৈদেশিক মুদ্রারও চাহিদা কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলার বিক্রি করতে না পারায় বাধ্য হয়ে ব্যাংকগুলো তার অতিরিক্ত ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০ কোটি ২৫ লাখ, পরের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৪৮ কোটি ৪২ লাখ ডলার, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরের অর্থবছরে ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫১৫ কোটি মার্কিন ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদায়ী অর্থবছরেও অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনে ৩৭৫ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে ডলার কিনেছে ২০০ কোটি ডলারের ওপরে। বাজার থেকে ডলার কেনায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ভাণ্ডার স্ফীত হতে সহায়তা করে। অর্থাৎ রিজার্ভ স্ফীত হবে আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দেয় বিনিয়োগ মন্দা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, যে হারে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হচ্ছে এটি অব্যাহত থাকলে আর রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ের প্রবাহ কাছাকাছি থাকলেও বছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন হাজার কোটি ডলার উন্নীত করা অসম্ভব হবে না।

 

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫