ঢাকা, শুক্রবার,২৯ মে ২০২০

উপসম্পাদকীয়

বাংলাদেশ ব্যাংক : অবিশ্বাসের পারদ চড়ছে

গৌতম দাস

১৩ মার্চ ২০১৬,রবিবার, ১৮:২৩


গৌতম দাস

গৌতম দাস

প্রিন্ট

কথিত হ্যাকিং ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের, মানে রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রায় এক বিলিয়ন ডলার (৯৫ কোটি ডলার) আর একটু হলে পুরোটাই বেহাত ও লোপাট হতে যাচ্ছিল। অর্থ লোপাটের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল পুরো অর্থের ওপর। তবে বলা হচ্ছে, চোরের ভুলে আর আমাদের কপালের জোরে তা ব্যর্থ হয়ে গেছে। তবুও এ যাত্রায় এর প্রায় ১০ শতাংশ অর্থ বা ১০১ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিতরূপে হাতছাড়া হয়ে গেছে। যার মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পাচার হওয়া ২০ মিলিয়ন চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও তা শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দখলে ফেরত এসেছে নাকি আসেনি, নাকি শ্রীলঙ্কান অথরিটির কর্তৃত্বের বাইরে চলে গেছে, এ নিয়ে দু’রকম খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার যেটা ফিলিপাইনে পাচার হয়ে গিয়েছিল, তা চিহ্নিত করা ও উদ্ধারের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। অবশ্য প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলা হচ্ছে। এসব মিলিয়ে সারা দেশের মানুষের মনে ‘দেশের অর্থ সুরক্ষিত নেই’ এমন এক সেন্স কাজ করছে পাঁচ দিন ধরে। আমরা এখন জানতে পারছি, অর্থ লোপাটের ঘটনাটি এক মাসেরও আগের, গত ৪ ফেব্রুয়ারির। কিন্তু প্রায় এক মাস বিষয়টি সম্পর্কে সরকারকে না জানানো হয়েছে, না মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণের কাছে স্বীকার করা হয়েছে। সে কারণে গত ২ মার্চ বাংলাদেশের দৈনিক বণিক বার্তায় ফিলিপাইনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারারের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি নিউজ ছাপা হয়েছিল। এর গুরুত্ব সে দিন বোঝা যায়নি। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের কথা এ খবরে ছিল না। ইনকোয়ারারের সে প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছিল, ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এ অর্থ জমা হয় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে (আরসিবিসি)। প্রবাসী ফিলিপিনোদের রেমিট্যান্স স্থানান্তরকারী সংস্থা ফিলরেমের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যাংকের মাকাতি সিটি শাখায় জমা হয়। ব্যাংকের একজন শাখা ব্যবস্থাপক এ কাজ করেছেন।’ ইতোমধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারির যে টাকা লোপাট হয়ে গেছে, সে সম্পর্কেও এই খবরের পরিপ্রেক্ষিতেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কিছুই বলা হয়নি। স্বীকার করা হয়নি। ওই একই খবরে ‘বণিক বার্তা’ লিখেছিল, ‘এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক ও অপারেশনাল হেড দেবপ্রসাদ দেবনাথ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরাও বিষয়টি জেনেছি। তবে আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য এখনো আসেনি। জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থপাচারের বিষয়ে তদন্ত চলছে, শেষ হলেই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।’ সবচেয়ে বড় কথা, ফিলিপাইনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারারে লেখা হয়েছিল, ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এ অর্থ জমা হয় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে (আরসিবিসি)।’ অর্থাৎ ওই রিপোর্টে এই অর্থ কার? রাষ্ট্রীয় অর্থ, না বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাকাউন্টের অর্থ, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে তা জানত এবং জানা সত্ত্বেও সে কথা জনগণকে জানায়নি। এর আরো পাঁচ দিন পর ৭ মার্চ সব ফাঁস হয়ে যায়। স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা এবং সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবরে বিস্তারিত এসে যায়। এ দিন সকাল থেকেই এসব খবর শহরের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংক এক মাস ধরে এ ব্যাপারে যেমন করে লুকিয়েছে, একইভাবে ‘তদন্ত চলছে, তাই কিছু বলা যাচ্ছে না’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিকেলের দিকে তা আর পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে স্বীকার করে নিয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ যা আমেরিকান ফেডারেল ব্যাংকের নিউ ইয়র্ক শাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে রাখা আছে, অর্থ সেখান থেকেই লোপাট হয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছিল, এই টাকা হ্যাকিং হয়েছে। কিন্তু হ্যাকিং কোথা থেকে কোন প্রান্তে, বাংলাদেশ ব্যাংকের না নিউ ইয়র্ক প্রান্তে, তা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। ইতোমধ্যে এক মাস হয়ে গেলেও হ্যাকিংয়ের পক্ষে প্রমাণ বা তথ্য তারা জোগাড় করেননি। ফলে বাংলাদেশের এই স্বীকারোক্তি রয়টার্স তার নিউজে ছাপামাত্র এবার আমেরিকান ফেডারেল ব্যাংক পাল্টা বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকিংয়ের দাবি অস্বীকার করে উড়িয়ে দিয়েছে। দাবি করে বলেছে, তাদের সিস্টেমের কোথাও হ্যাকিং ঘটেনি। ফলে তাদের প্রান্তে কোনো ব্যত্যয় না হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে কোনো দায়দায়িত্বও নিতে তারা অস্বীকার করেছে। তাদের সার যুক্তি, যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে আমেরিকান ফেডারেল ব্যাংকের প্রান্তে রেগুলার যেভাবে ইলেকট্রনিক নির্দেশ যায়, তেমন নির্দেশেই টাকা ট্রান্সফার করতে বলা হয়েছিল; ফলে সে অর্থ ট্রান্সফার হয়ে যায়। ব্যাপারটি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে মোট ৩৫টি নির্দেশ গিয়েছিল। কিন্তু পঞ্চম নির্দেশে গরমিল থাকায় সেটা আটকে যায় এবং সন্দেহ হওয়াতেই পঞ্চম নির্দেশসহ বাকি নির্দেশগুলো আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফেডারেল ব্যাংক সেই সন্দেহের কথা বাংলাদেশ ব্যাংকে তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিয়েছিল। এর অর্থ দাঁড়াল, বাংলাদেশ ব্যাংক এরপর এক মাসের বেশি সময় পাওয়ার পরও কিভাবে ওই নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে ফেডারেল ব্যাংকে গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কে বা কারা এর জন্য দায়ী, তা তদন্ত ও হদিস করতে পারেনি বা করেনি। শুধু তাই নয়, এত বড় ঘটনাটি সরকারকেও জানায়নি। সোজা কথায় বললে, এক মাসেরও বেশি সময় পাওয়ার পরও এটা যে ‘হ্যাকিং’, এই দাবি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে স্বভাবতই নিউ ইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংক এর দায়দায়িত্ব নিতে অথবা এটা হ্যাকিং বলে স্বীকার করতে রাজি হয়নি। এক মাস বাংলাদেশ ব্যাংকের সার তৎপরতা হলো, কেবল শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে যে অর্থ চলে গেছে, তা উদ্ধার করা যায় কি না সে চেষ্টা করা।
এটা আজ স্পষ্ট, হ্যাকিং প্রমাণের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত এক মাসে কিছুই করেনি। যা কিছু করা হচ্ছে তা হচ্ছে এখন; বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ায় ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর। এমনকি, বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুই নিশ্চিত নয় যে, তিন স্টাফ যারা নিয়মিত নির্দেশ পাঠানোর জন্য সম্মিলিতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারাসহ আর কোনো স্টাফের এই তথাকথিত হ্যাকিংয়ে ভূমিকা কী, জড়িত নাকি জড়িত নয়, হলে কে কতটা- এসব নিয়ে কিছুই জানা নেই তাদের।
বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রের তথা জনগণের মালিকানাধীন হলেও সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের মতো সরাসরি তত্ত্বাবধান ও নির্দেশে চলে- এমন প্রতিষ্ঠান নয়। বহু বিষয়ে (যেমন- মুদ্রানীতি কী হবে) নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এই প্রতিষ্ঠান তুলনামূলকভাবে নিজে একক সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার ভোগ করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এত বড় একটা জালিয়াতির কথা সরকারকে না জানিয়ে নিজের প্রাপ্ত ও ভোগ করা স্বাধীনতা ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চয়ই এমন অধিকার পেয়ে যায়নি যে, জনগণ তথা সরকারের কাছে জবাবদিহিতা থেকেও স্বাধীন হয়ে গেছে। এটা হতে পারে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ ধরনের একটা দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক রুটিনের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল এবং তা বাংলাদেশ ব্যাংক করেছে কি না। তারা যা করেছেন, তা কেবল টাকা উদ্ধারের একটু চেষ্টা আর মুখরক্ষার প্রয়াস। সেটাও তারা ঠিকমতো করতে পারেননি। কারণ তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই যে, এটা হ্যাকিং হলে তা কোন প্রান্তে হয়েছে আর তাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিজস্ব কর্মচারীদের কার কী ভূমিকা ছিল। অথচ পুরো এক মাস সময় নষ্ট করার পর এমনকি গত ৭ মার্চের পর সপ্তাহ ঘুরতে চলল; কিন্তু এখন কী করবে তা-ও যেন বুঝে উঠতে পারছে না।
এই এক সপ্তাহের পত্রিকা এবং সামাজিক মিডিয়া কথিত হ্যাকিং ইস্যুতে সরগরম। এর মধ্যে তথ্যের চেয়ে গুজব বেশি। এর মূল কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক মুখ খুলতেই চায় না। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা তলানিতে ঠেকেছে।
ক্ষমতাসীনদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের রাজনীতি আর ভারতের সুজাতা সিংয়ের ‘সাংবিধানিক প্রয়োজনেই’ তাতে প্রকাশ্য সমর্থনের কারণে অবস্থা এখন এমন যে, অনেকেই যেকোনো কিছুতেই ভারতের হাত দেখছেন এবং সন্দেহ-অবিশ্বাস ছাড়িয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। ১১ মার্চ ইত্তেফাক লিখেছে, “বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ হ্যাকের সময় বন্ধ ছিল দু’টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। ঘটনার সময়কালে সংঘটিত লেনদেনের লগ তথ্যও গায়েব। কারা কম্পিউটার ও সার্ভারে প্রবেশ করেছে কিংবা ব্যবহার করেছে, সে সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি আইডি শনাক্ত করা গেলেও পুরো লগ তথ্য উদ্ধার করা যায়নি।” ১৩ মার্চের প্রথম আলো লিখেছে, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে এই ‘ফরেনসিক’ তদন্তের কাজটি করছে বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বে একটি দল।” ১২ মার্চের যুগান্তর লিখেছে, ‘‘ভারতের ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিকস ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিশ্বব্যাংকের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাবেক উপপ্রধান রাকেশ আস্তানা এ তদন্তে সহযোগিতা করতে ‘ফায়ারআই’কে নিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে। রাকেশ আস্তানা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শক। তার নেতৃত্বে ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্সের একটি ফরেনসিক তদন্ত দল এ ঘটনার তদন্ত করছে।”
এসব কথা কতটা সত্য-মিথ্যা, তা বোঝার কোনো সুযোগ নেই। প্রধান কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের মিডিয়া এড়িয়ে চলা এবং সেই সাপেক্ষে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ইতিবাচকভাবে কোনো অগ্রগতি হলেও এর বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবে তা জনমনে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।
ব্যাংকিং- বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনার জন্য আজকালকার দিনে কেবল ব্যাংকিং বিষয়ে জানাশোনা ও পেশাগত দক্ষতাই যথেষ্ট নয়। সাথে কম্পিউটার টেকনোলজি-বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা প্রায় সমান প্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। ফলে এ দুই দক্ষতার স্টাফের সমন্বিত গুরুত্ব দিতে একটা ডেপুটি গভর্নর পদ টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের হতে পারত। ফলে বাইরে থেকে কনসালট্যান্ট নেয়ার ঝুঁকি এবং মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা ধকল পোহাতে হতো না। এত বড় এক দুর্ঘটনার পর দিক হারিয়ে বাইরের কনসালট্যান্টের পরামর্শমুখী হতে হতো না।
ইংরেজি শব্দ ন্যাশনাল কি পয়েন্ট (National Key Point) বলে একটা ধারণা আছে। এর সারার্থ হলো, রাষ্ট্রীয় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে সাদা চোখে দেখে এর তেমন প্রতিরক্ষা গুরুত্ব নেই মনে হলেও আসলে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিরক্ষা কৌশলগত গুরুত্ব থাকতে পারে। যেমন- ওই প্রতিষ্ঠান কিছুক্ষণ বা দিনের জন্য অচল হয়ে পড়লে জাতীয়ভাবে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারি। যেমন- যমুনা ব্রিজ সাদা অর্থে অসামরিক এক স্থাপনা। কিন্তু ওই স্থাপনার গুরুত্ব হলো, কোনো অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতায় এর সাময়িক বা স্থায়ী ক্ষতি করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়া সম্ভব। ফলে যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব থাকে, সেগুলো সুরক্ষার আয়োজন করা জরুরি। ফলে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানকে National Key Point বলে ঘোষণা করে থাকে, যাতে যেকোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠানের অপারেশনের বাইরেও ওইসব প্রতিষ্ঠানে বাড়তি নিরাপত্তাবিষয়ক পালনীয় কিছু বাধ্যতামূলক করণীয় ওই প্রতিষ্ঠানের অপারেশনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। যেমন- ওই প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটার নিয়ম, কোথায় কোথায় প্রবেশের কী নিয়ম, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথম অবশ্যকরণীয় কী ইত্যাদি। অর্থাৎ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতোই এ প্রতিষ্ঠানেও সবই করা যাবে; সাথে কেবল একটা বাড়তি ধারণা ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’-এর সাপেক্ষে।
বাংলাদেশ ব্যাংককে তেমনই এক ন্যাশনাল কি পয়েন্ট ঘোষণা করা থাকলে এরপর এর সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স সাপেক্ষে যেকোনো ধর্মের, যেকোনো দেশের নাগরিক যে কাউকে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট করতে পারবে, এই নিয়ম মেনে চললে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। কারণ বিদেশী সফটওয়্যার ও টেকনোলজি আমাদের লাগবেই। আবার দেশী লোক হলেই তার ওপর চোখ বন্ধ করে আস্থা রাখা যাবে- এ কথারও কোনো যুক্তি নেই। প্রথম আলোতে লেখায় সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনও আকার-ইঙ্গিতে সম্ভবত সে কথা ভেবেই ‘নজরদারির কথা’ তুলেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে কী হচ্ছে, এই সন্দেহ-অবিশ্বাস অনাস্থা দূর করতে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫