ঢাকা, শুক্রবার,২৯ মে ২০২০

উপসম্পাদকীয়

ম্যানেজমেন্ট না বুঝে সস্তা আবেগচর্চার অগ্রাধিকার

গৌতম দাস

২০ মার্চ ২০১৬,রবিবার, ১৮:৩২


গৌতম দাস

গৌতম দাস

প্রিন্ট

গভর্নর আতিউর রহমানের পদত্যাগ সরকারকে ভালো ধরনের রিলিফ দিয়েছে বোঝা যাচ্ছে। অর্থ চুরি হয়ে যাওয়ার ব্যর্থতার দায়ভার এখন এক কর্মচারীর, ঠিক সরকারের নয়- এমন একটা ভাব তৈরি হয়েছে। পদত্যাগী গভর্নর পদত্যাগের ঠিক আগে এবং পদত্যাগপত্র হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে যাওয়ার আগে নিজের গুলশানের বাড়িতে কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে কথা বলেন। তার ওই কথোপকথনের পুরোটা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছে। এতে এটা পাঠ করে কিছু তামাশা উপভোগ করার জন্য আমাদের নিট একটা লাভ হয়েছে। তবে এটা পড়ে বিশ্বাস করা কঠিন যে, এর লেখক কোনো ব্যাংকের গভর্নর। আমরা চাই বা না চাই, অর্থ বা ব্যাংক এগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় আমাদের আবেগশূন্য বাস্তবতা, চুলচেরা হিসাবের লোক হতেই হয়। নইলে অর্থ বা ব্যাংক এসব ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের অযোগ্যতার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে। অথচ পদত্যাগ হাতে থকথকে আবেগে চুবানো এক মানুষকে আমরা সেখানে পাই, যিনি নাকি আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন।

এককালে অফিস কর্মী হিসেবে কারো নিজ অফিসকে ‘সন্তান জ্ঞান করে তিলে তিলে গড়ে তোলার’ কথা বলা, কিংবা ‘আমি বাংলাদেশের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করতে পারি না। দেশটা আমার মায়ের মতো। এই মায়ের জন্য আমি সাতটি বছর আমার সংসারের দিকে তাকাইনি, কোনো দিকে না তাকিয়ে নিজের কাজ করেছি’- এমন কথা বলা কিংবা ‘আমার অফিস আমার সন্তানের চাইতেও বেশি। আমি আমার সন্তানদের সময় দিইনি, বাংলাদেশ ব্যাংককে সময় দিয়েছি, কর্মীদের স্বার্থ দেখেছি। দেশটাকে উন্নত করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করেছি’ ইত্যাদি কথা শুনলে মনে করা হতো আমরা নিশ্চয়ই খুব ডেডিকেটেড সর্বস্বতাগী ঈমানদার কোনো কর্মচারীর কথা শুনছি। কিন্তু একালের জগতের বাস্তবতায় আমরা বুঝে গিয়েছি ওগুলো ছিল আসলে চরম অদক্ষদের কথা; ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যাদের কোনো ধারণা নেই এমন ‘অচল মালের’ ডিপো যারা, তারা তাদের অযোগ্যতার ‘অচল মাল’ চালাতে এমন আবেগ ছড়াতেন। নিজেদের অকর্মন্নতা ঢাকতে এভাবে সস্তা আবেগি কথা বলতেন। কারণ ঠাণ্ডা মানে সুস্থির মাথায় চিন্তা করলে আমরা প্রত্যেকে বুঝব, কাজকাম পেশা হিসেবে অফিসের পাশাপাশি প্রত্যেক মানুষেরই নিজের ব্যক্তিগত জীবন উপভোগের দরকার আছে। সুস্থ থাকার জন্য এটা দরকারি। আর অফিসে মনোযোগ ঘটিয়ে ঠিকঠাক কাজ করার জন্য এটা খুবই পূর্বশর্ত ধরনের প্রয়োজনীয়। ফলে কাউকে যদি সর্বক্ষণ অফিসের কাজে মেতে থাকতে হয়, এর মানে হলো অফিসে সে নিজের কাজ নিজে গুছিয়ে করতে জানে না। ফলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় বলে তার কাজ বেড়ে যায়। আর সেজন্য সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। এ ছাড়া এর আর অর্থ ও লক্ষণ হলো, তার মানে তিনি কাজ ভাগ করে দেয়া, আবার কাজ হয়েছে কি না তা অধস্তনদের থেকে বুঝে নেয়া- এটা পারেন না, দক্ষ নন। এ ছাড়া সম্ভবত কাজের জন্য তিনি অধস্তনদের হাতে প্রয়োজনমাফিক ক্ষমতা কর্তৃত্ব ডেলিগেট বা হস্তান্তর করেন না; চান না বা জানেন না। তা না দিয়ে সব ক্ষমতা (ফলে সব কাজ) নিজের হাতে রেখে দেয়ার ফলে নিজেই এমন দুর্দশা ও সমস্যা তৈরি করে রেখেছেন বলে মনে করা হয়। এসব বিচারে এককথায় বললে, একালে ম্যানেজমেন্ট না জানা থাকলে অফিসকে ‘মা মনে করা’, ‘সন্তান মনে করা’, ‘আমি আমার সংসারের দিকে তাকাইনি সাতটি বছর’, ‘ছুটি নেই নাই সাত বছর’ ইত্যাদি ধরনের এসব সস্তা আবেগের কথা তোলা ব্যক্তির দেখা পাওয়া যায়। এরা আসলে চরম অদক্ষ, অযোগ্য ও অচল। ওপরের কোটেশনের বাক্যগুলো গত ১৫ মার্চের বিডিনিউজ২৪-এর ভাষায় পদত্যাগী ‘গভর্নর আতিউরের বিদায় ভাষণ’ থেকে তুলে আনা। একালের ম্যানেজমেন্ট ধারণা এসব বাক্য শুনে নিশ্চিত হয়ে বলবে, পদত্যাগী গভর্নর ব্যবস্থাপনা ধারণার দিক থেকে তিনি চরম অদক্ষ ও অচল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ফলে কোন প্রতিষ্ঠান কী, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কী- এসব সম্পর্কে কোনো প্রাথমিক ধারণাও ছিল না।
কিন্তু মজার কথা হলো, ওই একই ‘বিদায় ভাষণের’ শেষে ওই ব্যক্তিই একেবারে নির্জলা কিছু ব্যক্তিস্বার্থের কথা বলেছেন। ব্যক্তিস্বার্থে নির্লজ্জ হওয়া বলতে যা বুঝায় তাই। বিডিনিউজ২৪ আমাদের জানাচ্ছে- ভারত থেকে ফিরে আগের রাতে অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে আতিউর রহমান বলেন, ‘হয়তো আমার এক্সিটটা আরো ভালো হতে পারত। যদি একটা সংবর্ধনা দিয়ে... (হাসি) বিদায় করলে গত সাত বছরের কষ্ট খানিকটা লাঘব হতো। (মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার) সময়ও তো বেশি বাকি ছিল না। মাত্র তিন-চার মাসের মতো ছিল। এর মধ্যে রিজার্ভের নিরাপত্তার কাজগুলো এগিয়ে নেয়া যেত। নতুন একজনের তো এই বিষয়গুলো বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। যা হোক, এখন আর আমি সেগুলো ভাবছি না। মানসম্মান নিয়ে বিদায়ই নিতে চাচ্ছি। এই ব্যাখ্যাগুলো দিয়েছি যেন দেশবাসী আমাকে ভুল না বোঝে।’ একটা কথা আছেÑ চলতে মাতাল, কিন্তু তালে ঠিক। ব্যাপারটা যেন তাই। এতক্ষণ বিদায় ভাষণে আতিউর নিজের এক স্বার্থভোলা দেশপাগলের ইমেজ খাড়া করলেন। আর সব কথার শেষে ঠিকই নিজে টনটনে স্বার্থ হাজির করলেন। তার সংবর্ধনার কী হবেÑ এই হলো তার মুখ্য চিন্তার বিষয়। আবার এমন দুঃখ কারো মনে হলে আর কী করা যাবে! কিন্তু সেই দুঃখ তিনি জনগণকে জানাচ্ছেন কেন? নিজের মনে রেখে দিলে কী হতো? আর যদ্দুর জানা যায়, তিনি তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত থাকার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইতোমধ্যে রেখেছিলেন এবং প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তাহলে জনগণকে জানানোর অর্থ কি এই নয় যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নালিশ করছেন! আগের বিদায় ভাষণে তিনি আমাদের জানিয়েছিলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর নীতিতে বিশ্বাস করি। তাকে শ্রদ্ধা করি। তার নির্দেশিত পথে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সাতটি বছর সর্বক্ষণ গাইড করেছেন, প্রটেক্ট করেছেন, প্রতিটি সঙ্কটে তিনি আমার পাশে ছিলেন।’ তাহলে? দেখা যাচ্ছে, এসব ছিল নেহায়েতই বঙ্গবন্ধুর নামে চিল্লা দেয়া আর নাম বেচার আদিখ্যেতা। আসলে তিনি ব্যক্তিস্বার্থের ব্যাপারে খুব টানটান টনটনে।
প্রথম আলোর সাথে এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিস্বার্থের চিন্তাসর্বস্ব আতিউর দাবি করছেন এবং গোঁয়ার্তুমি ও ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলছেন, ‘আগে জানালেও পরিস্থিতি বদলাত না।’ অর্থাৎ তিনি চুরির ঘটনা ঘটার মাসখানেক পরে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীকে জানানোকে তার সঠিক সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছেন। তাই দাবি করছেন, ‘আগে জানালেও পরিস্থিতি বদলাত না।’ প্রথম কথা হলো, পরিস্থিতি বদলাত কিংবা বদলাত নাÑ এই প্রশ্ন অবান্তর। কারণ প্রশ্নটি আসলে অথরিটির। আতিউর ধরে নিয়েছেন তিনি সবচেয়ে বড় অথরিটি। নির্বাহী প্রধানের চেয়েও বড় কিছু। সর্বক্ষণ জনগণ জনগণ আউড়ানো আতিউর এবার নিজেকে এমন একমাত্র অথরিটি ঠাউরেছেন। তিনি ভুলে গেছেন জনগণের তরফে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে নির্বাহী প্রধান এই চুরির ঘটনা শুনে কী ব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত নেবেন, এটা একান্তই প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীর এখতিয়ার। এবং একই সাথে এটা জনগণের কাছে তাদের নিজ নিজ দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। অথচ আতিউর নিজেই নিয়ন্ত্রণ ও ঠিক করে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী চুরির ঘটনা শুনে কী ব্যবস্থা নেবেন। এই কথা বলে তিনি আসলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, ক্ষমতার শেয়ার নিতে গেছেন। যেন ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউরই প্রধানমন্ত্রী কী করবেন তা ঠিক করে দেবেন। অথচ একটা সাদা চোখেই দেখা যায়, সরকার ও মন্ত্রণালয় ঘটনা জানার পর কী ব্যবস্থা নিচ্ছে। অন্তত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এর আগে আতিউর তো একটা মামলা পর্যন্ত দায়ের করেননি। তিনি নিজেকে এমনই সর্বেসর্বা মনে করেন। এসব করে তিনি শুধু নিজের দায়িত্বে অবহেলা করেছেন তাই নয়, তিনি সরকারের স্বাভাবিক কাজেও বাধা সৃষ্টি করে ফেলেছেন। তার আত্মগরিমা এতই ভয়ঙ্কর।
প্রথম আলোর সাথে সাক্ষাৎকারের ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরের কেউ জড়িত আছে কি না’ এমন প্রশ্নোত্তরে পদত্যাগী গভর্নর জানাচ্ছেন, ‘লেনদেনের প্রক্রিয়াটিও ঠিক করা দরকার। আমরা যে আদেশ দিলাম, আর সাথে সাথে অর্থ পরিশোধ করা হয়ে গেল, এটা বদলানো দরকার। আমরা এরই মধ্যে তা করেও ফেলেছি। আদেশ যাবে, তারপর ই-মেইলে আবার তা যাবে, সবশেষে ফ্যাক্সেও যাবে। সবগুলো মিললে তবেই অর্থ পরিশোধ করা হবে, এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ এর মানে তিনি নিজে স্বীকার করছেন, আগের ব্যবস্থায় ব্যাংকের কাছে পাওনাদার কারো নামে অর্থ পরিশোধ বা লেনদেন হস্তান্তরের ব্যবস্থাটিই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তাই সেটা এখন তিনি বদলের কথা বলছেন। তাহলে আগে কেন সেটা ক্ষতিয়ে দেখেননিÑ এই গাফিলতির প্রশ্ন এখানে আছে দেখা যাচ্ছে। আগের ব্যবস্থাটি আসলে একটা অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ছিল, যেখানে তিন অনুমোদিত ব্যাংকের স্টাফের হাতের ছাপ পাঠিয়ে অর্থ হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়া হতো। যেটা তিনি এখন ম্যানুয়াল করে ফেলেছেন। এর অর্থ, কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে অটোমেটেড সিস্টেমে তা তৎক্ষণাৎ পরিশোধের সুবিধা থাকা আগেও তেমন কোনো জরুরি বিষয় ছিল না। তার চেয়েও বড় কথা, এই সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ভোগ করতে গিয়ে একে অনিরাপদ করে ফেলা হয়েছিল। সেদিকে গভর্নর বা ব্যাংক-প্রতিষ্ঠানের এমন একজনকেও পাওয়া যায়নি যিনি নজর দিয়েছেন, বিচার করে দেখেছেন এই অনিরাপদ দিকটি। এটা যে অনিরাপদ তা বোঝার জন্য কাউকেই আইটি টেকনিক্যাল জানার কোনো প্রয়োজনই নেই। বরং তিনটি ব্যাংক কর্মচারীর হাতের ছাপ দিয়ে তবেই এই স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম থেকে অর্থ বের হয় কেবল এ দিকটা জেনেই তারা সবাই বুঁদ হয়ে ছিলেন। অথচ ব্যাংকের কেউই নিরাপত্তার দিকটি চিন্তা করেননি। এতে ব্যবস্থাটির যে অনিরাপদ দিক তা কেউ খেয়াল করেননি। এ ছাড়াও মূলত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকাই তাদের জন্য অ্যাসেনশিয়াল ছিল না। স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে তিনটি ব্যাংক কর্মচারীর হাতের ছাপ ব্যবস্থার বদলে ম্যানুয়ালে ‘আদেশ যাবে, তারপর ই-মেইলে আবার তা যাবে, সবশেষে ফ্যাক্সেও যাবে’Ñ এ ব্যবস্থা হলেও চলত।
আবার একটা মজার দিক হলো, নিউইয়র্ক থেকে অর্থ চুরি হয়ে বের হয়ে যাওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বা দুই দিন পরে একমাত্র গভর্নরসহ ব্যাংকের সবাই টের পেয়েছেন যে অর্থ বের হয়ে গেছে। আজকাল অনেকে নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, বাংলাদেশের যেকোনো সাধারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডার নিজ অ্যাকাউন্টের সাথে নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়ে রাখলে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটার সাথে সাথে একটা স্বয়ংক্রিয় এসএমএস অ্যাকাউন্ট মালিকের কাছে আসে। অথচ ওই তিন স্বাক্ষরধারী বলছেন, আটচল্লিশ ঘণ্টা ধরে তারা জানতেই পারেননি এর মধ্যে নিউইয়র্কের অ্যাকাউন্টে কী চলছে, কী হচ্ছে। কারণ ওই ব্যবস্থায় অর্থ বের হয়ে গেলে সে মেসেজ পাওয়ার ব্যবস্থাটায় মেসেজ কেবল অফিসে এসেই দেখা যায়। এমন ব্যবস্থায় অ্যাকাউন্টটি যে অরক্ষিত অনিরাপদ হয়ে থাকছে, এটা জানা ও বুঝে ফেলার জন্য টেকনিক্যাল লোক হওয়ার কোনো দরকার নাই। যে কেউ এটা বুঝতে পারে। অথচ কেউ এ দিকটি খেয়াল করেনি। তার মানে বাংলাদেশের জনগণের অর্থসম্পদ যা আবার দু-এক টাকা নয়, তা হাতের ছাপধারী ওই তিন ব্যাংক কর্মচারী হাতের ছাপ দিয়েই নিশ্চিত বসে থাকতেন। তাদের হাতে যে বাংলাদেশের বহিঃরাজকোষ, যার দায়দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকলে তো ৪৮ ঘণ্টা ওই অ্যাকাউন্টে, ওখানে কী হয়েছে তা না জেনে কারো সুস্থির থাকতে পারার কথা নয়। আর এই ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় যদি রাখতেই হয় তবে তারা তিনজনই যেন সর্বক্ষণ তা দেখতে পান, এমন ব্যবস্থা চাইতেন। যেমন এই ব্যবস্থা করতে ওই তিন কর্মীকে সরকারি বিশেষ মোবাইল অ্যাসাইন করে দেয়া যেত, যেখানে ওই মেসেজ যেন আসে সে ব্যবস্থা করা যেত। টেকনিক্যালি অনেক কিছু করা অবশ্যই যেত। কিন্তু মূল সমস্যা হলো, গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মচারীদের কেউই ওই ব্যবস্থায় নিরাপত্তার দিকটি পরখ করেননি, গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি, দু’দণ্ড চিন্তা করেননি। সবচেয়ে বড় গাফিলতির দিকটি হলো এটাই। অথচ একটা ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি সিস্টেমের মধ্যে নিরাপত্তার দিকটি পরীক্ষা ও নিশ্চিত করার আলাদা বিভাগ থাকার কথা। তাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো সিস্টেম চালু ও কার্যকর থাকারই কথা নয়। ম্যানেজমেন্ট জানা-বোঝার বদলে সস্তা আবেগ বিক্রিতে ওস্তাদ পদত্যাগী গভর্নর এসব দিক জানতেন, খেয়াল নজর ছিল এমন হদিস প্রমাণ জানা যায় না। জনগণ আবেগ বিক্রেতার পাল্লায় পড়েছে। ‘বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণের’ নামে আতিউর রহমান আমাদের ‘আবেগি বোকা’ বানানোর চেষ্টা করছেন। 

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫