ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৮ মে ২০২০

মাহে রমজান

তাকওয়া অর্জনের পথ ও পন্থা

রওশন আখতার

১৬ জুন ২০১৬,বৃহস্পতিবার, ১৫:৫৩


প্রিন্ট

রমজান এমন একটি নেয়ামতের মাস যে ব্যক্তি এ সময়কে আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যবহার করবে সেই নাজাত পাবে

পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মতো তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। আশা করা যায় তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হবে।’
এ আয়াত দ্বারা যেমন রোজা ফরজ হওয়ার আদেশটি জারি হয়েছে, তেমনি তাকওয়ার অধিকারী অর্থাৎ আল্লাহ্ভীতির বিষয়টিও উল্লিখিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহর ভয় কেন নির্দিষ্টভাবে আসছে রোজার সাথে। ইসলামের অন্য রুকনগুলো বাহ্যিকতায় পরিদৃষ্ট। যেমন- সালাত মসজিদে গিয়ে পড়তে হয়; লোকে দেখে। ঘরে পড়ে, ঘরের লোকেরা দেখে। অর্থাৎ সালাত দৃশ্যমান। জাকাত অথবা দান যদি অত্যন্ত গোপনেও কাউকে দেয়া হয় তবু যে লোকটিকে দেয়া হচ্ছে কম হলেও সে জানবে। হজ লাখ লাখ লোকের সাথে পালন করতে হয়। এ-ও দৃশ্যমান। কিন্তু রমজানের রোজা এমন একটি ইবাদত যা শুধুই আল্লাহর জন্য। রোজাদার লুকিয়ে খেতে পারে অথবা পান করতে পারে। কিন্তু সে তা করে না। কারণ সে আল্লাহকে ভয় করে। তাঁর নিষেধকে সর্বান্তকরণে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিপালন করার চেষ্টা করে। কেন? আল্লাহ দেখছেন; এ বিশ্বাস, এ অনুভূতি তাকে খাওয়া থেকে বিরত রাখে। যারা তাকওয়াতে দুর্বল তারা রোজা রাখার মাধ্যমে একটু একটু করে তাকওয়ার শক্তি অর্জন করতে থাকে। শেষে কামিয়াবি হয় অর্থাৎ দোজখ থেকে পরিত্রাণ এবং বেহেশতে প্রবেশের মতো ঈমান ও আমল হাসিল করে নেয়।
বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, জিবরাঈল আ. বলেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি যে রমজানের মতো মোবারক মাস পেল আর তার গোনাহ্ মাফ হলো না। রাসূলুল্লাহ সা: এ কথার ওপর আমিন বলেছেন।
সূরা বাকারার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর ভূপৃষ্ঠে তোমাদের কিছুকাল অবস্থান করতে হবে এবং ফায়দা উঠাতে হবে এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত।’ অর্থাৎ রমজান এমন একটি নেয়ামতের মাস যে ব্যক্তি এ সময়কে আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যবহার করবে সেই নাজাত পাবে অর্থাৎ ভয়ঙ্কর দোজখ থেকে পরিত্রাণ এবং চির শান্তিময় বেহেশতে দাখিল হতে পারবে। অর্থাৎ আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারবে। সুতরাং, যে এ মাসটিকে ব্যবহার করতে পারল না সে যেন ধ্বংসই হয়ে গেল। আর যে এ মাসটিতে নিজ তাকওয়া বৃদ্ধি করতে নিরন্তর চেষ্টা চালাতে থাকে সেই হয় কামিয়াবি।
আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ১৬৮ ও ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; বাস্তবিকই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো তোমাদের তাই শিক্ষা দেবে যা মন্দ ও অশ্লীল।’
এ মাসটিতে যেহেতু মানবের শত্রু শয়তান শৃঙ্খলিত থাকে সেহেতু আল্লাহর নির্দেশিত কাজ করার প্রচেষ্টায় কামিয়াবি হওয়া সম্ভব, তাকওয়া বৃদ্ধি করা সম্ভব। যার মধ্যে যত বেশি তাকওয়া থাকবে সে তত বেশি মন্দ ও অশ্লীল কাজ থেকে দূরে থাকতে পারবে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারবে।
এ মাসটিতে দিনে রোজা ও রাতে ইবাদতের মাধ্যমে কামিয়াবি হাসিলের প্রচেষ্টা চালায় রোজাদার। আবার দান, সদকা, জাকাত দিয়ে নিজ মালকে তথা নিজ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। তথাপি কামরিপু দমন, নেশা থেকে ফারেগ হওয়া, মন্দ ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা, গীবত, পরনিন্দা ও পরচর্চা থেকে এড়িয়ে চলার নিরন্তর প্রচেষ্টাই একজন রোজাদারকে তাকওয়া অর্জনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়, যাতে সে কামিয়াবির রাজপ্রাসাদে সহজেই প্রবেশ করতে পারে।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫