ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৮ মে ২০২০

মাহে রমজান

হাইকোর্ট মাজারে পাগল ফকির ধনী গরিব সবার একত্রে ইফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জুন ২০১৬,শনিবার, ১৪:৩৮


প্রিন্ট

ফকির-মিসকিন, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু-পাগল সবাই ইফতার করেন হাইকোর্ট মাজার মসজিদে। রমজানের বিকেলে হাইকোর্ট মাজার মসজিদ অন্যরূপ নেয়। প্লাস্টিকের পাত্রে ইফতার সামনে নিয়ে শত শত মানুষ একত্রে ইফতারে বসে যান। আল্লাহর দরবারে হাত তোলেন। হে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করো। রোজা কবুল কর, গুনাহ মাফ কর।

আর রোজার এক মাস ফকির মিসকিনরা মাজারের আশপাশে থাকেন। এখানে তারা সন্ধ্যায় ইফতার করেন। আর রোজার দিনে মানুষ দান খয়রাতের হাত বাড়িয়ে দেয়ায় এই মাসে তাদের ভালো আয় হয়। নেত্রকোনার বৃদ্ধা জুলেখা (৬৫), দেলোয়ারা (৭৫) গত ১০ বছর ধরে রমজানের সময় মাজারে থাকেন। সারা দিন এখানে ভিক্ষা করেন এবং সন্ধ্যা ও রাতের খাবার মাজারেই সারেন। মাজারের পাশে মহিলাদের নামাজের জায়গা আছে। সেখানে নামাজা পড়ে রাতও সেখানে কাটিয়ে দেন।
দরবারে হজরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী রহ: (ওরফে বাবা ওলি বাংলার এই) হাইকোর্ট মাজারে রমজান মাসে এ রকম শ’ শ’ দরিদ্র, ফকির, পাগল, দরবেশ এবং বাবা ভক্ত অবস্থান করেন।
গতকাল সরেজমিন দেখা গেল বড় বড় ডিসে ইফতার আইটেম সাজানো হয়েছে। ইফতারের আইটেম বলতে যা বোঝায় তার সব আইটেমই এখানে থাকে। মুড়ি, ছোলা, চিড়া, পিঁয়াজু, বেগুনি, খেজুর, জিলাপি, শরবত কলা, শসা, মাল্টা, আপেলসহ বিভিন্ন প্রকার ফল।
প্লাস্টিকের একটি মাঝারি আকারের ডিসে চার থেকে পাঁচজন একত্রে বসে ইফতার করেন। সাথে একটি জগে রুহ আফজার শরবত থাকে এবং চার পাঁচটি প্লাস্টিকের গ্লাস থাকে। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় ৪০০ থেকে প্রায় ৪৫০ প্লাসটিকের বলে ইফতার সাজানো হয়। আর এ ইফতার খান প্রায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার পাঁচশ’র বেশি মুসল্লি।
বাবা ওলি বাংলার মাজার মসজিদে ইফতার সামগ্রীর কমতি নেই। মুসল্লি ও ওলি ভক্তরা এসব ইফতার সামগ্রী দান করেন। প্রতিদিন যে পরিমাণ ইফতার আসে সেই পরিমাণ বিতরণ করা হয়। প্রতি নিয়ত মাজারে আসছে ইফতারের উপকরণ। মূলত পিরের ভক্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাজারে ইফতারসামগ্রী পাঠান। রোজার এক মাসের প্রয়োজনীয় মুড়ি, ছোলা, খেজুর, আপেলসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী মাজারে মজুত রয়েছে।
হাইকোর্টে মাজারের সিনিয়র মাজার সহকারী নুরুল হক বর্তমাসে অসুস্থ।
মাজার মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম হাফেজ আবদুল কাদের জানান, মুসল্লি ও ওলি ভক্তরাই পাঠাচ্ছেন এসব ইফতার উপকরণ। তারা শুধু বিতরণ করছেন। তিনি জানান, মাজার মসজিদের ইফতারে প্রতিদিন ৭০ কেজি মুড়ি, ৬০ কেজি খেজুর, ৬০ কেজি ছোলা বুটসহ বিভিন্ন ফল এবং বিরানি দেয়া হয়। আগত মুসল্লিরা তা তৃপ্তি সহকারে খান।
মাজারে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্যও রয়েছে ইফতারের বিশেষ ব্যবস্থা। ইফতার বোঝাই হাইকোর্ট মাজার মসজিদের মধ্যে এ ব্যবস্থার পাশাপাশি মসজিদের বাইরে পাগল-ফকিরদের জন্যও রয়েছে ইফতারের ব্যবস্থা। তাদের জন্য কাপড় বিছিয়ে প্লেটে করে ইফতার দেয়া হয়।
মাজার বক্তদের অনুদানে ইফতারের সংগ্রহ হিসেবে রয়েছে পুরো এক মাসের মুড়ি, ৪০ বস্তা ছোলা বুট, ২০ বস্তা চিনি, অর্ধ শতাধিক টুকরি খেজুরসহ বিভিন্ন প্রকার ফলসহ নানা সামগ্রী। মাজারের খাদেম জানান, এখানে প্রতিদিন এক ড্যাগ বিরানি রান্না করা হয়। এতে প্রায় আধা মণ খাসির গোশত এবং এক মণ পোলায়েরও চালসহ বিভিন্ন উপকরণ থাকে। ইফতারের সাথে সবাইকে এই বিরানি খেতে দেয়া হয়। তবে দান অনুদান বেশি থাকলে বিরানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হয়।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫