ঢাকা, বুধবার,০৩ জুন ২০২০

মাহে রমজান

বগুড়ায় ইফতারির অন্যতম আকর্ষণ সাদা দই

আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া অফিস

২০ জুন ২০১৬,সোমবার, ১৭:১৬


প্রিন্ট

বগুড়ার রোযাদারদের কাছে ইফতারির অন্যতম আকর্ষণ সাদা দই । তাই সারাদিন রোযা রাখার পর ইফতারির সময় সাদা দইয়ের ঘোল পান করে শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছেন।
বগুড়ায় খাবারের সাথে দইয়ের প্রচলন অনেক পুরনো। ভোজ উৎসবসহ পারিবারিক যেকোনো ধরনের আপ্যায়নে খাবারের সাথে দই রাখা হয়। এ ছাড়া স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে মিষ্টি, ফলমূলের সাথে উপহার হিসেবে দই নেয়া হয়। তাই রমযান মাসেও দইয়ের চাহিদা রয়েছে। অন্য মাসে দই খাবারের শেষে খেতে দিলেও রমযান মাসে সাদা থেকে ঘোল তৈরি করে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন রোযাদাররা। তাই রমযান মাসে চাহিদা বেড়েছে সাদা দইয়ের। বগুড়ার দই শুধু দেশে নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক সমাদৃত। তাই বগুড়া শহরকে দই’র শহরও বলা হয়।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বগুড়া শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা সদরে প্রথমে দই উৎপাদন হয়। ১৯ শতকের ৬০-এর দশকের দিকে গৌর গোপাল পাল নামের এক ব্যবসায়ী প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে সরার দই তৈরি করেন। তখন দই সম্পর্কে সবার ভালো ধারণা ছিলো না। গৌর গোপালের এই দইই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাব পরিবার ও সাতানী পরিবারের কাছে এ দই সরবরাহ করতেন গৌর গোপাল। সে সময়ে এই দইয়ের নাম ছিল নবাববাড়ীর দই। নবাবী আমলে বিশেষ খাবার ছিল এই দই। তাই এখনো বিশেষ খাবার হিসেবে স্থান ধরে রেখেছে দই। বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা, আকিকা হালখাতা বা পারিবারিক যেকোনো অনুষ্ঠানে দই বিশেষ খাবার হিসেবে পরিবেশিত হয়ে থাকে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে দই অভিজাত খাবার হিসেবে পরিবেশিত হচ্ছে প্রায় দেড় শ’ বছর ধরে।
সারা বছরই দুই প্রকার দইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অন্যান্য দিনের চেয়েও কোনো কমতি নেই রমজান মাসেও। চলতি রমজান মাসেও ইফতার সামগ্রীতে দই অন্যতম হয়ে উঠেছে। প্রচন্ড গরমে সারা দিন রোজা পালন শেষে ইফতারে পিপাসা পেটাতে সাদা দই দিয়ে ঘোল অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তাই সাদা দইয়ের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। রমজান মাসে দুপুরের পর থেকে শহরের দইয়ের দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের ভাড়ের সাদাদই (চিনিছাড়া) কিনতে মানুষ ভীড় করে। বিকেলের মধ্যেই সাদা দই শেষ হয়ে যায়। সাদা দইয়ের সাথে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি দইও। দইয়ের দোকানে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় সাদা দই বিক্রি হচ্ছে। আর ফুটপাতে আকার ভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকায় সাদা দই বিক্রি হচ্ছে।


বগুড়া শহরের এশিয়া সুইটমিট ও দই ঘর, চেলোপাড়ার কুরানু, নবাববাড়ীর রুচিতা, কবি নজরুল ইসলাম সড়কের আকবরিয়া, মিঠাই, বিআরটিসি মার্কেটে রফাত দইঘর, দইবাজার, মিষ্টিমহল, সাতমাথায় দইঘর, মহরম আলী, শেরপুর দই ঘর, বাঘো পাড়ার রফাই দই , চিনিপাতাসহ অর্ধশত শো রুমে দই বিক্রি হচ্ছে। আবার শহরের বাইরে বাঘোপাড়ার রফাত দই ঘর, শেরপুরের রিপন দধি ভান্ডার, সাউদিয়া, ফুডভিলেজ দই, জলযোগ, বৈকালী ও শুভ দধি ভান্ডার থেকে প্রতিদিন প্রচুর দই বিক্রি হয়। এসব দইয়ের দোকানগুলোতে রোজাদার ব্যক্তিরা ইফতারের জন্য সাদা দই কিনছে। এ ছাড়া গাবতলী ও ধুনটের সাদা দইয়ের খ্যাতি রয়েছে। তাদের দই শহরের আনাচে কানাচে বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদার বিপরীতে সাদা দই ক্রেতাদের মাঝে সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫