ঢাকা, বুধবার,০৩ জুন ২০২০

মাহে রমজান

ইফতার বাজার

শওকত আলী রতন

২০ জুন ২০১৬,সোমবার, ২০:২৭


প্রিন্ট

রাজধানীর ইফতার বাজারগুলোর মধ্যে ঐতিহ্যের দিক দিয়ে পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতারের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। এবারো রমজানে চকবাজার এলাকায় গেলে শোনা যাবে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যান এভাবেই চিরচেনা সুরে ডাকছেন। আর ক্রেতারা তাদের ডাকে সারা দিয়ে ভিড় করছেন চকবাজারের ইফতারের দোকানগুলোতে। পুরান ঢাকার ঐহিত্যবাহী ও খানদানি ইফতারের টানে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন এই চকবাজারে। মানুষের হই চই, বাহারি ইফতারির আয়োজন, ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় আর বিকিকিনিতে রোজার প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে ইফতারবাজার।

পুরান ঢাকার খাবার ছাড়া যেন অনেকের ইফতার আয়োজন সম্পন্ন হয় না। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে যান বিশেষ দোকানগুলোতে। দুপুরের পর থেকেই চকবাজারের শায়েস্তা খানের আমলের শাহী মসজিদের সামনের রাস্তার জাগয়াজুড়ে ছোট বড় অসংখ্য ইফতারির আয়োজন নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। রোদ বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে আগে থেকেই প্রস্তুতিসহ দোকান তৈরি করে থাকেন এখানাকার দোকানিরা। জানা যায়, এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলে আসছে চকবাজারের ইফতার বাজার। পুরান ঢাকার ইফতার বাজারের মধ্যে বড় বাপের পোলায় খায় একটি বিশেষ খাবার। খাসির রান দিয়ে তৈরি খাবারটি এই এলাকার মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। রমজান ছাড়াও এই খাবারটির বেশ চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া সুতি কাবাব, জালি কাবাব, মুঠি জালি কাবার, নারগি চাপ, শাক ফুলুরি, টিকা কাবাব, ডিম চপ, কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, দই বড়া, হালিম, নুরানি লাচ্ছি, পনির, পেস্তা বাদামের শরবত, লাবাং, পরটা, ছোলা, পিয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, শাহী জিলাপি ও বোম্বে জিলাপির কদর রয়েছে সমানভাবে। এ ব্যাপারে কথা হয় মনির হোসেন নামে একজন ক্রেতার সাথে। ঢাকা কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে আসা তিনি জানান, সারা দেশের ইফতার বাজারের চেয়ে ইফতার কদর অনেক আগে থেকেই। গুনে মানের দিক থেকে এখানকার ইফতার অতুলনীয়। তাই সবার কাছে সমান গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
বড় বাপের পোলায় খায় এই খাবারের আইটেমটি পুরান ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল মাহমুদ নামে একটি ব্যক্তির সৃষ্টি। যিনি কামেল মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন। নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করতেন তিনি। প্রায় ৭০-৭৫ বছর আগে তিনিই প্রথম এই খাবারটি তৈরি করেন বলে জানা যায়। পাকিস্তান আমলে এর নাম ছিল সিক চূড়ায় ভর্তা। স্বাধীন বাংলাদেশে এর নাম হয়েছে বড় বাপের পোলায় খায়।
ইফতারি আয়োজন এখন আর পুরান ঢাকার চকবাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লালবাগ, ওয়ারী, টিকাটুলী, নারিন্দা, ধোলাইখাল, সদরঘাট, নওয়াবপুর, বংশলা, বাবুবাজার, নয়াবাজার এলাকায় বিস্তৃতি রয়েছে বাহারি ইফতারি। এ ছাড়া রাজধানীর বেইলি রোড, শুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায়গুলোতে এখন পুরান ঢাকার আদলে ইফতারি তৈরি করছে। রমজান মাসের প্রথম থেকেই এসব অভিজাত এলাকায় হোটেল রেস্তোরাঁর সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেন থাকে। আবার কেউ কেউ বিশেষভাবে দোকানগুলোর সামনে কাপড়ের গেট তৈরি করেন। বর্তমানে সারা দেশেই রেস্তোরাঁর সামনে ও ফুটপাথে টেবিলে সাজিয়ে শুরু হয়েছে নানা রকম ইফতার বেচাকেনা।
রাজধানীর ঢাকার ইফতারি গুনে মানে স্বাদে গন্ধে অতুলীয়। তাই দাম একটু বেশি হলেও এর চাহিদা রয়েছে। তাই দুপুরের পর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে ইফতারির দোকানগুলোতে। আর এখানকার ক্রেতারা বছরের একটি মাসের জন্য অপেক্ষায় থাকেন সারা বছর। রমজান এলেই বিকিকিনিতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটান এসব দোকানিরা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫