ঢাকা, সোমবার,২৫ মে ২০২০

মাহে রমজান

ঈদ মহা আনন্দের আয়োজন

আল মাহমুদ

০৩ জুলাই ২০১৬,রবিবার, ১৭:৩২


প্রিন্ট

ঈদ আমাদের মুখে হাসির আলোকছটা ছড়িয়ে দিতে এসেছে। ঈদের কথা শুনলেই মনটা কেমন যেন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। অথচ এর সাথে লেগে থাকে অনেক বিষণ্ন ঘটনাও। তবুও আমরা ঈদের নতুন গান গেয়ে উঠি। আনন্দ ও উল্লাস ছড়িয়ে দাও আমাদের মনেপ্রাণে এবং জীবনে। শতুমি যখন এসেছ তখন আমরা নতুনের গান গাইব। এবং হাতে হাত ধরে না হয় একটু নেচেই উঠব। আমাদের জীবনে যদিও আনন্দ অপেক্ষাকৃত কম, তবুও ঈদ আমাদের প্রাণে আনন্দের উদ্ভাসন ঘটাক। আমরা তো হাসতে চাই, নাচতে চাই, গাইতে চাই। সবার মধ্যে ছড়িয়ে যেতে চাই। আমরা জানি, আমাদের জীবন অতটা সুন্দর না হলেও আমাদের প্রাণে ঈদের আনন্দ দোলা দিয়ে যাক; এটা কি আমরা চাইতে পারি না। আমরা নাচব, গাইব। আনন্দে অন্তত একটা পূর্ণ দিবস পালন করব। এতে দ্বিধা কার? না, সবাই পুলক চায়। প্রসন্ন হাসি ও প্রাণের, গানের খুশির ফোয়ারা বইয়ে দিতে চায়।

আমরা ভুলে যেতে চাই আমাদের জীবনে অভাব আছে, অনটন আছে। আমরা খুশি যে, জগৎ, হে আমাদের পৃথিবী আমাদের জন্য আনন্দ ও উল্লাসের আয়োজন করো। আমরা বাঁচতে চাই। আমরা গাইব সেই গান, যা প্রাণকে জাগিয়ে তোলে। মানুষকে উঠে দাঁড়ানোর সাহস দেয়। আমরা সমস্ত বিষাদ-বেদনা ঝেড়ে ফেলে অন্তত ঈদের আগমনকে অভিনন্দন জানিয়ে খুশিতে-হাসিতে ভরিয়ে দিতে চাই। আমরা ভুলে যেতে চাই আমাদের বিষাদ ও বেদনাকে। আমরা সবার সাথে নেচে-গেয়ে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ঈদকে স্বাগত জানাতে চাই।
ঈদ সবার প্রাণেই দোলা দিয়ে যাক। নতুন আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে জীবনের জয়ধ্বনি বেজে ওঠুক আমাদের প্রাণে। আমরা তো কোনো দুঃখ, বেদনা, বিষাদকে মনের ভেতর ধরে রাখতে চাই না। আমরা আহ্বান জানাতে চাই সুখ শান্তি প্রেম ভালোবাসা এসব মানবিক আয়োজনকে। অন্তত ঈদেরদিন আমরা মুখ গোমড়া করে বসে থাকব কেন?
আমরা আনন্দ উল্লাসে পুলকের শিহরণে মেতে উঠতে চাই। আমরা গাইতে চাই এমন গান, যা এ দেশের সব নরনারীর প্রাণে আনন্দের দোলা ও শিহরণ বইয়ে দেবে। আমরা খুশি, এ কথাটি জানিয়ে দিতে হবে সবাইকে। শুধু না পাওয়ার কথা বলব কেন, বরং যা পেয়েছি তার প্রাচুর্য আমাদের উদ্ভোদিত করুক। আমরা বাঁচার জন্য সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে একসাথে দাঁড়িয়ে গেয়ে উঠব । প্রাণে প্রাণে দোলা লাগুক। গানে গানে ছড়িয়ে যাক আমাদের হাসির শব্দ। আমরা নিজেদের নানা স্বপ্নে আশায় আন্দোলনে ভরিয়ে তুলব। আমরা আমাদের বিশ্বাসকে প্রার্থনায় পরিণত করে বলব- এসো হে ঈদ আমাদের প্রাণে আনন্দ উল্লাসের ফোয়ারা ছড়িয়ে দাও। খুশির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে। প্রত্যেক নরনারীর হৃদয়ের মাঝখানে। আমাদের বাণী হলো প্রেম-ভালোবাসা এবং একটি মাত্র গানের কলি- ‘সবাই মিলে গান ধরেছি/প্রেমের মতো আর কিছু নয়’। এই বাণী আমাদের জীবনে সত্য হয়ে ওঠুক।
মানুষের জীবন আনন্দ-বেদনায় পুলকে শিহরণে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গড়িয়ে বইতে থাকে। সে সুখ খুঁজতে খুঁজতে যেখানে উপস্থিত হয় সেখানে অনিবার্যভাবে বেদনারও সাক্ষাৎ পায়। কেবল সুখের মধ্যে কারোরই জীবনের প্রশান্তি পরিতৃপ্তি ঘটে না। তাকে দুঃখের চেহারা, বিষাদের দু’টি কালো নয়ন কোনো না কোনোভাবে দেখতে হয় জীবন হয়তো এরই একটি নামমাত্র দুঃখ। চাই বা না চাই সে আসে এবং মৃদু হেসে আমাদের পাশে বসে থাকে। বলে, আমি তো ঝগড়া করতে আসিনি। আমি এসেছি কেবল দেখতে। দুঃখ-সুখ এবং শোকের একটা সম্মিলন ঘটাতে। আমি বসে থাকব পাশে। কাউকে কিছু না বলেই শুধু হাসব। এতেই আমার মধ্যে এবং আমার প্রতিবেশী সবার মনে জেগে উঠবে মৃদু হাসির তরঙ্গ।
আমি তো বলেছি ভালোবাসাই একমাত্র শক্তি, যা মানুষের সমস্ত অমঙ্গলকে ঢেকে দিয়ে হাসির তরঙ্গ তলে বয়ে যেতে পারে। আমাদের জীবন হলো এমনিতেই একটু দুর্ভাবনাপূর্ণ। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো সবার ওপরে মানুষের জীবনধারণের উৎসাহ, সাহস ও হাস্যোজ্জ্বল মুখোচ্ছবি। আমরা বাঁচি সুখের জন্য। কিন্তু অবিমিশ্র সুখ বলে কিছু নেই। বেদনা আছে। বিষাদ আছে। বিচ্ছেদ আছে। সর্বোপরি আছে প্রেমের বন্দনা। প্রেমই মানুষকে বাঁচার উদ্দীপনায় সতেজ সচেতন এবং আনন্দঘন হাসি হাসতে সাহায্য করে। হাসো আর ভালোবাস। এটাই হলো নতুন মন্ত্র।
ঈদের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবার আয়োজন করতে হবে আমাদের। আনন্দ ভাগ করে নিতে হবে। এইতো ঈদের শিক্ষা। সবার মাঝে এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক এটাই ঈদের দিনে কামনা করি। ঈদ আমাদের ভালোবাসার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করে। জাগ্রত করে। ঈদ আমাদের মহা আনন্দের আয়োজন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫