ঢাকা, রবিবার,৩১ মে ২০২০

প্রকৃতি ও পরিবেশ

বিশ্ব জলাভূমি দিবস আজ

জলাভূমি না থাকলে শহরও বাঁচবে না

সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ

০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০৬:৪৭ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০৬:৫২


প্রিন্ট

নগরের পাশে জলাভূমির পরিমাণ কমে গেলে শহরও বাঁচবে না। সুস্থ থাকবেন না নগরবাসী। টিকে থাকবে না জীববৈচিত্র্য। জলাবদ্ধতা, দূষণসহ সব ধরনের দুর্যোগেও নগরজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই নগরজীবনে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে জলাভূমির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক খোন্দকার সাব্বির আহমেদ নয়া দিগন্ত প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, জলাশয় কমে যাওয়ায় ঢাকায় বিভিন্ন এলাকা একটু গরম পড়লেই বেশি তপ্ত মনে হচ্ছে। তিনি তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক গবেষণার উদ্ধৃতি টেনে বলেন, ১৯৯৫ সালে মতিঝিল ও তেজগাঁও এলাকা তপ্ত এলাকায় পরিণত হয়। ওই সমীায় দেখা গেছে, দেশের অন্য যেকোনো স্থানের চেয়ে ঢাকার তাপমাত্রা বেশি হারে বাড়ছে। কারণ এখানে অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে সবুজ ও জলাশয়ের পরিমাণ। ‘শহরের স্থানীয় জলবায়ু পরিস্থিতি ও বিদ্যুতের ব্যবহার’ শীর্ষক ওই সমীায় বলা হয়েছে অবশ্যই রাজধানী এমন গরম হয়ে যাওয়ার পেছনে জলাশয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি আরো অনেক কারণ রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে উঁচু ভবন নির্মাণ ও ভবনের মধ্যে উন্মুক্ত স্থান না থাকাও এর জন্য দায়ী।
এ দিকে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: আবদুল মতিন বলেন, মানবজাতির সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উদ্ভব হয়েছে প্রাকৃতিক জলাভূমি থেকে। জলাভূমিতে রয়েছে বিশাল প্রাণবৈচিত্র্য, জলজসম্পদ ও পাখিসহ অনেক প্রাণের আবাসন, সফল কৃষি-শিল্পসহ মানবজাতির বেঁচে থাকার সব প্রক্রিয়ার সহায়ক উপাদান এই জলাশয়। সারা বিশ্বের অনেক বিলুপ্তমুখী প্রাণী এখনো টিকে রয়েছে বিভিন্ন জলাভূমিতে। জলাভূমি হচ্ছে অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র থেকে বৃহদাকার জীব ও তৃণ-গুল্মাদির এক অভূতপূর্ব সহ-অবস্থানস্থল। শহুরে জলাশয়-খাল ভরাট করে সেখানে নির্মিত হচ্ছে অসংখ্য অট্টালিকা, এগুলো আজ অবিবেচক মুনাফা ও সম্পদলোভী নির্মাণ ব্যবসায়ীদের হিংস্র ছোবলের শিকার। ঢাকা মহনগরীর ভেতর ও বাইরের জলাশয় রক্ষার জন্য প্রণীত ‘ঢাকা বিশদ নগর পরিকল্পনা (ড্যাপ)’ বাস্তবায়ন শুরুর আগেই ঠেকিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে অবাধে চলছে জলাশয় ভরাট ও বাড়িঘর নির্মাণ। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে বাড়ির পাশের ছোটখাটো ডোবাগুলো আজ নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে।
যেভাবে জলাশয় কমে যাচ্ছে
বিশ্বে বর্তমানে এক হাজার ২৮০ মিলিয়ন হেক্টর জলাভূমি রয়েছে, যা ব্রাজিলের মোট আয়তনের অর্ধেক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩ ভাগ। আর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ভূমির ৭০ থেকে ৮০ হাজার বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকজুড়েই রয়েছে জলাভূমি। পুরো বাংলাদেশে কেন জলাশয় কমে যাচ্ছে তার তেমন কোনো গবেষণা না হলেও বুয়েটের অধ্যাপক ইশরাত ইসলামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৯ সালে রাজধানীর জলাভূমির পরিমাণ ছিল মোট ভূমির ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৯৯৯ সালে এসে তা ২৫ ও ২০০৫ সালে তা কমে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত রাজধানীতে প্রতি বছর ৫০২ হেক্টর করে জলাভূমি কমেছে বলে তার গবেষণায় উঠে এসেছে। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জলাভূমি কমার পরিমাণ এক হাজার ৯২২ হেক্টর। আর ২০১২ সাল পর্যন্ত জলাভূমির পরিমাণ কমেছে বছরে আড়াই হাজার হেক্টর। এখন জলাভূমির পরিমাণ মোট ভূমির মাত্র ১০ শতাংশ। এ দিকে ঢাকার কৃষি ও জলাভূমির বিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিস বিসিএএস একটি গবেষণায় সর্বশেষ দেয়া তথ্যে ১৬০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রাজধানীর ভূমির পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এতে দেখা গেছে, আশির দশক পর্যন্ত রাজধানী বিস্তৃত হচ্ছিল বুড়িগঙ্গার পূর্ব ও উত্তর দিকে। রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বাড্ডা, সাঁতারকুল, খিলতে, রামপুরা, দণি ও উত্তরখানের বেশির ভাগ এলাকা একসময় জলাভূমি ছিল। যার ৯০ শতাংশ বর্তমানে বালু দিয়ে ভরাট করে আবাসিক এলাকায় পরিণত করা হচ্ছে।
আজ বিশ্ব জলাভূমি দিবস
আর এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এবারে ‘বিশ্ব জলাভূমি দিবস’ স্লোগান নির্ধারিত হয়েছে ‘দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে জলভূমি’। এ উপলে আজ থেকে ‘তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর এবং ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘জল ও জনের গল্প’ শিরোনামের এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন ফজলে হাসান আবেদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বীরপ্রতীক ও সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫