ঢাকা, মঙ্গলবার,৩১ মার্চ ২০২০

অ্যাথলেটিকস

বিদায়বেলায় বোল্টের বিজয়

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১১ জুন ২০১৭,রবিবার, ১৫:১৮


প্রিন্ট

জ্যামাইকার মাটিতে শেষ দৌড়টি দিয়ে ফেললেন গতি মানব উসাইন বোল্ট। আর এর মাধ্যমে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বোল্ট ভক্তদের কাছ থেকে পেয়েছেন আবেগঘন বিদায়। বিদায়বেলায় অবশ্য নিজের ফেবারিট ইভেন্ট ১০০ মিটারে শেষবারের মত বিজয়ীর মুকুটটাও মাথায় নিয়ে গেছেন। ২০০২ সালে এই ট্র্যাকেই ওয়ার্ল্ড জুনিয়র আসরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করা বোল্টকে বিদায় জানাতে ৩০ হাজার ভক্ত-সমর্থকও যেন আবেগে মুষড়ে পড়েছিল।

৩০ বছর বয়সী বোল্ট ঘরের মাঠের পরিচিত ট্র্যাকে শেষবারের মত রেসার্স গ্র্যান্ড প্রিকে বিজয়ী হতে সময় নিয়েছেন ১০.০৩ সেকেন্ড। কিংবদন্তীকে বিদায় জানাতে এই দৌড়ের নাম দেয়া হয়েছিল ‘স্যালুট টু লিজেন্ড’। আগামী আগস্টে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপের পরে অবসরের ঘোষণা দেয়া বোল্ট বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না আজকে ১০০ মিটারে দৌড়াতে আমার যতটা নার্ভাস লেগেছে তা আগে কখনো হয়েছে। এটা শুধুমাত্র আজকে এখানকার পরিবেশ ও মানুষদের জন্যই এমটা হয়েছে। যে ধরনের সমর্থন তারা আমাকে পুরোটা সময় দিয়েছে তা সত্যিই নার্ভাস হওয়ার মতই।’

প্রতিযোগিতা শেষ করে বোল্ট ট্র্যাকে ফিরে এসে ৫নং লেনকে চুমু দিয়ে দাঁড়িয়ে শেষবারের মত তার স্বভাবসুলভ লাইটিং-বোল্ট পোজ দিয়েছেন। এ সময় বোল্ট বলেন, এর কোনো ভাষা নেই। ওয়ার্ল্ড জুনিয়র আসরের পর থেকে এ পর্যন্ত আমি প্রতিটি মুহূর্তেই জ্যামাইকার সমর্থন পেয়েছি। কখনই চিন্তা করিনি ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবো। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ২০০ মিটারে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যা কিছু করার সবই আমি ক্যারিয়ারে করেছি। আর কিংবদন্তী হওয়া এখন ক্যারিয়ারের সত্যিই বিশেষ অর্জন। বাবা-মায়ের সহযোগিতা ছাড়া যা কোনোদিনই সম্ভব ছিল না।

নয়বারের অলিম্পিকের স্বর্নজয়ী বোল্ট গতকাল সন্ধ্যায় ১০০ মিটাওে নিজের দ্রুততম দৌড় দৌঁড়াতে পারেননি। কিন্তু তাতে মোটেই হতাশ নন সমর্থকরা। হাজার হাজার সবুজ-হলুদ জ্যামাইকান সমর্থকদের সামনে অনেকটা হেসে খেলেই বিজয়ী হয়েছেন বোল্ট। পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে তখন সমর্থকদের নাচ, গান আর ভুভুজেলার আওয়াজে মুখরিত ছিল। বোল্টা জানিয়েছেন এই ধরনের বিদায় তিনি কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, আমি কখনই এটা প্রত্যাশা করিনি। আমি জানতাম এটা বেশ বড় কিছুই হবে। কিন্তু স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ, আর প্রতিটি মানুষই আমাকে সমর্থন যুগিয়েছে।

২০১৭ সালে এটাই ছিল তার প্রথম প্রতিযোগিতা। তবে নিজের বিদায়ী মৌসুমটা ভক্তদের জন্যই স্মরণীয় করে রাখতে চান এই গতি মানব। ১০০ মিটারে নিজের করা ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ডটাও তিনি ভেঙ্গে যেতে চান। একইসাথে ২০০ মিটারে ১৯.১৯ সেকেন্ডের রেকর্ডটাকেও ছাড়িয়ে যেতে চান। প্রতিযোগিতা শেষে ২০ মিনিটের আনুষ্ঠানিকতায় বোল্টের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন কোচ গ্লেন মিলস ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সেবাস্টিন কো। এ্যাথলেটিক্সে বোল্টের অবদানকে দুর্দান্ত উল্লেখ করে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন কো। বিদায়বেলায় স্টেডিয়ামে বোল্টের সাথে থাকতে পারাটাকেও অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্ব এ্যাথলেটিক্সের বস।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫