নিজের আলোয় আলোকিত

বদরুন নেসা নিপা

মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। অসাধ্য সাধনের নেপথ্যে নাকি থাকে একটি বড় স্বপ্ন। ঠিক তেমনি এক স্বপ্নকাতর তরুণী নূপুর শর্মা।
সাত বছর বয়সে হঠাৎ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু হয়। চার পাশে নেমে আসে অন্ধকার। ভাইবোন সব ছোট। ভরসা শুধু প্রচণ্ড মানসিক শক্তির অধিকারী মা। সন্তানদের মানুষ করবেন শিক্ষাদীক্ষায়, এমন বাসনায় অহর্নিশ ছুটেছেন। কাটিয়েছেন অনেক ঘামঝরা দিন। ছোট মনে তখন থেকেই মায়ের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করার আকাক্সক্ষা। বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে ইডেন কলেজে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে মাস্টার্স করেন। সংসারের প্রয়োজনে বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরিও করতে হয় ছাত্রী অবস্থায়। বাবা মারা যাওয়ার পরে অসহনীয় দীর্ঘ সময়ের জাগতিক সংঘর্ষ এবং চার পাশকে বুঝে নেয়াÑ এসব মিলে সময়ের কাটায় রক্তাক্ত সত্তা প্রলেপ পায় ধীর সময়ের আবর্তে। স্বপ্ন দেখেই ক্ষান্ত হওয়ার মেয়ে নন নূপুর। তিনি জানেন কিভাবে স্বপ্নকে সত্যি করতে হয়। জীবনে যেকোনো বিষয়ে সফল হওয়ার জন্য পরিশ্রমই শেষ কথা এটা মানেন নূপুর। কর্মক্ষেত্রে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে তাই প্রচেষ্টা থাকে প্রতি মুহূর্তে। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ মার্কেটিং ওপিআর ডিপার্টমেন্টের হেড হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। এরই মধ্যে কর্মজীবনের আটটি বছর পার হয়েছে। পরিশ্রম, মেধা, কাজের প্রতি একাগ্রতা নূপুরের আজকের এ অবস্থানের সাথে সম্পৃক্ত। নূপুর বলেন, আজ পর্যন্ত যা প্রাপ্তি আমার তাতে বাবা-মা দু’জনের অবদানই আছে। আজ বাবা বেঁচে নেই, তবু তার প্রেরণা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে স্বাবলম্বী করবেন।
নারীর কর্মপরিধি নিয়ে নূপুর বলেন, এখন নারীর কাজের দ্বার অনেক উন্মুক্ত। তবুও প্রচুর বাধা আসবে। সেটা পার করার মানসিকতা থাকতে হবে। সব বাধাকে পার হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সবসময় নিজেকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমার ভেতর বাবার অভাববোধ, শূন্যতা যতখানি না তার থেকে বেশি অহঙ্কার, বাবার স্বপ্নজয়ী মেয়ে আমি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.