ডায়েরির পাতার ভাঁজে

সিয়াম বিন আহমাদ

দিন ফুরিয়ে রাত নামে। ধূসর ডায়েরিতে আঁচড় পড়ে ব্যর্থতার শত গল্প। নীরব ব্যথায় হৃদয় জ্বলে, বেদনার নীল পাথর মোমের মতো গলে পড়ে অশ্রু হয়ে। বুকের ভেতর বহু দিন ধরে ঘর বাঁধার স্বপ্ন বুনেছিলাম। আশা ছিল, হিজল-তমাল গাছের নিচে ছোট্ট একটা কুটিরে আমরা সংসার পাতব। নিশুতি রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জ্যোৎস্না তারকার সাথে আমরাও খেলায় মেতে উঠব। সোনালি দিনে পেখম মেলা স্বপ্নগুলো যে আজো সেই স্বপ্নই রয়ে গেল।
একদিন অডিটোরিয়ামের করিডোরে দাঁড়িয়ে কথা বলতে বলতে পুরোটা রাত কাটিয়েছিলাম আমরা। হয়তো সে আজ এসব ভুলেই গেছে! ইউনিভার্সিটির ক্যাফে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ওর প্রতীক্ষায় বসে থাকতাম আমি। সেই দিনগুলো আজ মনে হলে বুক ফেটে কাঁদতে ইচ্ছে হয়। সপ্তাহের পর সপ্তাহ গড়িয়েছে ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। ওর কোলে মাথা রেখে যখন মাসুমকে ফোন করে বলতামÑ ‘মামা আমার প্রক্সিটা দিয়ে দিস কিন্তু।’ ও এ সময় খুব করে হাসত। এ দিকে আমি ওর হাসির থোকায় থোকায় নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকতাম। ওই দিনগুলো মনে হলে সান্ত্বনার বুকে মাথা রেখে আমি আজো অঝোরে কাঁদি।
আজো সবুজ ক্যাম্পাসে কাটানো স্বপ্নময় দিনগুলোর স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে আর আমার মনে হয় ক্যাম্পাসের চিরচেনা
রাস্তা, মাঠের দূর্বাঘাস, ঘাটপাড়ের বটগাছটার ধুলোমাখা পাতা এমনকি অনুষদ ভবনের প্রতিটি ইটও ওর মতো স্বার্থপর যেন। শুধু ওর জন্য আজ আমার অধরার সব কিছুই এভাবে স্বার্থপর হয়ে গেল। জানি, কোনো দিনও সে বুঝবে না ক্ষতবিক্ষত এই হৃদয়ের আর্তনাদ। তাই কষ্টগুলো খুব যতনে লুকিয়ে রেখেছি আপন ডায়েরির প্রতিটি পাতার ভাঁজে ভাঁজে। তবুও খুব ভয় হয়, কষ্টের তাপে পৃষ্ঠাগুলো যদি পুড়ে যায়। আমার আপন ব্যথাগুলো যদি হারিয়ে যায়। কে ফুরাবে আমার এই নীরব যন্ত্রণা? কে দেবে আমায় এক ফোঁটা সান্ত্বনা?
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.