ঢাকা, রবিবার,৩১ মে ২০২০

ইসলামী দিগন্ত

হিংসা আমলকে পুড়িয়ে ফেলে

ফিরোজ আহমাদ

০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

অন্যের সুখ যশ খ্যাতি পেশাগত সাফল্য দেখে নিজের ভেতরে জ্বলেপুড়ে ছাই হওয়াই হলো হিংসা। হিংসা পরিবার সমাজ রাষ্ট্র সর্বত্রই রয়েছে। ধনসম্পদ সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সবই আল্লাহর দান। ধনসম্পদ কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে গরিব অনেকেই অসহায় মানুষকে সামজিকভাবে দুর্বল ভেবে হিংসা করে। নিজের দৈহিক সৌন্দর্য কিংবা অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য অনেকে অসহায় ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষের পাশে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে বসতেও চায় না। গরিব মানুষের পরিবারের ছেলেমেয়েদের কেউ কোনো সাফল্যে অর্জন করলে বরং উল্টো উপহাস করেন। এ হিংসা কিন্তু মানুষের পতন ডেকে আনে। অতীতে সব হিংসুক মানুষের পতন হয়েছে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘দুনিয়াতে তুমি দম্ভভরে বিচরণ করো না। কেননা, তুমি কখনো ভূপৃষ্ঠকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং কখনো পর্বতসম উঁচুও হতে পারবে না’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৭)। ‘হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপো উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী অপর কোনো নারীকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপো উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করিও না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডাকিও না; ঈমান আনয়নের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট’(সূরা হুজরাত : ১১)!
হিংসা মানুষের নেক আমলগুলোকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। হিংসা মানুষের ধ্বংসের পথ প্রসারিত করে। হজরত আবু হোরায়রা রা: বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে আগুন কাঠখণ্ডকে খেয়ে ফেলে’ (আবু দাউদ-মিশকাত, পৃ. নং ৪২৮)। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, তার প্রতি তুমি কখনো তোমার চুদ্বয় প্রসারিত করিও না’ (সূরা হিজর : ৮৮)। ‘তুমি তোমার চুুদ্বয় কখনো প্রসারিত করিও না ওর প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি, এ দিয়ে তাদের পরীা করার জন্য’ (সূরা তা-হা : ১৩১)।
হিংসা মনের মধ্যে অহঙ্কার এবং ক্রোধের জন্ম দেয়। যা মানুষকে গীবত এবং কুৎসা রটাতে উদ্ধুদ্ধ করে। এ হিংসা থেকে মানুষ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য খুন পর্যন্ত করে ফেলে। অন্যের সুখ সুনামকে বিনষ্ট করার জন্য অনেকে জাদুটোনা বান দফা ও কুফুরির আশ্রয় নিয়ে থাকে। তবে হাদিস শরিফে দু’টি ক্ষেত্রে হিংসা করার অনুমতি রয়েছে। হজরত আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সাথে ঈর্ষা করা যায় না। এক ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ তায়ালা কুুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিন রাত তেলাওয়াত করে। আর তা শুনে তার প্রতিবেশীরা বলে, হায়! আমাকে যদি এরূপ জ্ঞান দেয়া হতো, যেরূপ জ্ঞান অমুককে দেয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মতো আমল করতাম। অপর ব্যক্তি হলো, আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন এবং সে তার সম্পদ সত্য ও ন্যায়ের রাস্তায় দান করে’ (বুখারি : ৫৬৩৮)।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫