ঢাকা, মঙ্গলবার,০২ জুন ২০২০

ইসলামী দিগন্ত

ভালো কথা ও কাজ সাদকাস্বরূপ

ড. মোহা: এমরান হোসেন

০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রত্যেক মানুষ অপর মানুষের উপকারে এগিয়ে আসবে, এটাই ইসলামের নীতি। মানব উপকার মহৎ গুণ হিসেবে ইসলামে স্বীকৃত। আর্থিক, শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ইত্যাকার সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা এক অপরের জন্য প্রয়োজন। সাহায্য করার কিছুই না থাকলে, একজন মানুষ অপর মানুষকে মধুর ভাষা ব্যবহার করে সান্ত্বনা দিতে পারে। এটিও তার জন্য সাদকা হিসেবে পরিগণিত হবে বলে নবী সা: সবাইকে উৎসাহিত করেছেন। একবার নবী সা: জাহান্নামের আগুনের কথা উল্লেখ করলেন। তারপর তা থেকে পানাহ চাইলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পরে আবার জাহান্নামের আগুনের কথা উল্লেখ করলেন, তারপর তা থেকে পানাহ চাইলেন এবং তাঁর মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর নবী বললেনÑ ‘তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাক এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও। যদি তা না পাও, তাহলে মধুর ভাষা বিনিময়ে।’ (সাহি বুখারি, হাদিস নম্বর-৫৬৭৭)।
যখন কোনো মানুষ ভালো কাজ সম্পাদন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন সে মুখের ভালো কাজ চালিয়ে যাবে। অর্থাৎ সে মানুষকে ভালো কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। এটিও করতে অক্ষম হলে তার জন্য এর স্থলাভিষিক্ত হলো খারাপ থেকে বিরত থাকা। খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকলে সেটিও হবে তার জন্য সাদকাস্বরূপ। (ইবন বাত্তাল, শারহু সাহি বুখারি, নবম খণ্ড, পৃ. ২২৪)। এক হাদিসে নবী সা: বলেনÑ ‘যে ব্যক্তি খারাপ কাজের ইচ্ছা পোষণ করল, কিন্তু তা করল না, এ জন্য সে একটি সাওয়াব পাবে।’ (আল বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস নম্বর-৩৩৪)। অপর এক হাদিসে নবী সা: বলেনÑ ‘প্রত্যেক মুসলিমের ওপর সাদকা করা কর্তব্য। সাহাবিরা বললেনÑ যদি তার (আর্থিক) সামর্থ্য না থাকে। নবী সা: বললেনÑ তাহলে সে নিজ কর্মের মাধ্যমে নিজের এবং অপরের সাহায্য করবে। তারা বললেনÑ যদি সে এটি করতে সক্ষম না হয় বা না করে। তিনি সা: বললেনÑ তাহলে সে অসহায় মুখাপেক্ষীকে সাহায্য করবে। তারা বললেনÑ যদি সে তা না করে। তিনি সা: বললেনÑ তাহলে সে অন্যকে ভালো কাজের আদেশ করবে। তারা বললেনÑ যদি সে তা না করে। তিনি সা: বললেনÑ তাহলে সে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে, এটিই তার জন্য সাদকাস্বরূপ।’ (সাহি বুখারি, হাদিস নম্বর-৫৬৭৬)।
আর্থিক সাহায্য যেমন একজন মানুষকে খুশি করে, তেমনি ভালো কথাও একজন মানুষকে সন্তুষ্ট করে। এ জন্য নবী সা: বলেনÑ ‘ভালো কথা সাদকাস্বরূপ।’ (আল বায়হাকি, আস সুনানুল কুবরা, হাদিস নম্বর-৬০৮৬)। ভালো কথা বারবার বলা উচিত। আর খারাপ কথা সত্য হলেও তা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। এজন্য নবী সা: বলেনÑ ‘শয়তানকে অভিসম্পাত করো না, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও।’ (আন নাবাবি, শারহুল আরবাঈন, জুয. ৫৮, পৃ. ০৬)।
ভালো কথার উদাহরণ দিয়ে আল্লাহ বলেন- ‘(হে নবী) আপনি কি লক্ষ্য করছেন না, আল্লাহ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? ভালো কথার দৃষ্টান্ত হলো ভালো গাছ যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা-প্রশাখা আসমানে বিস্তৃত। যা তার রবের অনুমতিক্রমে সর্বদা ফল দিয়ে থাকে।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত ২৪-২৫)। হজরত আলী রা: বলেনÑ ‘তোমরা মানুষকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে পারবে না, কিন্তু তোমরা তাদের তোমাদের চরিত্র দিয়ে সাহায্য কর।’ (তাফসিরুন নায়সাপুরি, প্রথম খণ্ড, পৃ. ২৬১, আন নাবাবি)।
লেখক : অধ্যক্ষ, শঙ্করবাটী কামিল মাদরাসা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫