ঢাকা, মঙ্গলবার,০২ জুন ২০২০

সাতরঙ

ফাল্গুনের আয়োজন

রঙের ঝলক

এ কে রাসেল

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০১:০৪


প্রিন্ট

বসন্ত মানেই ফুলের সৌরভ। পয়লা ফাল্গুনের এ দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকে বাঙালি। যে যা-ই বলুক রঙের মাস ফাল্গুন। ফাল্গুনে যেন রঙের মেলা বসে প্রকৃতিতে। আর প্রকৃতির সেই রঙিন ছোঁয়া দোলা দেয় প্রতিটি প্রাণে। শুধু প্রাণেই নয়, পোশাকেও লাগে রঙের উৎসব। ফাল্গুনের জমকালো রঙের সাজ পোশাক বৈচিত্র্য এনে দেয় প্রতিটি প্রাণে। তাই তো ফাল্গুনের পোশাক নিয়ে চলে বিভিন্ন ভাবনা। 

পয়লা ফাল্গুনের দিনটি উদযাপনের জন্য চাই বাহারি পোশাক। এ জন্য দেশী ফ্যাশন হাউজগুলো পয়লা ফাল্গুন উপলক্ষে সাজিয়েছে আকর্ষণীয় বিশেষ ফাল্গুনী সংগ্রহ।
এ বছর ফাল্গুনী ফ্যাশন ট্রেন্ডে মূলত ট্র্যাডিশনাল পোশাকই থাকছে কালেকশনে। যেহেতু বসন্ত মানেই রঙের বাহার, তাই বসন্তের পোশাকে রয়েছে বিচিত্র রঙের সমাহার। আর বাঙালিয়ানা মানেই তো শাড়ি। তাই শাড়িতেই সেজে উঠতে চান বাঙালি নারী। তবে শাড়ির পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়ার ফ্যাশনও কম যায় না। আর ছেলেদের পাঞ্জাবির সাথে ফতুয়া বা ওয়েস্টার্ন আউটফিটেরও চল রয়েছে। ফ্যাশন হাউজগুলোও বসন্তের পোশাকে উজ্জ্বল রঙকেই প্রাধান্য দেয়। তবে সব ধরনের পোশাকেই থাকে বসন্তের ছোঁয়া। আর কাপড় হিসেবে সুতিকেই বেস্ট অপশন হিসেবে বেছে নেয়া হয়। এ ছাড়া রয়েছে কটন, লিনেন, খাদি, ভয়েল ও তাঁতের তৈরি বসন্তের পোশাক। সাধারণত বসন্তে পোশাকের ডিজাইনে ফুলকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় এবং প্রকৃতির বিভিন্ন মোটিফও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এবারো এর ব্যতিক্রম নয়।
এবার সবাই শিশুর পোশাকের ব্যাপারে বিশেষ সচেতন। তাই সংগ্রহে রেখেছে ফ্রক, লং স্কার্ট, টপস, পাঞ্জাবি, ধুতি, ফুল হাতা ও হাফ হাতা শার্ট, টিশার্ট আর পোলো শার্ট।
ছেলেদের জন্য রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ; যেমনÑ পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফুল হাতা ও হাফ হাতা শার্ট, টিশার্ট ও পোলো শার্ট। ছেলেদের বসন্তের পাঞ্জাবিতে উইভিং কাপড়ের নকশা রয়েছে। আছে বিভিন্ন রঙের তৈরি কটি। হালকা রঙের পাঞ্জাবির ওপর এ উজ্জ্বল কটিতেই হতে পারে আপনার ফাল্গুনের সাজ। পাঞ্জাবির বাইরে অনেকে টিশার্ট পরেও ঘোরাফেরা করেন বসন্তে। তাই টিশার্টের নকশায় রয়েছে বসন্তের ছোঁয়া। সাথে টিশার্টে বাসন্তি রঙ তো আছেই।
মেয়েদের জন্য কালেকশনে আছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, টপস, আনস্টিচ, সিঙ্গেল ওড়না, ব্লাউজ আর জমিন অলঙ্করণে ব্যবহৃত হয়েছে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ ও প্যাচওয়ার্ক। মূলত বসন্ত উৎসবে একরঙা শাড়িই বেছে নেন তরুণীরা। তাই বরাবরই ব্লাউজেও থাকে বাহারি রঙের ছোঁয়া। আর এর সাথে যোগ হয়েছে নিত্যনতুন ডিজাইন। বর্তমানে সামান্য উঁচু গলার হাইনেক ব্লাউজ যেকোনো শাড়িতে মানিয়ে যায় সহজেই। তা ছাড়া স্লিভলেস ট্রেন্ড এখন প্রায় সব তরুণীর পছন্দ।
তাই এখন থেকেই বসন্তকে কেন্দ্র করে ফ্যাশন হাউজগুলোতে বিক্রি হচ্ছে বাসন্তি, গেরুয়া ও লাল রঙের শাড়ি। এবারের বসন্ত রঙিন হয়ে উঠবে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন রঙের শাড়িতে। এমনটিই মনে করছে ফ্যাশন হাউজগুলো।
বসন্তকে ঘিরে পোশাকগুলোতে বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করা হয় কাপড়ে বৈচিত্র্য আনার জন্য। ব্লক ও প্রিন্টের শাড়িতে করা হয়েছে কাঁথা, চুমকি ও গ্লাসের কাজ। অনেক পোশাকে করা হয়েছে মেশিন এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি সাথে সিকোয়েন্স ও স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজ। আর পোশাকের রঙে রয়েছে বাসন্তি, লাল, সাদা, সবুজ ও নীল গোল্ডেন, লাইম গ্রিনসহ উজ্জ্বল সব রঙকে বেছে নিয়েছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ। বিভিন্ন রঙে উজ্জ্বল হয়েছে প্রতিটি ফাল্গুনের পোশাক।
এ প্রসঙ্গে দেশের খ্যাতনামা পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অঞ্জন’স-এর কর্ণধর শাহিন আহমেদ জানান, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কাপল ও পরিবারের সবার জন্য নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। কামিজগুলোর প্যাটার্নেও এবার নতুনত্ব এসেছে। স্লিমফিট ও একছাট কাটিংয়ে পাঞ্জাবি করা হয়েছে। এ আয়োজনের সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে শাড়ি। রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বাসন্তি, গোলাপি, লাল, সাদা, কমলা, হলুদ, সবুজ প্রভৃতি। এ ছাড়া রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ফিউশন ও শার্ট। পোশাকে কাজ করা হয়েছে এমব্রয়ডারি, এপলিক, ব্লক, হাতের কাজ, স্প্রে, হ্যান্ড পেইন্ট, টাইডাই প্রভৃতি মাধ্যমে। তরুণ-তরুণীদের প্রাধান্য দেয়া হলেও সব বয়সীর জন্যই পোশাক করা হয়েছে এ আয়োজনে।
তবে শীত এখনো বিদায় নেয়নি। পড়ন্ত বিকেলে ঠাণ্ডা হিমেল পরশের ছোঁয়া বেশ ভালোই লাগে। তবুও বসন্তের উপস্থিতি বলে কথা। যদিও বাঙালির বসন্তের আমেজ নতুন নয়। সেকাল থেকে একাল, সগৌরবে বসন্তের রঙে সাজতে চায় বাঙালি মন। কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায় বহু কাল আগ থেকেই আলাদা জায়গা দখল করে আছে ফাল্গুন আর বসন্ত। বর্তমানে ফাল্গুন আর ভ্যালেন্টাইন ডে মিলেমিশে একাকার। পাশ্চাত্যের অনুকরণে এ বিশেষ দিবসকে ঘিরেও চলে তারুণ্যের বিভিন্ন আয়োজন। পয়লা ফাল্গুনের পরদিনই ভ্যালেন্টাইন ডে হওয়ায় দুই দিনের উৎসবে মাতে সারা দেশ।
দরদাম : বসন্তের শাড়ি কেনা যাবে ৭০০ থেকে চার হাজার, সালোয়ার-কামিজ এক হাজার ২০০ থেকে চার হাজার, পাঞ্জাবি ৯৫০ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। শার্টের দাম এক হাজার থেকে এক হাজার ৬০০, টিশার্ট ৪৫০-৭৫০ টাকা। শিশুদের পোশাক ৩৫০-৯৫০ টাকা।
কোথায় পাবেন : অঞ্জন’স, আড়ং, বিশ্ব রঙ, রং বাংলাদেশ, কাপড়-ই-বাংলা, নিপুণ, দেশাল, সাদাকালো, কে ক্র্যাফট ও গ্রামীণ মেলাসহ যেকোনো শোরুমে। এ ছাড়াও বসুন্ধরা সিটি, আজিজ সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট ও বঙ্গবাজারসহ যেকোনো জায়গা থেকে কেনা যাবে পছন্দের পোশাকটি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫