ঢাকা, রবিবার,৩১ মে ২০২০

ইসলামী দিগন্ত

মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি

মোহাম্মদ আবুল হোসেন

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মহাপরাক্রমশালী, সর্বশক্তিমান, সমস্ত জগতের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষ তথা আমাদের তাঁর প্রতিনিধিরূপে সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল বাকারা : ৩০)।
আমরা যাতে সুষ্ঠু সুন্দর সঠিকভাবে সাফল্যের সাথে যোগ্যতার সাথে দক্ষতার সাথে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করতে পারি সে মতোই আমাদেরকে শারীরিকভাবে উপযুক্তরূপে সৃষ্টি করেছেন তিনি (আল্লাহ তায়ালা)। আমাদের দিয়েছেন পর্যাপ্ত শক্তি, সামর্থ্য, সক্ষমতা, সাহস, মনোবল, জ্ঞানবুদ্ধি, চিন্তাশক্তি, বিজ্ঞতা, বিচক্ষণতা, ধৈর্য, সহনশীলতা, পরিমিতিবোধ, কর্মপ্রেরণা, ন্যায়-অন্যায় বোধ, উৎসাহ, প্রগাঢ় বুদ্ধিমত্তা, দৃঢ়তা, অফুরন্ত পরাক্রমশালী সৃজনশীলতা, অদম্য ও অভূতপূর্ব চেতনা, স্বয়ংক্রিয় আশ্চর্য প্রতিভা, জীবনের কল্যাণ সাধনে অনিবার্য প্রেরণা, পরাক্রমশালী নেতৃত্ববোধ। আরো দিয়েছেন পরামর্শ, উপদেশ, নিষেধ, দিকনির্দেশনার জন্য আসমানী কিতাব এবং হাতেকলমে সব কিছু শিক্ষা দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন নবী রাসূলদের।
আমাদের জন্য দিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব আল কুরআন আল্লাহর দেয়া সংবিধান। আল কুরআনে আছে সর্বকালের সর্ববিষয়ের সর্বোৎকৃষ্ট দিকনির্দেশনা ও সমাধান। আল কুরআনের আলোকে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ মোতাবেক হাতেকলমে আল্লাহর প্রতিনিধির কাজ শিক্ষা দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি মহামানব হজরত মুহাম্মদ সা:কে। মহানবী তাঁর অনুপম, অনিন্দ্যসুন্দর বিশ্বখ্যাত চরিত্র মাধুরী দিয়ে মানুষের ভেতর আল্লাহর দেয়া সুপ্ত গুণাবলিকে যথাযথভাবে জাগ্রত করে মহাপবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ প্রদত্ত জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য গড়ে তোলেন এক দুর্বার আন্দোলন। আন্দোলনকারীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বস্ব এবং সর্বোচ্চ কোরবানির জন্য থাকতেন সদাপ্রস্তুত। অল্প সময়ের মধ্যে মহানবী সা: স্বীয় চরিত্র মাধুরী, সত্যবাদিতা ও মানবতা দিয়ে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধবিগ্রহে রক্তাক্ত, গোত্রে গোত্রে কলহ কোন্দলে বিদীর্ণ অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত কুৎসিত আচার-আচরণ ও কুসংস্কারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত জাতিকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অধঃপতনের গভীর রসাতল থেকে টেনে তোলেন ন্যায় ও পবিত্রতার ধারণায়। দেন একটি জীবনবিধান। ঐক্যবদ্ধ করেন ভ্রাতৃত্ব ও বদান্যতার বন্ধনে।
মহাপ্রভু দয়ালু আল্লাহ তায়ালা তাঁর উত্তম প্রতিনিধি হওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষের ভেতরও সব রকমের অতি উত্তম গুণাবলি দান করেছেন। এ ছাড়া আমাদের সামনে আছে এ ব্যাপারে মহানবী সা: আমাদের একমাত্র নেতা একমাত্র অনুসরণীয় অনুকরণীয় নেতার ঘটনাবহুল অতি উজ্জ্বল ও অতুলনীয় কর্মকাণ্ড, মহাগ্রন্থ আল কুরআনে দেয়া মহাপ্রভুর পরামর্শ, দিকনির্দেশনা, ইসপাতকঠিন ঈমানী শক্তি, পর্বতের মতো অবিচল রুহানি শক্তির অধিকারী খলিফাগণ, খালেদ বিন অলিদের মতো মহাবীর সেনানী ও লাখ লাখ সাহাবির শৌর্য সাহস অকুতোভয় সর্বস্ব ত্যাগী বীর মুজাহিদদের গৌরবগাথা। এ দেশের মানুষকে আল্লাহর প্রতিনিধি বানানোর জন্য সুদূর ইয়েমেন থেকে ৩৬০ জন সঙ্গী বুজুর্গকে নিয়ে আসেন হজরত শাহ জালাল ও হজরত শাহ পরান র:। এমনিভাবে আসেন হজরত শাহ আলী বাগদাদী র:, হজরত শাহ মখদুম র:, হজরত শাহ বলখী র:, হজরত খানজাহান আলী র:, হজরত বায়েজীদ বোস্তামী র:, চট্টগ্রামের বারো আউলিয়া র:।
আমার প্রাণপ্রিয় এবং পরম শ্রদ্ধেয় লাখ লাখ নায়েবে রাসূল সা: আশেকে রাসূল সা: আওলাদে রাসূল সা:-গণ দয়াময় আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে অনেক অনেক নেয়ামত ও সম্পদ দিয়েছেন। আসুন আমরা সবাই শুধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা নয়, আমাদের প্রিয় একমাত্র নেতা আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর অনুসরণে অনুকরণে শতসহস্র বাধাবিঘœ অতিক্রম করে এ দেশের প্রতিটি বাড়ি হাটেঘাটে বাজারে ক্ষেতে খামারে কলকারখানায় অফিস আদালতে স্কুল কলেজ মাদরাসা মক্তব বিশ্ববিদ্যালয় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কৃষক শ্রমিক কামার কুমার মুচি মেথর রিকশাওয়ালা ছাত্র শিক্ষক শিক্ষিত অশিক্ষিত মুটে মজুর ধনী দরিদ্র সবার হাত ধরে আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার দাওয়াত দিই। যেন এ দেশের প্রতিটি মানুষ আল্লাহর প্রকৃত প্রতিনিধি হয়ে যায়। সেভাবে জীবনযাপন করতে পারে এবং আল্লাহর প্রকৃত প্রতিনিধিরূপে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে দক্ষতার সাথে সুসম্পন্ন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে বা পারি।
অন্যথায় কী মহা ভয়ঙ্কর গজব নাজেল হতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। যেমন কল্পনা করতে পারেনি ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, আফগানিস্তানের বাসিন্দারা।
এক. আল্লাহর আইন এবং আল্লাহর দ্বীন ইসলামকে নিজ ব্যক্তিজীবনের চিন্তা-চেতনায় মন-মননে ধ্যান-ধারণায়, ইচ্ছায় কামনায় বাসনায় তথা সমগ্র সত্ত্বার সাথে আত্মস্থ করে স্বীয় সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সর্বপ্রকার কর্মকাণ্ড, আচার আচরণ ব্যবহার চাল চলনে কথাবার্তায় প্রকাশ এবং প্রতিষ্ঠা করা। একইভাবে পারিবারিক জীবন সমাজজীবন কর্মজীবন তথা চাকরি ব্যবসায় বাণিজ্যে অফিসে আদালতে কলকারখানায় স্কুল কলেজে মাদরাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ে, শিল্প-সাহিত্যে, সংস্কৃতিতে, ঐতিহ্যে প্রশাসন ব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে সর্বস্তরে হেকমতের সাথে আল্লাহর আইন এবং আল্লাহর দ্বীন ইসলাম প্রচার প্রসার এবং সুপ্রতিষ্ঠিত করা।
দুই. আল্লাহ তায়ালার সমস্ত সৃষ্টি তথা কীটপতঙ্গ পশু-পাখি, জীব-জন্তু, জানোয়ার, মানুষ গাছপালা, তরুলতা পরিবেশ, প্রকৃতি, পাহাড়, পর্বত, বনজঙ্গল, নদী-নালাকে নিঃশর্তভাবে এবং নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা এবং সেবা করা মঙ্গল সাধনা করা। সব রকমের শোষণ জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন, সর্বপ্রকার অধিকার হরণ, অন্যায় অবিচার অত্যাচার নির্যাতন জুলুম সমূলে ধ্বংস করে সমাজে সুখ শান্তি নিরাপত্তা ও উন্নতি সাধন করা।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫