কালেমার দাওয়াত

সৈয়দ রশিদ আলম

মহাপবিত্র কুরআনুল কারিমের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি প্রত্যেক নবী ও রাসূল যার যার উম্মতদের এক আল্লাহর দাসত্ব করার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই দাওয়াতি কাজ করতে গিয়ে অগণিত নবী-রাসূলকে জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা এই কাজ থেকে পিছু হটেননি। ইব্রাহিম আ: নমরুদকে দাওয়াত দিতে গিয়ে অগ্নিকুণ্ডে নিপ্তি হয়েছিলেন, ফেরাউনকে দাওয়াত দিতে গিয়ে মূসা আ:কে দেশান্তরিত হতে হয়েছিল, ঈসা আ: বনি ইসরাইল সম্প্রদায়কে দাওয়াত দিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন। শেষ নবী মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: যিনি জগতের জন্য রহমতস্বরূপ হয়ে এসেছিলেন, তাঁকেও একই রকম নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আবু লাহাব ও আবু জাহেলের মতো হাজারো মূর্খদের দ্বারা দয়াল নবী সা: এক মুহূর্তও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি। কিন্তু তারপরও মহান আল্লাহর নির্দেশে মহানবী সা: তাঁর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করছেন। যে কারণে আমরা পূর্ণাঙ্গ দ্বীন লাভ করেছি। তাঁর পরিবারের সদস্য যাদের আহলে বাইত বলা হয়, তাদেরও নবী করিম সা:-এর সাথে সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। মহান রাব্বুল আল আমিন সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৪-এ ইরশাদ করছেন, ‘তোমাদের মধ্যে একদল এমন হওয়া উচিত, যারা কল্যাণের দিকে লোকদের আহ্বান করবে, সৎ কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে।’ প্রত্যেক উম্মতে মুহাম্মদির দায়িত্ব হচ্ছে কুরআনুল কারিমের উল্লিখিত আয়াতকে অনুসরণ করে দাওয়াতি কাজে অংশগ্রহণ করা। তবে যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবেন, তারা সূরা নহল, আয়াত-১২৫-এর আলোকে দাওয়াত দিতে হবে। বলা হচ্ছে, ‘তোমরা তোমার রবের দিকে মানুষকে ডাকো হিকমত এবং সদুপদেশ দ্বারা’। অর্থাৎ যখনই আমরা কাউকে দাওয়াতি কাজে ডাকব, তখন সেখানে হেকমত থাকতে হবে। নবী করিম সা: আমাদের শিখিয়ে গেছেন কিভাবে তাবলিগ করতে হয়, দাওয়াত দিতে হয়। ঈমাম হোসাইন রা: ইয়াজিদকে দাওয়াত দিতে গিয়ে নিজের ও পরিবারের জীবন কোরবানি দিয়েছেন। যার ফলে আমরা সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করতে পারছি। বাংলাদেশে দেশ-বিদেশ থেকে যারা দাওয়াতি কাজে আসছেন, তারা যদি কুরআনুল কারিমের আলোকে মানুষকে দাওয়াত দিতে থাকেন, তাহলে মহান আল্লাহ তাদের সফলতা দেবেন। বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কুরআনুল কারিমের আলোকে দাওয়াতের কাজ ও তাবলিগের কাজ নিয়মিত হচ্ছে। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো এটাও দাওয়াতের একটি অংশ। হে আল্লাহ আমরা যেন মহানবী সা:-এর শিার আলোকে তাবলিগের কাজ যেন করে যেতে পারি।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.