ঢাকা, রবিবার,৩১ মে ২০২০

ইসলামী দিগন্ত

ভাষা আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন

জাব্বার করিম

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সৃষ্টি জগৎজুড়ে আল্লাহ তায়ালার কুদরতি শান-মানের বৈচিত্র্যময় নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে ভাষা ও বর্ণমালা হলো আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম কুদরতের বিস্ময়কর নিদর্শন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আকাশমালা ও জমিনের সৃষ্টি, তোমাদের পারস্পরিক ভাষা ও বর্ণবৈচিত্র্য তার নিদর্শন; অবশ্যই জ্ঞানবান মানুষের জন্য এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে’ (সূরা রূম : ২২)। মানুষের মনের ভাব প্রকাশের জন্য আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম ভাষা সৃষ্টি করেছেন। ভাষার মাধ্যমে মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করে। নিজের ইচ্ছা আকাক্সার কথা একে অপরের কাছে ব্যক্ত করে। পছন্দ ও অপছন্দনীয় বিষয় নিয়ে কথা বলে। অপর দিকে বর্ণমালা ভাষার সৌর্ন্দযকে বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তায়ালা মানুষের মনের ভাবকে লিখিতভাবে ব্যক্ত করার জন্য বর্ণমালা সৃষ্টি করেছেন। ভাষাহীন মানুষ বোবা অর্থাৎ প্রতিবন্ধী। বর্ণমালার সাথে পরিচয়বিহীন মানুষ মূর্খ।
আমাদের মহানবী সা:-এর জন্ম আরব ভ‚খণ্ডে। আরবের মাতৃভাষা আরবি। মহানবী সা: আরব ভ‚খণ্ডে মাতৃভাষায় ইসলাম প্রচার করেছেন। আরব ভ‚খণ্ডের ভাষা আরবি বিধায় আল্লাহ তায়ালা আরবি ভাষায় ওহি পাঠিয়েছেন। আরবের মাতৃভাষায় ওহি নাজিলের ফলে আরবের লোকজনের কুরআনের বাণী বুঝতে সুবিধা হয়েছে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি যদি এ কুরআন (আরবি ভাষার বদলে) আজমি (অনারব ভাষায়) বানাতাম, তাহলে এরা বলত, কেন এর আয়াতগুলো (আমাদের ভাষায়) পরিষ্কার করে বর্ণনা করা হলো না; কুরআন আজমি ভাষায় অথচ এর বাহক আরবি ভাষার লোক’ (সূরা হা-মীম আস সাজদাহ : ৪৪)। ‘এভাবেই (হে নবী!) আরবি কুরআন আমি আপনার ওপর অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি (এর দ্বারা) মক্কাবাসী ও তার আশপাশে যারা বসবাস করে তাদের সতর্ক করে দিতে পারেন’ (সূরা আশ শুরা : ৭)।
শুকরিয়া জানানো একটি ইবাদত। আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের শুকরিয়া জানানোর মাধ্যম হলো ভাষা। আল্লাহর নিদর্শন দেখে ও নেয়ামত ভোগ করার পর শুকরিয়া জ্ঞাপন করলে আল্লাহ তায়ালা ওই বান্দাহর নেয়ামত বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা (আমার অনুগ্রহের) কৃতজ্ঞতা আদায় করো তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য (এ অনুগ্রহ) আরো বাড়িয়ে দেবো’ (সূরা ইব্রাহিম : ৭)। বাঙালিদের মাতৃভাষা বাংলা। এ ভাষার সাথে বাঙালিদের ইতিহাস, ঐহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে। বাংলা ভাষায় কথা বলতে পেরে বাঙালিরা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞ এবং নিজেরাও ধন্য।
আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী ও প্রাণিকুলকে নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা দান করেছেন। প্রত্যেক নবীকে তার কওমের কাছে নিজস্ব ভাষা দিয়ে পাঠিয়েছেন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি কোনো নবীই এমন পাঠাইনি, যে (নবী) তার জাতির (মাতৃ) ভাষায় (আমার বাণী তাদের কাছে পৌঁছায়নি), যাতে সে তাদের কাছে (আমার আয়াত) পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলতে পারে’ ( সূরা ইব্রাহিম : ৪)। ভাষা আল্লাহর দান। ফেব্রæয়ারি মাস বাঙালির ভাষার মাস। বাঙালির চেতনার মাস। বাঙালিদের মাতৃভাষার ওপর ১৯৫২ সালে আঘাত এসেছিল। সে দিন বাংলার দামাল ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তাদের আল্লাহর (অনুগ্রহের বিশেষ) দিনগুলোর কথা মনে করাও’ (সূরা ইব্রাহিম : ৫)।
তাই ফেব্রæয়ারি মাস এলে বাঙালিরা ভাষার মাসকে বিভিন্নভাবে স্মরণ করে থাকে। এ বাংলা ভাষার জন্য বাঙালিরা শুকরিয়া জ্ঞাপন করে। ওই দিন ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদের বেদিতে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালার অপূর্ব নেয়ামত বাংলা ভাষা ও বর্ণের ব্যবহার সর্বস্তরে নিশ্চিত করে এ ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে আল্লাহ আমাদের নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দেবেন।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫