ঢাকা, মঙ্গলবার,০২ জুন ২০২০

সাতরঙ

ঘুরে আসুন সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর

শওকত আলী রতন

২০ মার্চ ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁও লোক কারুশিল্প জাদুঘর। রাজধানী ঢাকার অদূরের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার ঐতিহাসিক শহর সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত এই জাদুঘর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্পের নগরী সোনারগাঁও সব দর্শনার্থীদের ভালো লাগবে।
সোনারগাঁও ছিল বাংলার প্রাচীন রাজধানী। ঢাকা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সোনারগাঁওয়ের প্রাচীন নাম সুবর্ণগ্রাম। বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর রাজধানী হিসেবেই সোনারগাঁও সবচেয়ে খ্যাতি লাভ করে। সোনারগাঁও লোকশিল্প ও কারুশিল্প জাদুঘর দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। সেখানে দেখতে পাবেন দু’টি জাদুঘর। এর মধ্যে প্রাচীন কলাকৌশলে নির্মিত জাদুঘরটি নির্মাণ হয়েছিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৭৫ সালে। ভবনটির টেরাকোটা প্রাচীর ঘেঁষে সারি করে সাজানো আছে প্রাচীনবাংলার ঐতিহ্য। রাজরাজড়াদের নিত্যদিনের ব্যবহৃত সরঞ্জাম, গয়না, ফার্নিচার, সিন্দুক, গোলা-বারুদ, নৌকা, বাদ্যযন্ত্র এমনকি শোপিস সংরক্ষণ করে রাখা আছে জাদুঘরটিতে। ইতিহাসের গৌরবময় অংশ ও বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা আচার-ঐতিহ্য জানার জন্য জাদুঘরের প্রতিটি বিষয় আপনাকে খুব ভালোভাবে পরখ করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার সোনারগাঁওয়ে নির্মাণ করেছেন আরেকটি জাদুঘর। যেখানে দর্শনার্থীরা নিজ চোখে দেখতে পাবেন বাংলার ঐতিহ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্পদ মসলিন কাপড়। তৎকালীন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে এসে জড়ো হয়ে মসলিনের ব্যবসায় করতেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে মসলিনের সেই ঐতিহ্য ধ্বংস করে দেয়া হয়। তবে মসলিনের কাপড় পুনরুজ্জীবনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। মসলিন শাড়ি, নকশিকাঁথা, চাদর এবং মসলিন বুননের আদিযন্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে এ জাদুঘরে। জাদুঘরে দেখতে পাবেন বাংলার প্রাচীন সুলতানদের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, বর্ম, অলঙ্কার ইত্যাদি। বাংলার প্রাচীন ও মধ্য যুগের লোকশিল্পের অনেক নিদর্শন রয়েছে এখানে। আরো রয়েছে বাংলার বিভিন্ন আমলের প্রাচীন মুদ্রা। কারুপল্লীতে রয়েছে বৈচিত্র্যময় দোচালা, চৌচালা ও উপজাতিদের আদলে তৈরি ঘর। এ ছাড়া রয়েছে কারুশিল্পীর তৈরি বাঁশ-বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎশিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুপণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র। এখান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন এসব শিল্পসামগ্রী।
জাদুঘর পরিদর্শন ছাড়াও সোনারগাঁওয়ে আপনি লেকে নৌকায় চড়তে পারবেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। এখানে মাছ শিকারের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মাছ শিকারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আপনাকে সাথে নিতে হবে। এ ছাড়া জাদুঘর কর্তৃপক্ষ পিকনিক স্পটের জন্য বেশ ভালো ব্যবস্থা করেছেন। এখানে রয়েছে প্রাচীন বাংলার ঐতিহাসিক নানা সব স্মৃতি চিহ্ন। এগুলো হলোÑ ঐতিহাসিক পানামনগর, গোয়ালদী মসজিদ, গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার ছাড়াও আরো অনেক ঐতিহাসিক স্থান। জাদুঘরের অদূরেই পানামনগর বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর। সোনারগাঁওয়ে ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই পানাম নগরী গড়ে উঠেছে। সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরটি বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটির দিনে ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁওয়ের জাদুঘর থেকে।
খোলা থাকে
সোনারগাঁও কারুশিল্প শিল্প জাদুঘর খোলা থাকে শুক্র থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে বুধ ও বৃহস্পতিবার। সোনারগাঁও জাদুঘরে প্রবেশে টিকিটের মূল্য ধরা হয় ২০ টাকা।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫