ঢাকা, মঙ্গলবার,০২ জুন ২০২০

প্রশাসন

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

০১ এপ্রিল ২০১৮,রবিবার, ০৯:১৪ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৪:০৯


প্রিন্ট
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে

নির্বাচন বছরে সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ বেতনভাতা নির্ধারণসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ে কমিটি বেতন সমন্বয়ের একগুচ্ছ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। মূলত মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় করে এটি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বেতন বাড়ানো সংক্রান্ত এ সুপারিশগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। পরে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা ও মতামত দেয়ার জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে। অর্থ বিভাগের মতামত পাওয়া গেলে বেতন বাড়ানোসংক্রান্ত একটি ঘোষণা অর্থমন্ত্রী আগামী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে প্রতি বছর সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ ভাগ হারে ইনক্রিমেন্ট (বেতন বৃদ্ধি) দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এর পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭ সালে মার্চ মাসে ঘোষণা করেন যে, এখন থেকে আর কোনো নতুন পে-কমিশন ঘোষণা করা হবে না। প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় করে সরকারি চাকুরেদের বেতন সমন্বয় করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি করে দেয়া হবে। তারাই মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় করে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করবেন। এরই আলোকে ২০১৭ সালের ৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ওই কমিটির গঠন করা হয়। ৯ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে (সমন্বয় ও সংস্কার)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির একজন গত বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেছেন, আমরা সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয় (বাড়ানো) বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করেছি। আমরা মূলত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির যে পরিসংখ্যান দেয় তার ওপর ভিত্তি করেই সুপারিশগুলো করেছি। সুুপারিশে আমরা বলার চেষ্টা করেছি মূল্যস্ফীতি যদি ৫ ভাগের ওপরে চলে যায় তাহলে কিভাবে বেতন সমন্বয় করা হবে। একইভাবে মূল্যস্ফীতি যদি ৫ ভাগ বা তার নিচে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে বেতন সমন্বয় করা হবে না। আমাদের রূপরেখাটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্যাবিনেটে জমা দেয়া হবে। পরে এটি অর্থ বিভাগে পাঠিয়ে তাদের মতামত চাওয়া হবে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মূল্যস্ফীতির সাথে বেতন বৃদ্ধি জড়িত। তাই আগাম বলা সম্ভব নয়, বেতন কী হারে বাড়বে। এমনকি প্রতি বছর সরকারি কর্মচারিদের ৫ ভাগ হারে বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সাথে মূল্যস্ফীতির হিসাব ধরে বেতন বাড়ানোর কাজটি করা হবে। সেটি ৫ ভাগ থেকে ৮ ভাগ বা ১০ ভাগ হতে পারে।

বিবিএসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বারো মাসে গড়ে খাদ্যসূচকে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে এর পরের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ চালের দাম এ কয়েক মাসে পূর্ববর্তী মাসের চেয়ে প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বেড়েছে।

২০১৭ সালের ৯ মে যে কমিটিটি গঠন করা হয়েছিল তার নাম ছিল- সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ বেতনভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধনের বিষয় পর্যালোচনাসংক্রান্ত কমিটি। ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিসংখ্যান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয় ও অর্থ বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, কমিটি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার এবং মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয়করণের উপায় নির্ধারণের লক্ষ্যে সার্বিক বিষয় বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক একটি সুচিন্তিত সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে। কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে পেশ করবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫