পরীক্ষায় নকল : মিলছে তাৎক্ষণিক জবাব

নয়া দিগন্ত অনলাইন

এক নজরে মনে হবে, এটি কোনো ব্যাংকের সাধারণ একটি মাস্টার ক্রেডিট কার্ড। তবে আসলে সেটি নয়, এটি মাস্টার কার্ডের প্রলেপ দেয়া একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এর ভিতরে থাকা মোবাইল সিমের মাধ্যমে বাইরে থেকে আসা কল রিসিভ করা যায়। ডিভাইসটির সাথে থাকে একটি ছোট্ট ইয়ারপিস যা কানে লাগিয়ে ওই ইলেকট্রনিক ডিভাইসে আসা কল রিসিভ করে কথা বলা যায়। এ ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রেই পাওয়া যেত প্রশ্নপত্রের সমাধান। আজ ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

শুক্রবার গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় এ ধরনের অপকর্মকারী চক্রের ১০ জনকে গ্রেফতার করে ডিএমপি’র গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। পরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কিভাবে পরীক্ষারহলেই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সমাধান করা হয়।

প্রথমে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে এই অপকর্মকারী চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পরীক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে চুক্তি করত। চুক্তিকৃত অর্থের পরিমাণ ক্ষেত্র বিশেষে কয়েক হাজার টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত হতো। নির্দিষ্ট পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের বাহুতে বিশেষ কায়দায় মাস্টারকার্ডসদৃশ ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি স্থাপন করত। এরপর কানে লাগিয়ে দিত অতিক্ষুদ্র ইয়ারপিস। যার মাধ্যমে পরীক্ষার্থী কেবলমাত্র কল রিসিভ করতে পারবে। কোন কল দিতে পারবে না। পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে ঢোকার পর বাইরে থেকে ডিভাইসটিতে ফোন করা হত। পরীক্ষার্থী কৌশলে সেই কল রিসিভ করে প্রশ্ন জানিয়ে দেয় বাইরে থাকা এ চক্রের সদস্যদের। এরপর বাইরে থেকে ওই প্রশ্নের দ্রুত উত্তর বের করে ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হত। নিয়োগ পরীক্ষায় এধরনের অপকর্মকারী চক্রের ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গ্রেফতারকৃত ১০ জনের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন ব্যাংকের অফিসার পদে কর্মরত আছে। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ক্ষুদ্র ব্যাটারি ও ইয়ারপিসসহ ১৩টি বিশেষ ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও পলাতক ব্যক্তি ও যারা ইতোপূর্বে এ ডিভাইসের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত পরিদর্শকরা যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন ও নজরদারি করলে এ ধরণের অপকর্মরোধ করা সম্ভব বলেও জানিয়েছে ডিএমপি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.