ঢাকা, মঙ্গলবার,০২ জুন ২০২০

আইন ও বিচার

যুদ্ধাপরাধে ৬৩ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শেষ ৩৩ মামলায়

বাসস

২৪ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৪:১৭


প্রিন্ট

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৬৩ মামলায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ৩৩ মামলার বিচার শেষ হয়েছে। বিচার শেষ হওয়া ৩৩ মামলার মধ্যে ৩১ মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। ২টি মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।

গত ২১ মার্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে যে কোন দিন রায় (সিএভি) ঘোষণার জন্য রাখা হয়েছে। এটি হবে ট্রাইব্যুনালের ৩২তম রায়। অপরদিকে মৌলভীবাজারের রাজানগর উপজেলার সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক আকমল আলী তালুকদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্কশেষে গত ২৭ মার্চ মামলাটি যেকোন দিন রায় ঘোষণার (সিএভি) জন্য রাখা হয়েছে। এটি হবে ট্রাইব্যুনালের ৩৩ তম রায়। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির সময় আসামিদের মধ্যে আকমল আলী তালুকদার (৭৩) হাজির ছিলেন। বাকি তিন আসামি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আব্দুন নূর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া, আনিছ মিয়া ও আব্দুল মোছাব্বির মিয়া পলাতক।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল পৃথক মামলার রায় ঘোষণা করবে।

প্রসিকিউটর সায়েদুল হক সুমন আজ মঙ্গলবার বাসস’এর সঙ্গে আলাপকালে শিগগিরই এ দুই মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে আশা পকাশ করেন।

গত ১৬ এপ্র্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোরের বাঘারপাড়ার মো: আমজাদ হোসেন মোল্লাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এটি তদন্ত সংস্থার ৬৩তম প্রতিবেদন।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

এদিকে রায় হওয়া ৩১ মামলার মধ্যে আপিলে ৭টি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া আরও ৩ মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আনা আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিন মামলার আসামিরা হচ্ছেন- এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সৈয়দ মো: কায়সার ও মাওলানা আবদুস সুবহান।

আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেছিল ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর সৈয়দ মো: কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আবদুস সুবহানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল।

আইন অনুযায়ী সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত এই তিন আসামিই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে।

এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতে সাতটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তন আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তন দুই সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতেও জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছিল।

আরো বেশকটি মামলা আপিলে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি ও নিস্পত্তি হবে বলে জানান এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫