আসছে বৃষ্টির মওসুম

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

হ্যাঁ, বৃষ্টির মওসুম কিন্তু আসছে। আপনার বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফোরে পানি জমবে এটা নিশ্চিত। সেই পানি সেচ দিতে হবে এটাও নিশ্চিত। নতুবা আপনাকে সাঁতার কেটে বাহিরে আসা-যাওয়া করতে হবে। সুতরাং আজই পানি সেচের মেশিন কিনে ফেলুন আর আপনি থাকুন নিশ্চিন্ত।
যদিও আপনি কঠিন ভ্রমণপিপাসু লোক। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় কিংবা উপয্ক্তু স্থানের অভাবে আপনি ভ্রমণ করতে পারেন না। বলছিলাম নৌকা ভ্রমণের কথা। তো নো চিন্তা ডু ফুর্তি। এই বৃষ্টির মওসুমে আপনার বাসার গ্রাউন্ড ফোরে যে পরিমাণ পানি জমবে তাতে অনায়াসেই নৌকা ভ্রমণ করতে পারবেন। তাহলে আর দেরি কেন আজই নৌকা কিনে ফেলুন আর নৌকাভ্রমণের অপেক্ষায় থাকুন।
যেহেতু বৃষ্টির মওসুম আসছে। সুতরাং বৃষ্টিকে বৃদ্ধাঙুলি দেখাতে আপনার দরকার একটি ছাতা। ছাতা বলতে ব্যাঙের ছাতার কথা বলছি এটা ভাবলে ভুল করবেন। ব্যঙ্গের ছাতা দিয়ে কিন্তু ব্যাঙও বৃষ্টি হতে রেহাই পায় নাÑ কথাটা আপনার জ্ঞাতার্থে বলেই ফেললাম। আর একখান কথা, উঁকিঝুঁকি মেরে অন্যের কেনা পত্রিকা মাগনা পড়ার সুবিধা পেলেও বৃষ্টির সময় রাস্তায় কোনো সুন্দরী মেয়ের ছাতা আপনি এক মিনিটের জন্যও ধার পাবেন না এটা নিশ্চিত। তাই আপনার দরকার বড় সাইজের ছাতা।
এটা কোনো বাংলা সিনেমার বিজ্ঞাপন নয়। বলছিলাম বৃষ্টির মওসুমের কথা। জি ভাই, বৃষ্টির মওসুম আসছে, সাথে আসছে কালবৈশাখী ঝড়। যারা পরচুলা ব্যবহার করেন তাদের জন্য অশনি সঙ্কেত। ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড়ে, আপনার পরচুলা যেতে পারে উড়ে, হাজার মাইল দূরে। তাই যথাযথ ব্যবস্থা নিন, বলা তো যায় না কখন শুরু হয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড় আর আপনার নকল চুল হয়ে যায় পর।
যেহেতু বৃষ্টির মওসুম আসছে। আপনার বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফোরে পানি জমবেই। একসময় তা বুক সমান হয়ে যাবে। আপনি এই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেন সুকৌশলে। আপনার ছেলেমেয়েকে সাঁতার শিখানোর এটাই মোক্ষম সময়। লজ্জার কিছু নেই। আপনি যদি সাঁতার না জানেন তাহলে এই সুযোগটি আপনিও কাজে লাগাতে পারেন। সুতরাং এখনই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।
জি জনাব, বৃষ্টির মওসুম আসছে। পার্কে বসে চার চোখে কথা বলা আর নিশ্চিন্ত মনে কুটকুট করে বাদাম খাওয়ার দিন শেষ। এখন পার্কে ডেটিংয়ে গেলে আপনাকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে। নচেৎ নচিকেতার হঠাৎ বৃষ্টিতে আপনার ইয়েকে নিয়ে ছাগল দৌড়ানি খেতে হবে। আর যদি জিদ করে বসে থাকেন তাহলে আপনাকে ভিজে লুটুস পুটুস হতে হবে। তখন আপনি শিয়াল ভেজা হয়ে যাবেন আর শিয়াল ভেবে পাবলিকের দৌড়ানিও খেতে পারেন।
বৃষ্টির মওসুম আসছে। বৃষ্টির মওসুমে সামান্য বৃষ্টিতে ঢাকার রাস্তায় হাঁটু পানি জমবে কোথাও কোথাও অবস্থান নেবে কোমরসমান পানি। তো হাঁটু পানিতে রাস্তায় কোন পজিশনে ম্যানহোল আছে জানাটা দুষ্কর। তাই আপনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গুগল কর্তৃপক্ষের কাছে একখান জুতসই দরখাস্ত লিখুন যাতে তারা গুগল ম্যাপে ঢাকার ম্যানহোলগুলির সঠিক পজিশন নির্দেশ করে। এতে আপনি পানির নিচে লুকানো ম্যানহোলের চিপায় পড়ে বড় বিপদ হতে রক্ষা পাবেন সঙ্গে আমজনতাও।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.