কালজয়ী কবি মির্জা গালিব

১৮৬৫-এ শুধু এই এক বছরেই তিনি উর্দুতে ১৭৯২টা শ্লোক এবং ফার্সিতে ১১৩৪০টা শ্লোক লিপিবদ্ধ করেন।
বলা হয়Ñ ‘গালিবের ফার্সি শ্লোক যদি না পড়া হয় তবে তাঁর কবিতার কিছুই পড়া হলো না’ ! - (ডা: সৈয়দ তাকি আবেদি-ইরান)
আজকাল আমরা যাঁদের কণ্ঠে প্রসিদ্ধ যেসব গজল শুনি, বেশির ভাগই গালিবের-ই লিখা গজল। এবং যাঁরা গেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন তাঁরা-জগজিৎ সিং, মেহেদি হাসান, মো: রফি, গোলাম আলী, আশা ভোঁসলে, লতা মঙ্গেশকর, আবিদা পারভিন, ফরিদা খাতুন, টিনা খান, বেগম আকতার, রাহাত ফাতেহ্ আলী খান প্রমুখ সবারই কণ্ঠে গালিবের গজলই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে। গালিবের পূর্বে ত্রয়োদশ শতাব্দীর খ্যাতিমান উর্দু কবি আমির খসরু, পঞ্চদশ শতাব্দীর উর্দু খ্যাতিমান কবি মিরা বাই, ১৬ শতাব্দীর মো: কুলি কুতুব শাহ্ এবং তাঁর সময়কার মো: ইব্রাহিম খান, খাজা হায়দার আলী, ইমাম বক্স প্রমুখ এবং তাঁর পরের কবিরা, কেউ আজও পর্যন্ত এই যশস্বী শক্তিধর কবির মতো পৃথিবীব্যাপী ঈর্ষণীয় খ্যাতি অর্জন করতে পারেনি!
গালিব ছিলেন একজন কোমল হৃদয়ের অতি দয়ালু প্রকৃতির মানুষ, তাঁর প্রমাণ, তাঁর রচনাÑ ‘দাশাম্ব দিনলিপিতে মোগলদের পতন কাহিনী ও সিপাহি বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে (১৮৫৭) অতি করুণ ও মর্মান্তিক ভাষায় বিদগ্ধ শ্লোকে ফুটে উঠেছে।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি অতিকষ্টে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কারণ, ১৮৫৭-এর সিপাহি বিদ্রোহ তাঁর জীবনকেও তছনছ করে দিয়েছিল। গালিব তাঁর জীবদ্দশায় জীবনের জন্য কখনো জীবিকা অর্জন করেননি, ফল হিসেবে মৃত্যুর আগে তাই তাঁকে উপোস থেকেও দিনাতিপাত করতে হয়েছিল।
তিনি তাঁর নিজের সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি বেঁচে থাকতে তাঁর গুণকে কেউ স্বীকৃতি না দিলেও পরবর্তী প্রজন্ম তাঁকে স্মরণ করবে। সত্যিই পরে ইতিহাসের সত্যতা প্রমাণ করেছিল।
১৮৬৯ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ৭১ বছর বয়সে এই অমর মহান কবি ভারতবর্ষে দিল্লির বালিমারান, চাঁদনি চকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
তাঁর সমাধির শ্বেতপাথরের গায়ে যেন আজো দেখতে পাই তাঁরই লেখা অভিমানের বাণীÑ
সাড়ে তিন হাত জমি-ই ছিল যে
গালিবের নজরানা,
মৃত্যুর শেষে পেলে অবশেষে
জমিটির মালিকানা! হ

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.