ঢাকা, বুধবার,০৩ জুন ২০২০

উপমহাদেশ

সুন্দরীবিষয়ক জটিলতা : ডায়ানার তোপে বিপ্লব

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৮ এপ্রিল ২০১৮,শনিবার, ১৬:৫৮


প্রিন্ট
সুন্দরীবিষয়ক জটিলতা : ডায়ানার তোপে বিপ্লব

সুন্দরীবিষয়ক জটিলতা : ডায়ানার তোপে বিপ্লব

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নীরব থাকার’ দাওয়াইয়ের পরও লাগামহীন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। ক’দিন আগেই ‘মহাভারতীয় যুগে ইন্টারনেট ছিল’ বলে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছিলেন তিনি। এবার ‘বিশ্বসুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় ডায়না হেডেনের মুকুট জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন বিতর্ক বাঁধালেন বিপ্লব।

তাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ভারতজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ত্রিপুরার নবীন মুখ্যমন্ত্রীকে। মুখ খুলেছেন ডায়না নিজেও। শুক্রবার এক টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, একজন মন্ত্রী কিংবা নেতার মন্তব্য হওয়া উচিত প্রয়োজনীয় কর্তব্য পালনের কথা ভেবেই। বিজেপি’র ওই নেতার মন্তব্যে দুঃখ পেলেও নিজের গায়ের রং নিয়ে আমি আজও গর্বিত। কারণ আমার জীবন-সংগ্রামের এটাই অন্যতম মূলধন। একেবারে ছোটবেলা থেকে গায়ের রং নিয়ে লড়াই করেছি। এবং সেই লড়াইয়ে আমি সফলও বটে। ১৯৯৭ সালে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট উঠেছিল ডায়না হেডেনের মাথায়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতা, মন্ত্রীদের আলটপকা মন্তব্য করা থেকে শত হাত দূরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সংবাদ মাধ্যমের হাতে অকারণ বিতর্ক তুলে দেয়ার রসদ জোগানো থেকে বিরত থাকুন। কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য করবেন না। নীরব থাকাটাও একটা শিক্ষার বিষয়।

প্রধানমন্ত্রীর এহেন সতর্কবার্তার পরও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ‘বিশ্বসুন্দরী’ প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে নতুন করে বিড়ম্বনায় ফেললেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ঠিক কী বলেছিলেন বিপ্লব দেব? আগরতলায় আয়োজিত হস্তশিল্পের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই। সুন্দরী-শিরোপার মুকুটও পেয়েছেন। তিনি সত্যিকারের ভারতীয় মহিলাদের প্রতিনিধি হিসেবে এই সম্মান পেয়েছেন। প্রতিনিধির তালিকায় দেবী সরস্বতী এবং লক্ষ্মীকেও ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে রেখে বিপ্লবের সংযোজন, ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হিসাবে যথার্থ বিবেচ্য ঐশ্বরিয়া রাই। কিন্তু ডায়না হেডেনের বিশ্বসুন্দরীর খেতাব অর্জন আমার বোধগম্যের বাইরে। আপনারাও কি মনে করেন, ডায়না এমন শিরোপা পাওয়ার উপযুক্ত? এরই পাশাপাশি বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতাকে ‘প্রহসন’ বলেও দাবি করেছেন বিপ্লব।

এখানেই থেমে থাকেননি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকদের বিরুদ্ধেও মুখ খুলেছেন তিনি। বলেছেন, এইসব সুন্দরী প্রদর্শনের আয়োজকরা আসলে ‘আন্তর্জাতিক মার্কেটিং মাফিয়া’। সেই বিপ্লব এও বলেছেন, পূর্বে ভারতীয় মহিলারা কোনো ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করতেন না। তারা মেথি ভেজানো পানি দিয়ে চুল পরিষ্কার করতেন। সাবান হিসাবে ব্যবহার করতেন মাটি। এখন দেশের প্রতিটি কোণায় কোণায় বিউটি পার্লার গজিয়ে উঠেছে। দেদার বিকোচ্ছে প্রসাধনী সামগ্রী। ফলে এসব ক্ষেত্রে ভারতের বাজার ক্রমেই বড় হচ্ছে। সেই বাজার ধরতেই আন্তর্জাতিক মার্কেটিং মাফিয়ারা উঠেপড়ে লেগেছে দাবি বিপ্লবের।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫