ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৮ মে ২০২০

উপমহাদেশ

মরা মুরগি বিক্রি করে কোটিপতি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

৩০ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ০৬:৩৩


প্রিন্ট
মরা মুরগি বিক্রি করে কোটিপতি

মরা মুরগি বিক্রি করে কোটিপতি

মরা মুরগি বিক্রি করে কোটিপতি! পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের গ্রাম থেকে দু’‌বছরের মধ্যে লেক টাউনে ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন তিনি। নাম তার কাউসার আলী ঢালি। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কাঁটারআটি গ্রামে নতুন বাড়ি। দুটি গাড়িও। আগে গ্রামের বাড়িতেই ছিল মুরগির খামার। সেটি বন্ধ করে সে মন দেয় মরা মুরগির কারবারে। কলকাতার আশপাশে কোনো এলাকার খামারে মুরগি বেশি মরেছে, ‌কোন বাজারে মাংসের চাহিদা আছে জানতে সে লিঙ্কম্যানও লাগিয়েছিল। তারাই সন্ধান দিত কোন কোন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় কীভাবে পৌঁছনো হবে ভাগাড়ের মাংস। এমন ৫ জন লিঙ্কম্যানকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কাউসার অন্যতম জোগানদার হলেও ভাগাড়ের মাংস–কাণ্ডের মূল চাঁই অবশ্য কাঁকিনাড়ার শরাফত হোসেন। ১৫–‌২০ বছর ধরে সে মরা পশুর মাংসের ব্যবসা চালাচ্ছিল। সে–ও কোটিপতি। কাঁকিনাড়ায় তার পাঁচতলা বাড়ি। গাড়িও। তার পরিবারের অবশ্য দাবি, শরাফত চামড়া, হাড় আর মিনারেল ওয়াটারের ব্যবসা করে।

রোববার নারকেলডাঙায় একটি বরফকলের খোঁজ মিলেছে। সেখানে বরফ তৈরির আড়ালে মরা মুরগির মাংস মজুত করা হতো। আপাতত সেটির মালিক উধাও। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। মরা মুরগির চক্রের রহস্যভেদে ‘সিট’ (বিশেষ তদন্তকারী দল) তৈরির ভাবনা চলছে। জানা গেছে, ৫০ রুপিতে কেজিতে মরা মুরগি কিনে প্রক্রিয়াকরণের পর তা পাঠানো হতো বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, হোটেল–রেস্তোরাঁয়।

রোববার সকালে গড়িয়ার বোড়ালে এক বাইক–আরোহীর সঙ্গের দু’টি ব্যাগে ১০০ কেজি মুরগির মাংস মেলে। ছড়ায় আতঙ্ক। পুলিশ এলে জানা যায়, সেগুলি তাজা মাংস। তবে একের পর এক জায়গায় মরা মুরগি উদ্ধার হওয়ায় কমেছে বিক্রি। কমেছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কাটা মাংসের বিক্রিও। ছোট রেস্তোরাঁ, রাস্তার পাশে রোল, চাউমিনের দোকানেও মাংসের পদের বিক্রি কমেছে। আগে থেকে কেটে রাখা মুরগির বিক্রি নেই। সকলে জ্যান্ত মুরগি সামনে কাটিয়ে নিচ্ছেন। মওকা বুঝে দামও বেড়েছে তার। আর বাঙালির ভিড় বেড়েছে এখন মাছের বাজারে।‌‌‌

কলকাতায় আতঙ্ক, ডাস্টবিনের মরা গরুর মাংস অভিজাত রেস্তোরাঁয়
বিবিসি
কলকাতায় বিরিয়ানি, কাবাব, কাবাব-রোলের বহু সমঝদার শনিবার থেকে ভুলেও ওই সব মাংসের রেস্তোরার দিকে পা মাড়াচ্ছেন না।

ডাস্টবিন-ভাগাড়ের মরা পশুর মাংস হোটেল, রেস্তোরাঁর কাছে বিক্রি করে এমন একটি চক্রকে আটকের খবর প্রচার হওয়ার পর থেকে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে মানুষের ভেতর চরম মাংস-আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশের এসপি কোটেশ্বর রাও বিবিসিকে বলেন, দিন চারেক আগে কলকাতার কাছে বজবজ এলাকায় ঘটনাক্রমে চক্রটির সন্ধান পান তারা।

বজবজে একটি বহু পুরনো ভাগাড় রয়েছে যেখানে গরু, মহিষ, ছাগল, কুকুরসহ সমস্ত মৃত পশুর দেহ এনে ফেলা হয়।

ভোরের দিকে ঐ ভাগাড়ের কাছেই একটি রাস্তায় একটি গাড়ি কাদায় আটকে গেলে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দেখতে পান ভার কমাতে গাড়ির পেছনে থেকে বেশ কিছু প্যাকেট নামানো হচ্ছে। মাংসের কটু গন্ধ পেয়ে মানুষজন গাড়ির লোকগুলোকে ধরে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গাড়ির চালক এবং সঙ্গীরা একপর্যায়ে স্বীকার করে তারা বজবজের ভাগাড় থেকে রাতের বেলা মৃত পশুর মাংস কেটে নিয়ে যেত।

পুলিশ বলছে, এরপর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং অনুসন্ধানের পর তারা এখন জানতে পারছে যে একটি চক্র কয়েক বছর ধরে কলকাতার আশপাশে কয়েকটি ভাগাড় থেকে রাতের বেলায় এসব মরা পশুর মাংস সংগ্রহ করে আসছে।

এইসব মৃত পশুর মাংস কেমিক্যাল দিয়ে দুর্গন্ধমুক্ত করে, তাজা মাংসের সাথে মিলিয়ে হিমায়িত করে দোকানে, রেস্তোরাঁয়, ফুটপাতের কাবাব রোলের দোকানগুনোতে সরবরাহ করতো।

ভাগাড়ে নতুন পশু ফেলা হলে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্মচারীদের ভেতর থেকে এসব মাংস ব্যবসায়ীর কাছে খবর চলে যেত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া খবরের সূত্র ধরে কলকাতার কাছে হাওড়ার একটি কোল্ড-স্টোরেজ থেকে এরকম দুই টন হিমায়িত মাংস উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জায়গা থেকে পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে। তাদের একজন নদীয়া জেলার কল্যাণী পৌর এলাকার সাবেক একজন কমিশনার। একজনকে পাশের রাজ্য বিহার থেকে আটক করা হয়েছে।

এসপি কোটেশ্বর রাও বলেন, "বজবজে সেদিন গাড়ি কাদায় না আটকালে এ কেলেঙ্কারি হয়তো ধরাই পড়তো না।"

এসব মাংস কিনতো কারা? এই প্রশ্নে মি রাও বলেন - "আমরা সন্দেহ করছি এমনকী বড় কিছু রেস্তোরা ব্রান্ডেও যেত এই মাংস। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নাম বলা যাবে না"।

কলকাতায় মাংস আতঙ্ক

ভাগাড়ের মরা পশুর মাংস বিক্রির কেলেঙ্কারির পাশাপাশি, পোল্ট্রি খামার থেকে মরা মুরগি কিনে সেই মাংস রেস্তোরায় বিক্রির একটি চক্রের ৮ জনকে পুলিশ শুক্রবার আটক করেছে।

এর ফলে পুরো মাংস খাওয়া নিয়েই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে কলকাতায় ।

কলকাতায় বিরিয়ানি, কাবারের নামীদামী বেশ কিছু রেস্তোরাঁর পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাস্তার পাশে বহু ছোটো ছোটো ছাপড়া ধরনের বিরিয়ানি বিক্রির দোকান গজিয়েছে। ফুটপাতে রয়েছে শত শত কাবাব রোল এবং চিকেন নুডলসের দোকান।

কলকাতায় আমাদের সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী বলছেন, এসব দোকানে মানুষ এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। বেশ কটি চালু বিরিয়ানির দোকানও বন্ধ থাকতে দেখেছেন তিনি।

কলকাতার কলেজ শিক্ষক অপর্না দাস বিবিসিকে বলেন - "শনিবার বন্ধুদের এক পুনর্মিলনীতে আমরা বলে দিয়েছিলাম কোনো চিকেন, মাটন রাখা চলবে না।"

"আমার মাঝে মধ্যেই সন্দেহ হতো এত সস্তায় বিরিয়ানি দিচ্ছে কী করে? এখন তো দেখছি সন্দেহ সত্যে পরিণত হলো। কী যে খেয়েছি এত দিন"!

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫