ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৮ মে ২০২০

উপমহাদেশ

শারীরিক সম্পর্কহীন ৯ বছরের সংসার : বিয়ে বাতিল করে দিল আদালত

নয়া দিগন্ত অনলাইন

৩০ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১২:২৭


প্রিন্ট
প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি

বিয়ের পর একে একে কেটে গেল ৯টি বছর। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যৌন সংসর্গ হয়নি। আর আদালতের শরণাপন্ন হলে সে বিয়েটাই বাতিল করে দেন বিচারক। 

ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের ওই দম্পতির বিয়ে হয় ২০০৯ সালে। স্বামীর বয়স তখন ২৪, স্ত্রীর ২১। মহিলার দাবি, সাদা কাগজে সই করিয়ে তাকে ভুল বুঝিয়ে বিয়ে করানো হয়, ঠকানো হয় তাকে। যদিও তার স্বামী অস্বীকার করেন এই অভিযোগ। বিয়ের পর থেকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ছেন তারা।

বম্বে হাইকোর্টের বিচাররক মৃদুলা ভাস্কর তার রায়ে বলেন, বিয়ে যে ঠকিয়ে হয়েছিল তার কোনো প্রমাণ নেই। মহিলা প্রাপ্তবয়স্কা, শিক্ষিতা। সুতরাং ভুল বুঝিয়ে তাকে বিয়ের কাগজে সই করানো হয়েছিল মনে করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু যেহেতু স্বামী-স্ত্রী বিয়ের পর থেকে একদিনও একসঙ্গে থাকেননি, তাদের মধ্যে কখনো যৌন সংসর্গ হয়নি, তাই এই বিয়ে খারিজ করা হলো।

বিচারপতি বলেন, বিবাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত যৌন সম্পর্ক। তার অভাবে বিয়ে অনেকটাই অর্থহীন হয়ে যায়। এমনকী মাত্র একবারও যদি তা ঘটে, তাহলেও বিয়ে সফল বলে ধরে নিতে হবে। এই মামলায় স্বামী যদিও দাবি করেন যে, তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয়েছে। কিন্তু দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি মেনে বিয়ে বাতিল করা হলো।

স্বামী দাবি করেছিলেন, তার স্ত্রী একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে তার প্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেননি। আদালত বলে, সমস্যা মিটিয়ে নেয়ার জন্য ওই দম্পতিকে আগেও পরামর্শ দিয়েছিল তারা, কিন্তু লাভ হয়নি।

মহিলার দাবি মেনে নিম্ন আদালত ডিভোর্স মঞ্জুর করলেও আপিলে যায় স্বামীর পক্ষ। কিন্তু হাইকোর্ট এবার মহিলার দাবিতেই সীলমোহর দিল।

নাবালক কিশোরকে ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতার গৃহবধূ
এক কিশোরকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক গৃহবধূ। ভারতের কর্নাটকের কোলার গোল্ড ফিল্ড এলাকায় একই পাড়ার বাসিন্দা দু-জনেই। দিন কয়েক আগে ১৭ বছরের কিশোরের সঙ্গে পালায় ২৪ বছরের ওই মহিলা। ছেলেটি নাবালক হওয়ায় যৌন আগ্রাসন থেকে শিশুদের রক্ষার আইন- পক্সো অনুযায়ী গৃহবধূর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনাটি ২০১৭ সালের। ২৪ বছরের ওই মহিলার স্বামী খাবার পানি সরবরাহের ব্যবসা করেন। বছর দুয়েক আগে বিয়ে হয় নিঃসন্তান এই দম্পতির। পাড়ারই এক কিশোরের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৪ অক্টোবর স্থানীয় থানায় স্ত্রীর নামে নিখোঁজ ডায়রি করেন। পরের দিন সকালেই স্কুলছুট ওই কিশোরের বাবাও থানায় ছেলের নামে নিখোঁজ ডায়রি করাতে আসেন। ঘটনাচক্রে ওই গৃহবধূর ছবি তখন টেবিলের ওপরেই রাখা ছিল। ওই মহিলাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানতে পেরে কিশোরের বাবা দাবি করেন যে তারা দুজনে একই সঙ্গে কোথাও যেতে পারে।

পাড়ায় খোঁজখবর নিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। ওই মহিলা দেড় লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে জানায় তার স্বামীও। কোলার গোল্ড ফিল্ড বাসস্ট্যান্ডের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুজনের একসঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশগামী বাসে ওঠার ফুটেজ দেখতে পায়। বিশাখাপত্তনম, বিজয়ওয়াড়া, নেল্লোরের মতো বিভিন্ন জায়গায় তারা ঘুরে বেড়াতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ু থেকে ১৩ নভেম্বর তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ডাক্তারি পরীক্ষায় দুজনের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় মহিলার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫