ঢাকা, রবিবার,৩১ মে ২০২০

মতামত

মানবিক হোক রাজনীতি

মো: এনায়েত উল্লাহ

৩০ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১৭:৫৩


প্রিন্ট
মানবিক হোক রাজনীতি

মানবিক হোক রাজনীতি

কোটা সংস্কার ছাত্রছাত্রী ও চাকরি প্রার্থীদের যৌক্তিক দাবি হিসেবে সর্বমহলের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছিল। এমন কি একটি পর্যায়ে ছাত্রলীগও বিবৃতি দিয়ে বলেছিল যে, প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের কথা বিবেচনা করে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাহলে এখন কেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ আসছে এ ছাত্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে? আগামী বছরের শুরুর দিকে বহুল প্রত্যাশিত ঢাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা। এখন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরকে উত্তপ্ত ও হয়রানি করলে, সে নির্বাচনে ছাত্রলীগের পরিণতি কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল কর্তৃপক্ষের এমন বিমাতাসুলভ আচরণে স্বভাবতই তারা তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে ব্যালটের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন বলে বিশ্বাস করি।

এক-এগারোর অবৈধ সরকারের সময় দুই নেত্রীই জেলে ছিলেন। জেলের পরিবেশ, পরিস্থিতি ও কষ্টকর অভিজ্ঞতা দুইজনেরই আছে। বেগম খালেদা জিয়া আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। জেলে যাওয়ার পর তার আগের সমস্যাগুলো আরো বেড়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে। অনুমিত থাকা সত্ত্বেও ইতোমধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জ ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যদের তার সাথে সাক্ষাৎ করতে বাধা দেয়া হয়। দলের পক্ষে দাবি করা হয়েছে হাঁটুর ব্যথা বাড়ার কারণে তিনি হেঁটে নিচে নামতে পারছেন না। ইতঃপূর্বে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশের আলোকে তাকে অর্থোপেডিক বেড দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির সিনিয়র দুইজন নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বেগম জিয়ার চাহিদামতো রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় চেকআপ করাতে বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন।

বেগম জিয়া শুধু একজন বয়স্ক মহিলাই নন; তিনি জনগণের ভোটে একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কারাবিধি অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ সুবিধা প্রাপ্তি ও তা নিশ্চিতের দায় রাষ্ট্রের তথা কারা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের। তার অসুস্থতার ব্যাপারে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। অসুস্থতার মাত্রা কতটা তা স্পষ্ট করে যথাযথ চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা সরকারের দায়িত্ব। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগের বক্তব্য ও কারা কর্তৃপক্ষের বর্তমান আচরণ মিলছে না। তাই জনমনে প্রশ্ন কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধেই উঠবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বেগম জিয়ার প্রতি আপনার ব্যক্তিগত রাগ বা ক্ষোভ আছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে না। যেটুকু বিরোধিতা তা কেবলই রাজনৈতিক বা আদর্শিক। আদর্শিক বা নীতিগত ব্যাপারে রাজনৈতিক বিরোধিতা দোষের নয়। আপনার ব্যক্তিগত হৃদ্যতা ও উদারতা ইতঃপূর্বে আমরা দেখেছি, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু, এক-এগারোর অবৈধ সরকারের সময় বিশেষ জেলখানা, স্বৈরাচারবিরোধী অন্দোলন বা তারো আগে। ব্যক্তি খালেদা জিয়া আর প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক নন। সরকার প্রধান হিসেবে তার অনেক ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে।

আবার বিরোধী দল হিসেবেও আন্দোলনের প্রশ্নে অনেক অভিযোগ বা আন্দোলনের ধরন, যৌক্তিকতা নিয়েও কথা থাকতে পারে; কিন্তু দিনশেষে সবাই মানুষ। কেউ-ই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমার কাছে যেটা ভুল আরেকজনের কাছে সেটাই সঠিক; কিন্তু চূড়ান্ত বিচার করবে দেশের জনগণ। আপনার মানবিকতার অনেক নজির প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি, আন্তর্জাতিক মহলও আপনার নানাবিধ মানবিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। যার সাম্প্রতিক নজির আমরা দেখেছি মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় প্রদানে। নিজ দেশের সত্তরোর্ধ্ব বয়স্ক মহিলা এবং জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ থাকবেন বা প্রাপ্য সুবিধাদি থেকে বঞ্চিত হবেন এটা আপনি মেনে নেবেন বলে জনগণ বিশ্বাস করে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি নেত্রী শুধু আপনার রাজনৈতিক বা ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সহযোগী ও সহযোদ্ধা। তিনি তার প্রাপ্য অধিকার জামিন থেকে বঞ্চিত এবং তার চাহিদামতো জায়গায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না। আমি বিশ্বাস করি, আপনার সামান্য উদ্যোগই যথেষ্ট তাকে কোর্ট কর্তৃক জামিনের ব্যবস্থা করা। কারণ, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল বিরোধিতা না করলে বা জামিন স্থগিতের আবেদন না করলে সহজেই তিনি জামিন পেতেন। কোনো দলীয় রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করা আমার উদ্দেশ্য নয়, সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে লিখছি।

আজকে আপনার বিশেষ উদ্যোগে বেগম জিয়া মুক্তি পেলে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাংলার জনগণের কাছে বাড়বে বৈ কমবে না। আপনার এ মহত্ব ও উদারতা আগামী রাজনীতির জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে কখনো ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেও এ উদারতার কথা মাথায় রেখে ওলটপালট কিছু করতে অন্তত দশ বার ভাবতে হবে। মানবিক ও রাজনৈতিক এ মহত্ব ও উদারতা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত করবে বলে মনে করি। রাজনীতিতে বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করার মোক্ষম অস্ত্র হলো- সততা, স্বচ্ছতা ও উদারতা। আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ উদারতা খুবই প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর একটু আন্তরিক উদ্যোগই পারে সব পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ বাড়াতে। তাতে জাতির জনকের ন্যায় আপনার নামটিও এদেশের প্রতিটি নাগরিকের অন্তরে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫