ঢাকা, মঙ্গলবার,৩১ মার্চ ২০২০

উপমহাদেশ

পশ্চিমবঙ্গ থেকে মরা গরুর মাংস প্রতিবেশী দেশেও রফতানি!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৪ মে ২০১৮,শুক্রবার, ০৬:২৭


প্রিন্ট
পশ্চিমবঙ্গ থেকে মরা গরুর মাংস প্রতিবেশী দেশেও রফতানি!

পশ্চিমবঙ্গ থেকে মরা গরুর মাংস প্রতিবেশী দেশেও রফতানি!

বাক্সের ওপরের দিকে থাকত চিংড়ি বা ইলিশ মাছ। আর তার তলাতেই ভাগাড়ের মাংস। এ ভাবেই পাক্কা ১০ বছর ধরে রমরমা ব্যবসা চলছিল ভাগাড়ের তথা ডাস্টবিনের মরা পশুর মাংসের।

কেবল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নয়, ভিন রাজ্য এমনকী প্রতিবেশী ভিন দেশেও ঠিক এ ভাবেই হাজার হাজার কেজি পচা মাংস চালান যেত বলে কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভাগাড় কাণ্ডের মূল পাণ্ডা বিশ্বনাথ ঘড়াই ওরফে বিশুকে গ্রেফতার করার পর, এই চক্রের আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগ দেখে রীতিমত হতবাক গোয়েন্দারা। বিহারের নওয়াদা থেকে সানি মালিক নামে মাংস পাচার চক্রের অন্যতম লিঙ্কম্যানকে পাকড়াও করেই সোনারপুরের মাছ ব্যবসায়ী বিশুর নাম পেয়েছিল ভাগাড় কাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ তদন্তকারী দল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনারপুরের বাসিন্দা বিশুর পারিবারিক মাছের ব্যবসা। সেই ব্যবসার প্রয়োজনেই সে রাজাবাজারে গ্যাস স্ট্রিটের কোল্ড স্টোরেজে দু’টি গোডাউন ভাড়া করেছিল। সেই গোডাউন থেকেই গত সপ্তাহে পুলিশ ২০ টন ভাগাড়ের মাংস উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই ফেরার ছিল বিশু। দুর্গাপুর, আসানসোল এলাকায় গা-ঢাকা দিয়েছিল সে। বুধবার রাতে টাকার জন্য সোনারপুর এলাকাতে ফিরতেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে। জেরায় বিশুর দাবি, অতিরিক্ত মুনাফার লোভেই মাছের আড়ালে মাংস মজুত করা শুরু করে সে। তার পর নিজেই এই ভাগাড়ের মাংসের কারবারে নেমে পড়ে। হিমঘরে চিংড়ি ও ইলিশের মাছের বাক্সের আড়ালে রাখা হতো মাংসের প্যাকেট, যাতে মাংসের পচা গন্ধ মাছের বলে চালানো যায়।

জেরায় পুলিশ বিশুর কাছ থেকে জানতে পেরেছে, সানির মতো একাধিক লিঙ্কম্যান নিয়োগ করেছিল সে। এই লিঙ্কম্যানরা মূলত কলকাতা ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ভাগাড়ে ফেলে দেয়া মরা পশুর মাংস নিয়ে আসত। সেই মাংস জমা হতো রাজাবাজারের হিমঘরে। সেখান থেকে মাছের আড়ালেই পাচার হতো মাংস। জেরায় সে জানিয়েছে, বজবজের ভাগাড় থেকে মাংস সে নিজের লোক দিয়েই আনাত। তার অন্যতম মাংস সরবরাহকারী ছিল শরাফত— যে কাঁকিনাড়া, জগদ্দল এবং উত্তর ২৪ পরগনার আরো কয়েকটি ভাগাড় থেকে মাংস আনত রাজাবাজারে।

“প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, দিল্লি, পুণে, মুম্বই-এর মতো বড় শহরে নিয়মিত মাছের আড়ালে মাংস পাচার করত বিশু। সম্প্রতি নেপাল এবং ভূটানেও সে এই মাংস সরবরাহ করা শুরু করে”— জানান বিশেষ তদন্তকারী দলের এক সদস্য। বুধবার রাতে রাজাবাজারের হিমঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ প্রচুর পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, লেড সালফেট, ফরম্যালিনের মতো রাসায়নিক পেয়েছে। গুদাম থেকে একটি কম্পিউটারও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই কম্পিউটার থেকে কোথায় কোথায় বিশু মাংস পাচার করত তার সন্ধান মিলবে বলে আশা গোয়েন্দাদের। পুলিশের দাবি— শুধু রাজাবাজার নয়, এখন আরো কয়েকটি হিমঘরে এই মাংস মজুত করে রাখা আছে। বিশুকে জেরা করেই সেই সব গুদামের সন্ধান মিলবে। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতেও তদন্তকারীরা এই চক্রের আন্তঃরাজ্য যোগের কথা জানান।

বিচারক ৮ মে পর্যন্ত বিশুকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ দিকে বৃহস্পতিবারই বিকেলে, উল্টোডাঙা থেকে আটক করা হয়েছে মোহাম্মদ আকলাখ নামে বিশুর ঘনিষ্ঠ আর এক ‘ভাগাড় ব্যবসায়ী’কে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫