ঢাকা, মঙ্গলবার,৩১ মার্চ ২০২০

উপমহাদেশ

পাকিস্তানে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে চীন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৫ মে ২০১৮,শনিবার, ০৮:৩৫


প্রিন্ট
পাকিস্তানে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে চীন

পাকিস্তানে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে চীন

পাকিস্তানে যেভাবে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে তাতে আগামী দিনে আমেরিকাকেও ছাড়িয়ে যাবে চীন। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ বাণিজ্যিক রুটের জন্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যাচ্ছে পাকিস্তানে। তাদের পরিকাঠামোকে আরো চাঙ্গা করতেই এহেন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যেকার সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে চীন ২০ কোটি জনসংখ্যার প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমশ সম্পর্ক জোরদার করছে। আর এজন্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নির্মাণের জন্য প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অর্থায়নের মাধ্যমে এই নতুন মাত্রার সূচনা ঘটে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তানে প্রত্যক্ষ মার্কিন বিনিয়োগ ২০১৩ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০৫ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে প্রতিবেশী চীন থেকে এসেছে ১.৮২ বিলিয়ন ডলার। পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থায় নিয়ে যেতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার এই পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের।

চীন রেল, বন্দর ও মহাসড়কের মাধ্যমে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্যে জোয়ার সৃষ্টির লক্ষ্যে সিল্ক রোড নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। চীন তার প্রতিবেশী পাকিস্তানে তার অবস্থান ক্রমাগত জোরদারও করছে। গত তিন বছরে রেকর্ড ৭৭টি চীনা কোম্পানি পাকিস্তানে ঘাঁটি তৈরি করেছেন। এমনকি, পাকিস্তানের একাধিক সংস্থায় টাকা ঢালছে চীন। এমনকি, পাকিস্তান রেল থেকে বিদ্যুৎ খাতে কয়েক কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে চীন। চীন যেভাবে পাকিস্তানের মাটিতে বিনিয়োগ করছে তাতে পাকিস্তানের মাটিতে ক্রমশ আধিপত্য কমছে আমেরিকার।

অন্যদিকে, চীন যেভাবে পাকিস্তানের মাটিতে আধিপত্য বাড়াচ্ছে তাতে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতেরও। কারণ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাশে যে চিন এসে দাঁড়াবে সেটাই স্বাভাবিক।

 

ইরান অনড়, কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র
রয়টার্স
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা করবে না তার দেশ। সেই সাথে তিনি চুক্তির শর্তে কোনো রকম পরিবর্তন করার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির ‘ভয়ঙ্কর ত্রুটিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে’ সম্প্রতি ইউরোপীয় শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইউটিউবে প্রকাশিত জাভেদ জারিফের এক ভিডিও বার্তায় বলা হয়েছে, সম্পাদিত চুক্তিতে থাকা পূর্ববর্তী শর্তগুলোর কোনো পরিবর্তন ইরান মেনে নেবে না।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের কাছে ইউরোরেনিয়াম প্রকল্প সীমিত করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে চুক্তি স্বার করে ইরান। চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। তবে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ চায় ইউরোপীয় স্বারকারীরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে স্থায়ী অবরোধ আরোপ করুক। যদিও চুক্তি স্বারকারী অন্য দেশগুলো কোনোভাবেই এতে রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের একা এই চুক্তি বাতিলের এখতিয়ার নেই বলেও দাবি করছে তারা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী প্রতি ৯০ দিন পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিশ্চিত করতে হয় যে, ইরান এ সমঝোতা মেনে চলছে। যদি তিনি বলেন, তেহরান সমঝোতা মানছে না তাহলে মার্কিন কংগ্রেস এ সমঝোতা বাতিল করতে বাধ্য। স্বাক্ষরের বছরই জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন-জেসিপিওএ’র আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১২ মে ট্রাম্প চুক্তিটি নতুন করে নবায়ন না করলে নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হবে। ইউরোপিয়ান শক্তিগুলোকে ওই চুক্তির ‘ভয়ঙ্কর ত্রুটিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে’ ওই তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘অতীতে যা নিয়ে আমরা একমত হয়েছিলাম, এখনো সেখানে অটল আছি। কেউ সেটা পরিবর্তন করতে চাইলে মেনে নেয়া হবে না।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তি ‘ঠিক’ করতে ট্রাম্পের সময়সীমা বেঁধে দেয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ‘আমরা সরল বিশ্বাসে যেই চুক্তি করেছি সেখান থেকে সরে আসব না এবং আমাদের দেশের নিরাপত্তা ব্যাহত হয় এমন কিছু করবো না।’ যুক্তরাষ্ট্র বারবার এই চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির এক সিনিয়র পরামর্শকও বলেছেন, এই চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করার কিছু নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো এমনটা চাইলে আমরা চুক্তি থেকে সরেও আসতে পারি। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক এই চুক্তি থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুয়েতেরেস। তিনি বলেন, ইরানের সাথে এই চুক্তি একটি কূটনৈতিক বিজয়। এটি ধরে রাখা প্রয়োজন। ভালো কোনো বিকল্প না থাকলে এটা বাতিলের কথা চিন্তা না করার পরামর্শ তার।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫