ঢাকা, সোমবার,২৫ মে ২০২০

শিক্ষা

এমসিকিউ থাকছে না আসন্ন জেএসসিকে

আমানুর রহমান

০৫ মে ২০১৮,শনিবার, ১৫:০৭


প্রিন্ট
এমসিকিউ থাকছে না আসন্ন জেএসসিকে

এমসিকিউ থাকছে না আসন্ন জেএসসিকে

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী প্রশ্ন) থাকছে না। এ ব্যাপারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ওই সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে জানায়, নির্বাচনের বছর হওয়ায়, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব ঘটছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, যদি সম্পূর্ণরূপে এমসিকিউ বাদ দেয়া না যায়। তবে বর্তমানে যেভাবে এমসিকিউ চলছে, সেভাবে প্রশ্ন থাকবে না। পরীক্ষার্থীকে এমসিকিউ উত্তর দিতে গিয়ে কোনো ধরনের টিক চিহ্ন বা বৃত্ত পূরণ থাকবে না। এমসিকিউর উত্তর দিতে গিয়ে অন্তত একাধিক লাইন পরীক্ষার খাতায় লিখতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের ওই সূত্র নয়া দিগন্তকে বলেন, বছরের চার মাস অতিবাহিত হলেও এ নিয়ে কোনো ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে না শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কারণ সিলেবাসের মধ্যেই প্রশ্ন করা হবে এবং তারই উত্তর লিখতে হবে। এমসিকিউ বাদ দিলে নতুন কোনো সিলেবাস বা বিষয় তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। সূত্র আরও জানান, আসন্ন জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষায় এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী প্রশ্ন) থাকবে না।

এ দিকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশ বাদ দেয়ার জন্য গত দুই বছর থেকেই বলে আসছি। এটি আমার ব্যক্তিগত মত।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্ন যেভাবে করা হয়, তা মান সম্পন্ন নয় এবং বিশ্বব্যাপী এমসিকিউ পরীক্ষায় যেভাবে গ্রহণ করা হয় এবং প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়, তা আমাদের দেশে হয় না। নানা বাস্তবতায় এসএসসি ও এইচএসসিপর্যায়ে তা সম্ভবও নয়।

শিক্ষা সচিব জানান, এমসিকিউ পরীক্ষার ধরনই আলাদা এবং একটি পরীক্ষার হলে প্রতিটি পরীক্ষার্থীর হাতে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন থাকবে। কোনো পরীক্ষার সাথে অপর পরীক্ষার্থীর এমসিকিউ প্রশ্নে মিল থাকবে না। কিন্তু আমরা যে এমসিকিউ পরীক্ষা নিচ্ছি, তাতে সবাই একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে। ফলে পরীক্ষা কক্ষের যে কেউ কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে পারলে, সবাই তাতে টিক চিহ্ন বা বৃত্ত পূরণ করছে। এটি এমসিকিউ নয়।

পাবলিক পরীক্ষায় দেশে প্রথবারের মতো এমসিকিউ প্রশ্ন প্রচলন শুরু হয় ১৯৯২ সালে। ওই বছর এসএসসিতে এমসিকিউ প্রশ্ন প্রবর্তন করা হয়েছিল। তখন মোট ৫০টি বহু নির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো পরীক্ষার্থীদের। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ নম্বর করে। দীর্ঘদিন এ ব্যবস্থা চলার পর প্রশ্ন ফাঁস এবং এমসিকিউর উত্তর শিক্ষকেরা পরীক্ষার হলে বলে দেয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ থেকে প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশের উত্তর দেয়ার বিধান চালু করা হয়।

পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীায় অংশ নিতে হয়। এ ছাড়া ২০১৭ সাল থেকে এমসিকিউ পরীায় ১০ নম্বর কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এখন সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষা থেকেই এমসিকিউ অংশ বাতিল বা তুলে দেয়ার কথা বলছেন শিক্ষাবিদসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কারণ কয়েক বছর থেকে প্রশ্ন ফাঁসের যে মহোৎসব চলছে, তাতে পরীক্ষার এমসিকিউ অংশই ফাঁস হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী প্রশ্নের মুখে পড়ছেন।

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো অভিযোগ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা ও মনিটরিং কমিটির সদস্যরাও বারবার পাবলিক পরীক্ষায় এমসিকিউ বাদ দেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫