স্মরণ : শেখ হবিবর রহমান

বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক শেখ হবিবর রহমানের জন্ম মাগুরা জেলার ঘোষগতি গ্রামে ১৮৯১ সালে। তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১০) ও কলকাতা সিটি কলেজ থেকে আইএ (১৯১২) পাস করেন। কলকাতার ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং স্কুল থেকে এলটি পাস (১৯২২) করেন। মাওলানা মুহম্মদ আকরম খাঁর সাপ্তাহিক মোহাম্মদীর সহকারী সম্পাদক ছিলেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সচিত্র মাসিক সাহিত্যপত্র বঙ্গনূর সম্পাদনা করেন। যশোর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিযুক্ত হন ১৯১৪। ১৯২৪ সালে বরাসত গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে যোগ দেন। একই বছর মক্তব সাব-ইন্সপেক্টর পদে খুলনায় বদলি হন। ১৯২৭ সালে হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুলে ও ১৯৩০ সালে বারাকপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে বদলি হন। ১৯৪৪ সালে সরকারি স্কুলের শিক্ষকতাকর্ম থেকে অবসর নেন।
পরে ১৯৫১ সালে খুলনা করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদে যোগ দেন। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ঐতিহ্যসচেতনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মুক্তবুদ্ধিজাত চিন্তা, মানবিক প্রেম ও নিসর্গ চেতনাকে কেন্দ্র করে তার কবিকল্পনা বিকশিত হয়েছে। গল্প, প্রবন্ধ, ইসলামের ইতিহাস-আশ্রয়ী উপাখ্যান, অনুবাদ ও শিশুতোষ গ্রন্থ রচনায়ও দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। তার রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ : পারিজাত (কাব্য, ১৯১২), আবে হায়াত (গজল গ্রন্থ, ১৯১৪), গরীব কাহিনী (প্রেম-উপাখ্যান, ১৯১৬), বাঁশরী (কাব্য, ১৯১৭), হাসির গল্প (১৯১৭), নিয়ামত (গল্পসঙ্কলন, ১৯১৭), কোহিনূর (কাব্য, ১৯১৯), আলমগীর (উপাখ্যান, ১৯১৯), ভারত সম্রাট বাবর (কিশোরপাঠ্য ইতিহাস, ১৯১৯), সা’দীর কলাম (অনূদিত কাব্যগ্রন্থ, ১৯২৬), আমার সাহিত্য জীবন (আত্মজীবনী, ১৯২৭), সুন্দরবনে ভ্রমণ (১৯২৭), গুলশান (কাব্য, ১৯২৮), গুলি¯ঁÍার বঙ্গানুবাদ (১৯৩৩), বোস্তাঁর বঙ্গানুবাদ (১৯৩৩), কর্মবীর মুন্শী মেহেরুল্লাহ্ (১৯৩৪), শয়তানের সভা (সচিত্র ব্যঙ্গরসাত্মক গদ্যরচনা, ১৯৪৬), ইসলাম ও অন্য ধর্ম (প্রবন্ধ পুস্তক, ১৯৪৯), মরণের পরে (গদ্যগ্রন্থ, ১৯৫৫) ইত্যাদি। তিনি নদীয়া সাহিত্যসভা কর্তৃক ‘সাহিত্যরতœ’ উপাধিতে ভূষিত হন। তার মৃত্যু খুলনায় ৭ মে ১৯৬২ সালে।
তথ্যসূত্র : বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.